1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

গাদ্দাফি পরবর্তী যুগের নারীরা

প্রায় ৪২ বছরের স্বৈরশাসনের পর গাদ্দাফির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের সূচনা হয় লিবিয়ায়৷ এরপর গত তিন বছরে সেখানকার নারীরা চেষ্টা করছেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে৷ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা৷

গাদ্দাফি পরবর্তী লিবিয়াতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনেক নারীই এখন ছোটখাটো ব্যবসা করতে পারছেন, যা আগে কল্পনাই করা যেত না৷ ত্রিপোলিতে এমন নারীদের সংখ্যা বেশি হলেও লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের চিত্রটা এখনও আগের মতোই৷ ধর্মান্ধতা এবং উগ্রপন্থি দলগুলোর আধিপত্যের কারণে নারীরা স্বাধীনভাবে কোনো ব্যবসা করতে পারছেন না সেখানে৷

লিবিয়া বিপ্লবের সাথে যুক্ত ছিলেন মাগডুলেইন আবাইদা৷ লড়াই থেমে যাওয়ার পর ২০১২ সালে নারী অধিকার সংস্থার সাথে কাজ শুরু করেন তিনি৷ বেনগাজি থেকে অন্য জঙ্গি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তিনি প্রচারণা চালাতেন নারী অধিকারের পক্ষে৷

কিন্তু এই প্রচারণা করতে গিয়ে একটি দলের অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি৷ আবাইদা জানান, যে দলটি তাঁকে অপহরণ করেছিল তারা একটি ইসলামি কট্টরপন্থি দলের সদস্য ছিল৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, ঐ দলের সদস্যরা তাঁকে বলেছিল পশ্চিমা ভাবধারা নিয়ে যারা চলবে তাদের বিনষ্ট করা হবে৷

মুক্তির পর আবাইদা যুক্তরাজ্যের কাছে আশ্রয় চাইলে সেখানে ঠাঁই হয় তাঁর৷ তিনি জানান, লিবিয়ায় বিপ্লবের পর নারীদের অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে৷ বিপ্লবের আগে মানুষ রক্ষণশীল ছিল, কিন্তু সমাজব্যবস্থায় সে রক্ষণশীলতার ছাপ ছিল না৷ কিন্তু এখন অবস্থা ভিন্ন৷

তিনি জানান, বিপ্লবের সময় যে সমস্ত যোদ্ধা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাঁদের মনোভাব ছিল এমন যে, নারীরা শুধু যোদ্ধাদের জন্য রান্না করবে৷ এতটুকুই ছিল নারীদের প্রয়োজন৷ এমনকি তাঁদের বাধ্য করা হয়েছিল বিপ্লবে সরাসরি অংশ না নিতে৷

লিবিয়ার একটি আন্তর্জাতিক তহবিলের গবেষণা ব্যবস্থাপক রোলা আব্দুল লতিফ জানালেন, এখনও যেসব নারীরা আইনসহ বিভিন্ন পেশায় আছেন, তাঁদের সবসময় বেশ চাপের মধ্যে থাকতে হয়৷

আবাইদা মনে করেন, নারীদের রাজনীতি এবং নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে সমাজ আজও প্রস্তুত নয়৷ তাই আরো পরিবর্তন দরকার এবং এতে অনেক সময় লাগবে৷

২০১২ সালে ওমনিয়া ইতায়ারি একটি প্রশিক্ষণ ও কনসাল্টেন্সি ফার্ম শুরু করেন, যেখানে নারীদের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও আত্মসচেতনতা বাড়ানোর ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়৷ সম্প্রতি তিনি একটি পরীক্ষা করেছেন৷ তিনি ফেসবুকে তাঁর বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন লিবিয়া গঠনে নারীর ভূমিকা সম্পর্কিত ধারণা চেয়ে৷ কিন্তু এর জবাব যেগুলো পেয়েছেন, তাতে বিস্মিত হয়েছেন তিনি৷ নারী ও পুরুষ উভয়ই পরবর্তী প্রজন্মকে লিবিয়া গঠনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন৷

তিনি জানান, সবাই লিখেছেন, নারীদের ঘরে থাকা উচিত আর পরবর্তীতে দেশ চালাবে এমন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব তাঁদের৷ তবে ইতায়ারি এও মনে করেন, এই সব নারীদের আশেপাশে কোনো সফল নারীর দৃষ্টান্ত নেই৷ আর সে কারণেই হয়ত তাঁরা কোনো উৎসাহ পান না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন