1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীদের যেন দেখার কেউ নেই

তাঁরা অন্যের মুখে হাসি ফোটান৷ আর তার বিনিময়ে নিজেদের পরিবারে হাসি আনতে চান তাঁরা৷ কিন্তু সেটা সবসময় সম্ভব হয় না আইন না থাকার কারণে৷ এর জন্য কিছুটা হলেও দায়ী ভারতের সাংসদরা৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটেছে তারই প্রতিফলন৷

হয়ত অনেকে বিষয়টি বুঝতে পারলেন না৷ কথা হচ্ছে ভারতের গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীদের নিয়ে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই নারীরা দরিদ্র৷ আর তাই পরিবারে সুখ আনতে নিজেদের গর্ভ ভাড়া দিয়ে থাকেন তাঁরা৷ এই দরিদ্র নারীদের দিয়েই ব্যবসা করে যাচ্ছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও বেসরকারি হাসপাতাল৷ ভারতে গর্ভ ভাড়া বা সারোগেসি বাণিজ্যের বাজার এখন প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার মতো৷ কারণ আইন না থাকা ও খরচ কম হওয়ার কারণে বিদেশি সন্তানহীন দম্পতিরা ভারতে বেছে নেন সন্তান লাভের জন্য৷

কিন্তু এই যে এত টাকার বাণিজ্য হচ্ছে তার খুব সামান্যই পাচ্ছেন গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীরা৷ শুধু তাই নয়, এসব নারীরা দরিদ্র ও অল্পশিক্ষিত হওয়ায় অনেক সময় তাদের না জানিয়েই তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা৷ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে একটি গবেষণায়৷ ভারত ও ডেনমার্কের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় জানা গেছে, কিছু সংখ্যক চিকিৎসক সাফল্য নিশ্চিতের আশায় গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীকে না জানিয়েই তার গর্ভে পাঁচ থেকে ছয়টি ভ্রূণ প্রবেশ করিয়ে থাকেন৷ অথচ চিকিৎসাশাস্ত্র বলছে এটি ঠিক নয়৷ এক্ষেত্রে গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে৷

এই বিষয়গুলোর সমাধান করতে পাঁচ বছর আগে ভারত সরকার কৃত্রিম উপায়ে গর্ভাধান নিয়ন্ত্রণ বা ‘অ্যাসিস্টেট রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি বিল' এর খসড়া তৈরি করেছিল৷ কিন্তু বিলটি এখনো সংসদে পাস হয়নি৷ অথচ সেটা হলে গর্ভ ভাড়া নারীদের জন্য ভালো হতো বলে মনে করেন দিল্লির সাংবাদিক অমৃত ধীলন৷ বিলটি এখনও পাস না করায় তিনি ভারতের সাংসদদের কড়া সমালোচনা করেছেন৷ ধীলনের এই বক্তব্যটি টুইটারে শেয়ার করে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্যাট্রিসিয়া রোক্কো৷

ভারতে গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীদের কেউ কেউ ‘বায়োলজিকাল কুলি' বলে আখ্যায়িত করে থাকেন৷ এভাবে তাঁদের অপমান করা হয় বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক ধীলন৷

ভারতে না জানিয়ে গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীদের গর্ভে অধিক পরিমাণে ভ্রূণ প্রবেশ করানোর বিষয়টির সমালোচনা করে টুইট করেছেন একজন৷

এদিকে, ভারতের মতো নেপালেও একই অবস্থা৷ সেখানেও গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীরা খুব সামান্য অর্থই পেয়ে থাকেন৷ একটি সন্তান পেতে সন্তানহীন দম্পতিরা যত টাকা খরচ করে থাকেন তার হয়তো এক দশমাংশ পেয়ে থাকেন গর্ভ ভাড়া দেয়া নারীরা৷ নেপালের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদকীয়তে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে৷

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়