1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গলদা চিংড়ি ধরে কে?

গলদা চিংড়িরা ঠিকমতো বংশবৃদ্ধি করছে কিনা, তার উপর সাগরের শৈলশিরার জীববৈচিত্র্য নির্ভর করে৷ মেক্সিকোর ক্যারিবিয়ান উপকূলে জীববিজ্ঞানীরা জলের তলায় খাঁচা পেতে দেখার চেষ্টা করছেন: গলদা চিংড়ি ধরে কে?

‘রাজোনাতুরা' পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনের জীববিজ্ঞানী কিম লেই-কুপার-এর কাজ হলো, পরিবেশের উপর গলদা চিংড়ি ধরার কী প্রভাব পড়ে, সেটা খুঁজে বার করা৷ কিম বলেন, ‘‘গলদা চিংড়িরা আজব জীব! কোনোদিন ভাবিনি যে, আমি নিজে দশ বছর ধরে গলদা চিংড়িদের নিয়ে কাজ করব৷ ওরা যে সামুদ্রিক পরিবেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, সেটা উপলব্ধি করে আশ্চর্য হতে হয়েছে৷ জেলেরা এই গলদা চিংড়ি ধরেই বেঁচে থাকে, কাজেই এটা একটা বহুমুখী প্রকল্প৷''

লেই-কুপার গলদাচিংড়িগুলোর উপর নম্বর লাগান৷ এ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়৷ কেননা গলদা চিংড়িরা বিপুল এলাকা জুড়ে ঘুরে বেড়ায়, সংরক্ষিত এলাকার বাইরেও৷ আবার ধরা পড়লে, তাদের নম্বর দেখে বোঝা যায়, তারা কোন পথ দিয়ে এসেছে আর তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন কোথায়৷

চিংড়ির বংশবৃদ্ধি হলে হাঙরেরও সুবিধে

বহু সামুদ্রিক জীব গলদা চিংড়ি খায়৷ গলদা চিংড়িদের বংশবৃদ্ধি হলে, হাঙর, মান্টা রে ইত্যাদি মাছেরা তা থেকে উপকৃত হয়৷ টোপ ফেলে আর জলের নীচের ক্যামেরা বসিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখতে চান, কোন ধরনের প্রাণীরা এ অঞ্চলে পাওয়া যায়৷ কিম জানালেন, ‘‘হাঙরদের দেখতে পেলেই সবচেয়ে ভালো লাগত, কেননা ওরা খুব ইন্টারেস্টিং৷ এছাড়া ওরা যে খাদ্য-খাদক পরম্পরার অঙ্গ, তা-তে গলদা চিংড়িরাও আছে৷ মা হাঙররা খাঁচার তলায় নেমে গলদা চিংড়ি খায়৷ কাজেই হাঙরদের দেখতে পাওয়ার অর্থ, শৈলশিরার জীববৈচিত্র্য ভালোই আছে; লবস্টার ধরার ফলে রিফ-এর ওপর বিশেষ প্রভাব পড়েনি৷''

জলের তলার ক্যামেরায় বাস্তবিক নানা ধরনের জীবজন্তু ধরা পড়েছে৷ যেমন একটি সামুদ্রিক কচ্ছপ ও কয়েকটি হাঙর৷

মেসোঅ্যামেরিকান রিফটির দৈর্ঘ্য পাক্কা এক হাজার কিলোমিটার৷

চিংড়ি সমবায়

সিয়ান কা'ন বায়োস্ফিয়ারের সংরক্ষিত এলাকায় গলদা চিংড়ি ধরতে গেলে ধীবর সমবায়ের সদস্য হতে হবে৷ এ ধরনের সাতটি সমবায় মিলে চিংড়ি চাষের নিয়মকানুন আর চিংড়ির দাম ঠিক করে৷ একটা গলদা চিংড়ির ওজন এক কিলোর মতো৷ তার জন্য জেলেরা দাম পায় কম-বেশি বারো ইউরো, যা থেকে তাদের ভালোভাবেই সংসার চলে যায়৷ কিম লেই-কুপারের মতো বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, সাগরের পরিবেশ এখানে মন্দ নয়৷ কাজেই সমবায়টি ‘টেকসই' সার্টিফিকেট পেয়েছে৷

কিম লেই-কুপার বললেন, ‘‘সকলেরই আশা থাকে যে, তাদের গবেষণা শুধু বই-এর পাতার মধ্যে সীমিত থাকবে না৷ কাজেই সেটাই তো একটা দারুণ ফলাফল৷ এবং সেই গবেষণা থেকে যদি বাস্তবিক উপকার হয়, জেলেদের সরাসরি উপকার হয়, সেটা তো আরো ভালো৷''

বায়োস্ফিয়ারের সংরক্ষিত এলাকার কাছেই ক্যারিবিয়ানের মেক্সিকান অংশের একাধিক নাম-করা টুরিস্ট স্পট৷

‘চাকাই' চিংড়ি

ধীবর সমবায়ের তরফ থেকে ‘চাকাই' নাম দিয়ে ‘টেকসই' চিংড়ি বিক্রি করা হয়৷ ‘রোজউড' লাক্সারি হোটেলের শেফ হুয়ান পাবলে লোজা সাধারণ গলদা চিংড়ির চেয়ে এই পরিবেশ-বান্ধব চিংড়িই পছন্দ করেন৷ হুয়ান জানালেন, ‘‘মানুষজন এখানে আসেন প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখবার জন্য৷ কাজেই আমাদের সেটাকে শ্রদ্ধা করে চলা উচিত৷ ‘চাকাই' গলদা চিংড়ি হলো এই এলাকার একমাত্র ‘টেকসই' গলদা চিংড়ি৷ এছাড়া ‘চাকাই' চিংড়িগুলো টাটকা আর ওদের কোয়ালিটিও ভালো৷''

আজকের গলদা চিংড়িগুলো যে কোনো অতিথির জন্য নয়৷ লেই-কুপার এ অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি সুরক্ষা সংগঠনগুলির প্রধানদের নিমন্ত্রণ করেছেন৷ তাঁর পরিকল্পনা হলো: আমন্ত্রিতদের ‘টেকসই' গলদা চিংড়ি খাইয়ে তাঁর নিজের প্রকল্পের অর্থায়ন করতে রাজি করা৷ চিংড়ির শূককীট বহুদূর অবধি যায়, কাজেই চিংড়িদের সংখ্যা ঠিক রাখতে আর তাদের পরিবেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও গবেষণা চালাতে হবে ও সংরক্ষিত এলাকা সৃষ্টি করতে হবে৷

কিম জানালেন, ‘‘আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো, আমার ছেলে-মেয়েরা এই আশ্চর্য পরিবেশ দেখতে পাবে৷ আশা করব আমাদের প্রজন্মের মতো তারাও ছোট ছোট চিংড়ি আর সেই সঙ্গে মান্টা রে, স্টিং রে, হাঙর, এই সব সুন্দর জীবদের দেখতে পাবে৷ সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ৷''

তাঁর এই টেকসই প্রকল্পের ওপরেও সেটা নির্ভর করবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়