1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গাড়ির মধ্যেই জ্বালানি উৎপাদনের ব্যবস্থা

গাড়ির জন্য বিকল্প জ্বালানির খোঁজ চলছে অনেকদিন ধরে৷ কিন্তু গাড়ির মধ্যেই জ্বালানি উৎপাদন? তাও কি সম্ভব? গাড়ির নিজস্ব উত্তাপ কাজে লাগিয়ে জার্মান বিজ্ঞানীরা ঠিক সে রকম চেষ্টাই চালাচ্ছেন৷

জার্মানির রাস্তায় প্রায় ৬ কোটি গাড়ি চলে৷ তারা বিশাল মাত্রায় উত্তাপও সৃষ্টি করে৷ কারণ পেট্রোলের মধ্যে যে শক্তি রয়েছে, তা তাপে রূপান্তরিত হয়৷ একটা গোটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সারা বছর একই পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন করে৷

জার্মানির ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই উত্তাপ কাজে লাগাতে চান৷ তাঁরা থার্মো ইলেকট্রিক জেনারেটর নিয়ে কাজ করছেন, যা উত্তাপের তারতম্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে৷ ফ্রাইবুর্গ শহরের ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের ড. কিলিয়ান বার্টোলোমে বলেন, ‘‘এটা একটা থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউল, যা দুটি হিট এক্সচেঞ্জার-এর মাঝে বসানো রয়েছে৷ একটি আধারে গরম জল ও অন্যটিতে ঠান্ডা জল ভরে দিলে দেখা যাবে – হিট ফ্লো বা উত্তাপের স্রোত থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউলের মধ্য দিয়ে ঠান্ডা জলের আধারে বয়ে চলেছে৷ এর মাধ্যমে মডিউলের মধ্যে এক ইলেকট্রিক ভোল্টেজ সৃষ্ট়ি হয়৷ ইলেকট্রিক লোডের মাধ্যমে সেটি ব্যবহার করা সম্ভব৷ যেমন এই টর্চ হাতের উত্তাপে চলে৷ সেটি হাতে নিয়ে আমি তার মডিইউলের সারফেস গরম করি৷ ভেতরে একটি ‘হিট সিংক' রয়েছে, যেটি ঠান্ডা হয়ে যায়৷ তখন দেখা যায়, টর্চের এলইডি আলো কী ভাবে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে৷''

থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউলের উপকরণের মধ্যে রয়েছে নানা ধাতুর মিশ্রণ – যেমন বিসমাথ, টেলারিয়াম, অ্যান্টিমনি অথবা ম্যাগনেসিয়াম ও সিলিকন৷ প্রচণ্ড চাপ ও প্রায় ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো উচ্চ তাপমাত্রায় এগুলিকে কমপ্রেস করে কয়েন বা পয়সার মাপে আনা হয়৷

তারপর সেটিকে পালিশ করা হয়৷ এক বিশেষ করাত দিয়ে সামান্য কয়েক মিলিমিটার মাপের কিউব কেটে নেওয়া হয়৷ তার অ্যাসেম্বলি অর্ডার অত্যন্ত উচ্চ মানের৷ ড. বার্টোলোমে বলেন, ‘‘সাধারণত কোনো মেটিরিয়ালের ইলেকট্রিক কনডাক্টিভিটি বাড়ানো হলে, তার থার্মাল কনডাক্টিভিটিও বেড়ে যায়৷ কয়েকটি কৌশলে এই কন্ডাকটিভ কাপলিং আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে যেতে হবে৷ যেমন ইলেকট্রিক কনডাক্টিভিটি আরও বাড়িয়ে থার্মাল কনডাক্টিভিটি কমাতে হবে৷''

এই সব মডিউল বা জেনারেটরের অ্যাসেমব্লির জন্য চাই হাই-প্রিসিশন দক্ষতা ও নিপুণ হাতের প্রয়োজন৷ মডিইউলগুলির গরম ও ঠান্ডা অংশের মধ্যে কয়েক হাজার ডিগ্রির তারতম্য ধারণ করার ক্ষমতা রাখতে হবে৷ এর ফলে যে ভোল্টেজ সৃষ্টি হয়, তার মাত্রা কম হলেও তার স্থায়িত্ব অনেক বেশি – যতক্ষণ তাপমাত্রার ফারাক থাকে, ততক্ষণ৷

গাড়িতে এমন মডিইউল বসানোর আদর্শ জায়গা হলো পিছনের গরম সাইলেন্সর বা এক্সস্ট পাইপ৷ ড. বার্টোলোমে বলেন, ‘‘সাইলেন্সরে থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউল বসানোর সুবিধা হলো, তার মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রা থাকে – ৬, ৭ বা ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ গাড়িতে কুলিং ওয়াটার-ও রয়েছে৷ ফলে সেখানে মডিউলের তাপমাত্রা ৭০, ৮০, ৯০ ডিগ্রি কমানো যায়৷ অর্থাৎ তাপমাত্রার বিশাল তারতম্য রয়েছে, যা থার্মো-ইলেকট্রিক প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো সম্ভব৷''

সাইলেন্সরে বসানো পাত্র গরম হলে থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউলে হিট ফ্লো সৃষ্টি হয়, যা ইলেকট্রিক ভোল্টেজ সৃষ্টি করে৷ এই ভোল্টেজ এসি জেনারেটর বা ডায়নামোর জন্য কাজে লাগানো যায়৷ অথবা ইলেকট্রিক গাড়ির ট্র্যাকের জন্য৷ জার্মানির সব গাড়িতে এমন ব্যবস্থা থাকলে একটা গোটা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমান জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব৷

প্রতিটি গাড়িতে ৬০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব৷ তা দিয়ে ডায়নামোর চাহিদার অনেকটাই পূরণ করা যেতে পারে৷ এর ফলে পেট্রোলের ব্যবহার ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমতে পারে৷ পরিবেশ সংক্রান্ত আইন যেভাবে আরও কড়া করা হচ্ছে, তার ফলে গাড়ি শিল্প হয়তো থার্মো-জেনারেটরের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়