1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

গভীর সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে

অতি ধীরে, এবং তার তাৎপর্য যে কি, সে-বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন৷ মাত্র কয়েক দশকের পর্যবেক্ষণে তা বলাও সম্ভব নয়৷ তবে আপাতদৃষ্টিতে মানুষের কার্যকলাপের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই৷

Deep sea fish

গভীর সমুদ্রের মাছ

গভীর সমুদ্র বলতে সাগরের দুই কিলোমিটার গভীরত্বে অথবা তারও নীচে৷ কিন্তু পৃথিবীর সমুদ্রাঞ্চলের প্রায় পঞ্চাশ ভাগই এই গভীরতায়৷ এবং আমাদের গ্রহের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে এই নীরব, হিমশীতল জলভাগের গুরুত্ব অসীম৷

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইআরও'র বিজ্ঞানীরা বলছেন, গভীর সমুদ্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে চলেছে, এবং তার মধ্যে সবচেয়ে লক্ষণীয় হল সমুদ্রের গভীরতম স্তরগুলির তাপমাত্রা বৃদ্ধি৷ এ'ধরণের সর্বাধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে দক্ষিণ মেরু এবং উত্তর অতলান্তিকের কাছ থেকে৷

ঐ দু'টি এলাকাতেই অতি ঠাণ্ডা, লবণাক্ত জল ওপর থেকে নীচে নেমে আসে - যার ফলে ভূগোলক জুড়ে সামুদ্রিক প্রবাহগুলির সৃষ্টি হয়, এবং সেই সামুদ্রিক প্রবাহগুলিই আবার আমাদের জলবায়ু নির্ধারণ করে৷ যেমন ঐ সামুদ্রিক প্রবাহ ব্যতীত উত্তর ইউরোপে এরকম বাসযোগ্য পরিবেশ সম্ভব ছিল না৷

Coral Sea

গভীর সমুদ্রে ডুবুরি

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সামুদ্রিক এবং বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ মেরুর মাঝে দক্ষিণ সমুদ্রের তাপমাত্রা প্রতি দশ বছরে এক ডিগ্রী সেলসিয়াসের একশো ভাগের তিন ভাগ করে বাড়ছে৷ প্রথমে তা খুব বেশী না মনে হতে পারে৷ কিন্তু অন্যভাবে ভাবতে গেলে, মানবজাতি যে হারে জ্বালানী ব্যবহার করে, তার প্রায় তিনগুণ পরিমাণ শক্তি সমুদ্রগুলি শুষে নিচ্ছে: ধরা যাক প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে একটি করে হিরোশিমা বোমা! আসলে সমুদ্রগুলি হল এক ধরণের কার্বন ‘‘সিঙ্ক'', যেখানে প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইড ধরা থাকে৷ মানুষের গতিবিধির ফলে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড সৃষ্টি হয়, সাগর তার প্রায় এক-চতুর্থাংশ শুষে নেয়৷ আকাশে-বাতাসে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড আছে, পৃথিবীর সমুদ্রগুলিতে তার প্রায় ৫০ গুণ ধরা আছে৷ মানুষ প্রতিবছর প্রায় ছয় বিলিয়ন টন কার্বন ছাড়ে৷ সে তুলনায় সাগরে ধরা আছে ৩৮ থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন টন৷

সবচেয়ে বড় কথা, বর্তমানে পৃথিবীর সমুদ্রগুলি এখনও কার্বন শুষে চলেছে৷ কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ঠিক সেটাই বদলাতে পারে৷ সেই সঙ্গে থাকবে সামুদ্রিক প্রবাহগুলির পরিবর্তন৷ প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে সাগরের জলে পুষ্টিরও পরিবর্তন ঘটবে৷ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এই পরিবর্তন?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরো পর্যবেক্ষণ চাই, আরো তথ্য চাই৷ আপাতত আমরা গভীর সমুদ্র সম্পর্কে যা জানি, তার চেয়ে মঙ্গলগ্রহ সম্পর্কে আমাদের ধারণা বেশী৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা. রিয়াজুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়