1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গাও ইয়ু-র সাত বছরের কারাদণ্ড

সাংবাদিক গাও ইয়ু-কে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়ে বেইজিং সরকার সমালোচকদের কাছে স্পষ্ট করে দিলেন: সমালোচনার ফল কী হতে পারে৷ এ বিষয়ে ডয়চে ভেলের ফিলিফ বিলস্কি-র সংবাদভাষ্য৷

বিগত কয়েক মাসের ঘটনাবলী থেকে অনেকের মনে হয়ে থাকতে পারে যে, চীন সরকার ‘‘গাও ইয়ু-এর মামলায়'' সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি করছেন৷ দু'বার রায় স্থগিত রাখা হয়, চীনের আদালতগুলির পক্ষে যা সচরাচর নয়৷ ‘‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও সিদ্ধান্ত নেননি'' – বিচারক স্বয়ং একটি আলাপচারিতায় জানান৷ আশাবাদীরা তাতে খুশি হয়েছিলেন এই ভেবে যে, দণ্ড সম্ভবত যা আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার চেয়ে কম হতে পারে৷ তবে গাও ইয়ু যে বেকসুর খালাস পাবেন, ততোটা প্রত্যাশা কারো ছিল না৷

৭১ বছর বয়সি সাংবাদিককে গতবছরের এপ্রিল মাসে বেইজিং-এ গ্রেপ্তার করা হয় রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে৷ ঠিক কোন তথ্য গাও ইয়ু ফাঁস করেছেন, গ্রেপ্তারের সময় তার খুঁটিনাটি দেওয়া হয়নি৷ তবে সেটা তথাকথিত ‘‘ডকুমেন্ট নাম্বার নাইন'' হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে৷ দলিলটিতে চীন সরকার পশ্চিমি ধ্যানধারণার প্রভাব সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছেন – যেমন পশ্চিমি সংসদীয় গণতন্ত্র কিংবা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা৷ দলিলটির কিছু কিছু খবরাখবর প্রথমে পশ্চিমের কিছু ওয়েবসাইটে এবং পরে বিভিন্ন চীনা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়৷

এবার রায় বেরিয়েছে: ৭১ বছর বয়সি গাও ইয়ু-কে সাত বছরের জন্য জেলে পাঠানো হচ্ছে৷ গাও ইয়ু যে ‘‘বেআইনিভাবে বিদেশিদের কাছে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন'', আদালত সে অভিযোগ প্রমাণিত বলে ধরে নিচ্ছেন৷ অভিযুক্তের উকিলরা যে সব যুক্তি দেখিয়েছেন, তাকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন গাও ইয়ু-র কৌঁসুলিরা৷ চীনের রাজনীতি সম্পর্কে সমালোচনামূলক মনোভাব যারা পোষণ করেন, তাদের সকলের জন্য এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে৷

Bilsky Philipp Kommentarbild App

ফিলিফ বিলস্কি, ডয়চে ভেলে

বেইজিং বিগত কয়েক মাসে বারংবার সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, যার সর্বাধুনিক নিদর্শন হল পাঁচ জন নারীবাদী আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার: এই মহিলারা বাস এবং মেট্রোয় মেয়েদের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন৷ গ্রেপ্তারকৃতদের পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বটে, তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা করা হতে পারে৷ অথচ নারী অধিকার এমন একটি বিষয়, যা চীনের কমিউনিস্ট পার্টি স্বয়ং তাদের কর্মসূচির অঙ্গ করেছে৷ তবুও: যে কোনো ধরনের প্রতিবাদ অঙ্কুরে বিনষ্ট করাটাই দৃশ্যত সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে৷

আরো অনেক দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে: মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনজীবী পু ঝিকিয়াং-এর গ্রেপ্তার, গতবছরের মে মাসে৷ পু-র বিরুদ্ধে ‘‘শান্তিভঙ্গের প্ররোচনা'' দেওয়ার অভিযোগ ছিল৷ তাঁর মক্কেলদের মধ্যে পড়েন শিল্পী আই ওয়েওয়ে৷ উইগুর বুদ্ধিজীবী ইলহাম তোহতি-র বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বরের রায়ের কথাও স্মরণ করা যেতে পারে: পশ্চিম চীনের শিনচিয়াং প্রদেশের উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুখপাত্র তোহতি-কে মধ্যমপন্থি বলে গণ্য করা হতো৷ এখন তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত৷

গাও য়ু-কে দণ্ডদানও এই প্রক্রিয়ার অঙ্গ৷ সি জিনপিং-এর ‘‘চৈনিক স্বপ্নে'' ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, এমন সব কিছু যথাশীঘ্র দমন করাই দৃশ্যত চীন সরকারের উদ্দেশ্য৷ চীনে সমালোচনামূলক মনোভাবের আর বিশেষ স্থান নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়