1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গাজা-র সমর্থনে হ্যাশট্যাগ ও এর প্রভাব

গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে দেশে দেশে প্রতিবাদ চলছে৷ এবার হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা৷ বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরাও যোগ দিয়েছেন এই উদ্যোগে৷

ফেসবুকে অনেকেই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে গাজা-র প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন৷ সবাই নিজেদের নাম এবং কোন দেশের নাগরিক বা কোথায় আছেন সেই স্থানটি উল্লেখ করে স্ট্যাটাসে লিখছেন #supportgaza‬ অথবা #FreePalestine অথবা #standwiththepeacefulinhabitantsofgaza‬৷

বাংলাদেশের সংস্কৃতি কর্মী আনুশেহ আনাদিল তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘‘আমি বাংলাদেশের আনুশেহ আনাদিল৷ আমি গাজাকে সমর্থন করছি৷''

অদিতি দে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘‘আমি বাংলাদেশের মেয়ে অদিতি৷ আছি নিউক্যাসলে৷ গাজায় যা হচ্ছে এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত এবং মানবতাবিরোধী৷ আমি চাই ফিলিস্তিন স্বাধীন হোক এবং আমি গাজার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি৷''

রাজীব খাজা লিখেছেন, ‘‘আমি বাংলাদেশ থেকে রাজীব খাজা৷ গাজার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি৷ তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘‘আপনারাও স্ট্যাটাস প্রাইভেসি ওপেন করে এইভাবে স্ট্যাটাস দিন৷ তাহলে ট্রেন্ডিং হিসেবে এইটাই দেখানো হবে৷ শেয়ার করুন৷''

প্যালেস্টাইনের নাগরিক নূর আওয়াদ লিখেছেন,‘‘আমার নাম নূর আওয়াদ৷ আমার বাবার জন্মস্থান জেরুসালেম৷ মা জন্মেছেন ইয়াফাতে৷ আর আমার জন্ম ক্যানাডায়৷ বড় হয়েছি আবুধাবিতে৷ আমি যেখানেই থাকি না কেন আমার পাসপোর্টে একটা নীল চিহ্ন দিয়ে ভিজিটর লেখা৷ তাই ফিলিস্তিনেও আমি নিজের পরিচয়ে যেতে পারি না৷ অথচ আমি ফিলিস্তিনি, আমার জন্ম কোথায় কোথায় বড় হয়েছি এটা কোন বিষয় নয়৷ এটাই আমার মাতৃভূমি৷ তাই আমি আমার জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি৷ আমি চাই সম্মানের সাথে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে৷ একটি স্বাধীন দেশে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে চাই৷''

আওয়াদ #Palestine ও #SupportGaza হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছেন৷

এদিকে, জিয়া হাসান মনে করেন ফেসবুকের চেয়ে টুইটারে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার বেশি কার্যকর৷ নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি লিখেছেন, ‘‘ফেসবুক এবং টুইটারের পার্থক্যটা বোঝা জরুরি৷ টুইটার জিনিসটা পাবলিক ইউজের জন্যে তৈরি করা এবং ফেসবুক জিনিসটা প্রাইভেট আলাপের জন্যে তৈরি করা৷... ফেসবুকে আপনি যেইটা লিখবেন সেইটার ভিজিবিলিটি যদি আপনি ‘পাবলিক' করেও দেন, তবুও সেইটা একটা সুনির্দিষ্ট লোকের কাছে পৌঁছাবে, যারা মূলত আপনার ফ্রেন্ড, সাবস্ক্রাইবার অথবা বেশি হইলে আপনার ফ্রেন্ড এবং সাবস্ক্রাইবারদের ফ্রেন্ড৷ ফেসবুকে যে অ্যালগরিদম ব্যবহার করে সে কারণে সেটা বাকিদের কাছে পৌঁছাবে না৷... তবে টুইটারের বিষয়টা আলাদা৷ টুইটার বিষয়টাই পাবলিক৷ এই জন্যে টুইটার ব্যবহারকারী সাংবাদিকরা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে এই তথ্যগুলো পেতে পারে৷ আপনি যখন টুইটারে একটা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন, সেইটা যখন লক্ষ লক্ষ লোক একই ধরনের হ্যাশট্যাগ দেয়, সেইটা বিভিন্ন ধরনের ট্রেন্ডিং টুলস দিয়ে ধরা পড়বে৷ সেইটা বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকরা ব্যবহার করে৷ সেইটা রাজনীতিবিদরাও লক্ষ্য রাখেন৷''

এ কারণে জিয়া হাসান ফলদায়ক কিছু করতে সবাইকে টুইটারে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ এছাড়া তিনি আরেকটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘...আমি বলি সত্যিকারের একটা কাজ করেন। মার্কিন, ইসরায়েলি কোম্পানিদের কিছু পণ্য বর্জন দিয়ে শুরু করেন। বিশ্বাস করেন, মুসলমান বিশ্ব যদি সচেতনভাবে মার্কিন এবং ইসরায়েলি মালিকানার পণ্য বর্জন করা শুরু করে, তাহলে সত্যিই দেখবেন ইসরায়েলের উপরে কর্পোরেট বিশ্ব এমন চাপ দিছে যে, তারা প্যালেস্টাইনে গণহত্যা বন্ধ করবে৷''

সামহয়্যারইন ব্লগে মাহফুজ খান উইকিপিডিয়ার সাহায্য নিয়ে ইসরায়েলের ইতিহাস সম্পর্কে লিখেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনি ভূখন্ডকে দ্বিখন্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়৷ জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত করার প্রস্তাব পাস করে নিজেদের মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে৷''

এরপর মাহফুজ লেখেন, ‘‘বিশ্বের ৫০টি মুসলিম রাষ্ট্রের ৩০টি দেশ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি৷ অথচ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো আজ নিশ্চুপ৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়