‘গাজায় প্ররোচনার জন্য হামাসই দায়ী′ | বিশ্ব | DW | 15.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মধ্যপ্রাচ্য

‘গাজায় প্ররোচনার জন্য হামাসই দায়ী'

সোমবার গাজায় হিংসাত্মক ঘটনার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের উদ্যোগ বানচাল করে দিলো মার্কিন প্রশাসন৷ গাজায় হামাস গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে হোয়াইট হাউস৷ মঙ্গলবারও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে৷

গাজায় সোমবারের হিংসালীলার নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নিতে চেয়েছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ৷ কিন্তু অ্যামেরিকার আপত্তিতে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে৷ তবে মঙ্গলবারও নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবার কথা৷ মধ্যপ্রাচ্যে জাতিসংঘের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাবেন৷

সোমবার গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালীনইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও দুই হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে৷ ২০১৪ সালের যুদ্ধের পর গাজায় এক দিনে এমন হিংসা দেখা যায়নি৷

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অনুমান, এ দিন প্রায় ৪০,০০০ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল৷ তাদের মধ্যে কিছু মানুষ পাথর ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করলে সৈন্যরাও পালটা পদক্ষেপ নেয় বলে সেনাবাহিনী দাবি করেছে৷ তাদের মতে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বন্দুকবাজদের তিনটি দলও মিশে ছিল৷ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সৈন্যরা আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল৷ তাঁর মতে, সব দেশেরই তার সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে৷

জেরুসালেম শহরে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধে গত প্রায় ৬ সপ্তাহ ধরে সীমান্তে বিক্ষোভ চলছে৷ সোমবার দূতাবাস ভবন উদ্বোধনের দিন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে৷ মঙ্গলবার ‘নকবা' বা বিপর্যয় দিবস উপলক্ষ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ ৭০ বছর আগে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল সৃষ্টির সময়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির ভিটেমাটি হারানাোর ঘটনার স্মৃতি জিইয়ে রাখতে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়৷ 

মার্কিন প্রশাসনএকতরফাভাবে তেল আভিভ থেকে জেরুসালেমে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন৷

শহরের পূর্বাংশের উপর ফিলিস্তিনিদের দাবি নস্যাৎ করে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে প্রবল সমালোচিত হয়েছে৷ তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রাজ শাহ সোমবারের ঘটনায় ফিলিস্তিনি হামাস গোষ্ঠীকে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন৷

অন্যদিকে হামাস নেতা মাহমুদ আল-জাহার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেন৷ ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ধর্মঘট ঘোষণা করেছেন৷ ফিলিস্তিনি নেতা সায়েব এরেকাত বলেন, এই যুদ্ধাপরাধের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার দায়িত্ব বহন করতে হবে৷

তুরস্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকা সোমবারের হিংসার প্রতিবাদে ইসরায়েল থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতদের আপাতত প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি ‘আরও অবর্ণনীয় কষ্ট' এড়াতে সব পক্ষের উদ্দেশ্যে সংযমের ডাক দিয়েছেন৷ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হিংসার তীব্র নিন্দা করেছেন৷ জার্মানিও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষের উদ্দেশ্যে সংযমের ডাক দিয়েছে৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়