1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ‘অপব্যবহারের' দায়ে ব্লগারের কারাদণ্ড

মাত্র আধাবেলা শুনানি শেষে এক ব্লগারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভিয়েতনামের একটি আদালত৷ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ‘অপব্যবহারের' দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় তুরুং দু নাথকে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে৷

নাথের আইনজীবী ট্রান ভ্যু হাই জানান, আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন তুরুং দু নাথ৷ কিন্তু ভিয়েতনামের ‘পেনাল কোড' বা দণ্ডবিধির ২৫৮ ধারায় ঐ ব্লগারকে অভিযুক্ত করা হয়৷ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী কিছু করা হলে এই ধারায় বিচার করা হয়৷ এই বিষয়ে হাই বলেন, ‘‘আমি প্রসিকিউশনের কাছে রাষ্ট্রের স্বার্থ বলতে কি বোঝানো হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলাম৷ তাঁরা উত্তরে বলেছেন, নাথের ব্লগে কমিউনিস্ট পার্টি তথা ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তি এবং নিয়মনীতিকে বিকৃত করা হয়েছে৷''

হাই অবশ্য জানান, ভিয়েতনামের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং জনগণের জন্যই রাষ্ট্র৷ সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির স্বার্থের কথা কিছু বলা হয়নি৷ তিনি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সেদেশের প্রেসিডেন্টের কাছে আপিল করা হবে বলে জানান৷

গত মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় নাথের বয়স ছিল ৪৯ বছর৷ ‘আরেক দৃষ্টিকোণ' শীর্ষক তাঁর ব্লগে ভিয়েতনামের শীর্ষ নেতাদের সমালোচনামূলক বেশ কয়েকটি নিবন্ধ রয়েছে৷

ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুইয়েন তান ডুং এবং কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান নুইয়েন ফু ত্রং-এর পদত্যাগ দাবি করে ব্লগে এক নিবন্ধ প্রকাশের পরপরই গ্রেপ্তার হন তিনি৷ ডানাং-এর বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ৷

Vietnam Blogger Pham Viet Dao Archiv 2012

ভিয়েতনামের ব্লগার ফাম ভিয়েত দাও-কেও গ্রেপ্তার করা হয়

২০১১ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে পুরোপুরি ব্লগার হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর আলোচনায় আসেন নাথ৷ গত মঙ্গলবার আদালতে যখন তাঁর বিচার চলছিল, তখন তাঁর মুক্তির দাবিতে অনলাইনে বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করেন অ্যাক্টিভিস্টরা৷ এছাড়া নাথের সমর্থনে ডানাং-এর আদালত প্রাঙ্গনেও হাজির হন অনেক সাংবাদিক৷

মে নাম নামে ব্লগ লেখা এক ব্লগার জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ-কে বলেন, ‘‘শুনানি চলাকালে অসংখ্য পুলিশ আদালত চত্বর ঘিরে রেখেছিল৷ নাথের স্ত্রী এবং সন্তানদের ছাড়া অন্য কাউকে বিচারকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি৷''

এই নারী ব্লগার বলেন, ‘‘যাঁরা ব্লগ কিংবা ফেসবুকে সরকারের নীতি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের সমালোচনা করেন, তাঁদের জন্য নাথের শাস্তি এক সতর্ক বার্তা৷''

প্রসঙ্গত, ভিয়েতনামে প্রচলিত ‘আর্টিকেল ২৫৮'-কে ‘অস্পষ্ট বিধান' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা মনে করে, বিধানটির মাধ্যমে কার্যত শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের সমালোচনাকারীদের নিয়মিত বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে৷ এধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে ভিয়েতনাম সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়৷

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে ভিয়েতনামে অনলাইনে সরকারের সমালোচনামূলক লেখালেখি বেড়ে গেছে৷ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ভিয়েতনামে আর্থিক মন্দা দেখা দেওয়ায় এসব লেখালিখে বেড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ব্লগাররা এই মন্দার পেছনে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নুইয়েন তান ডুং-এর স্বজনপ্রীতি এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন৷ তবে প্রধানমন্ত্রী এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷

এআই/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়