1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

গবাদি পশু বেচাকেনায় নতুন বিধি, বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ

পশু নির্যাতন নিবারণ বিধিতে গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রের পরিবেশ মন্ত্রনালয় যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ৷

প্রতিবাদকারীরা বলছেন, এটি সংবিধান নির্দেশিত বহুত্ববাদের খেলাপ, গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ৷

জবাই করার জন্য গবাদি পশু বেচাকেনা নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার বিরুদ্ধে বিশেষ করে ‘অ-বিজেপি' রাজ্যগুলি একযোগে গলা মিলিয়ে আওয়াজ তুলেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে, পশু ক্লেশ নিবারণের ছদ্মবেশে এটা কি হিন্দুত্ববাদী গৈরিক পার্টির অসহিষ্ণুতার নতুন চেহারা ? সাম্প্রদায়িক এবং বিভেদকামী শক্তির নগ্ন রুপ? নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একমাত্র চাষাবাদ ছাডা অন্য কোনো কাজে গবাদি পশুর বেচাকেনা বন্ধ৷ বন্ধ গবাদি পশুর বাজার, মেলা৷ এক কথায়, গো-মাংস খেতে গবাদি পশু জবাই করা যাবে না৷ কথা হচ্ছে, কিভাবে জানা যাবে   গবাদি পশু চাষাবাদের কাজে বেচাকেনা হচ্ছে ? এই মর্মে লিখিত হলফনামা দিতে হবে যে, চাষাবাদের কাজে কেনাবেচা হচ্ছে, জবাই করার জন্য নয়৷ ফলে কসাইখানাগুলিও বন্ধ হয়ে যাবে৷ মার খাবে দেশের গো-মাংস রপ্তানি বাণিজ্য৷ গরু, মহিষের মাংসের বাজার প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার মতো৷ এছাড়া মার খাবে দেশের চর্ম শিল্প. মার খাবে গোয়ালারাও৷ যেসব গবাদি পশু দুধ দেওয়া বন্ধ করেছে, তাদের ভরণপোষণ চালিয়ে যেতে হবে গরিব দুধ ব্যবসায়ীদের৷

অডিও শুনুন 02:16

‘মানুষের খাওয়া-পরায় হস্তক্ষেপ করা মানে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা, সংবিধান তা বরদাস্ত করে না’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তাই মুখের উপর বলে দিয়েছেন, এই নিয়ম রাজ্যে বলবৎ করা হবে না৷ কেন্দ্রের মোদী সরকার সংবিধান প্রদত্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরোয়া না করে রাজ্যগুলির সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করে একতরফাভাবে এই ধরণের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে না৷ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিলে রাজ্যের তৃণমূল সরকার প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টেও যাবে৷

একই কথার রেশ টেনে তৃণমূল সাংসদ সুলতান আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘গো-মাংস খাওয়া আমাদের দেশে নতুন নয়৷ মানুষের খাওয়া-পরায় হস্তক্ষেপ করা মানে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা৷ দেশের সংবিধান তা বরদাস্ত করে না৷ এটা কেন্দ্রের মোদী সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত৷ রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল৷ পশ্চিমবঙ্গের মতো কেরালা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিও কেন্দ্রের এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখান করেছে৷ এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে মুসলিম, খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মুখের খাবার ছিনিয়ে নেওয়া হবে৷  এটা মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কী? আর নির্যাতনের কথা যদি বলেন, তাহলে রাস্তায় রাস্তায় যেসব গবাদি পশু চরে বেড়ায়, নোংরা আবর্জনা, প্লাস্টিক ইত্যাদি খেয়ে মারা যায়, সেটাকে কী বলবেন ?''

একই কথা বলেছেন বাম-শাসিত রাজ্য কেরালা৷ মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিয়ে এর বিহিত করার ডাক দিয়েছেন৷ তিনিও মনে করেন, মোদী সরকারের এই নির্দেশিকা অগণতান্ত্রিক, অনৈতিক, জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ এবং দেশের বহুত্ববাদের খেলাপ৷

উল্লসিত হয়েছে তথাকথিত গো-রক্ষক বাহিনী এবং হিন্দুত্ববাদী সংঘ পরিবার৷ হিন্দুদের গরু পবিত্র মাতা এবং সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু৷ বিশেষ করে ২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পর৷ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কসাইখানা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ বেশ কয়েক জন গরু ব্যবায়ী গণপিটুনিতে মারাও যান৷ 

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়