1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গণতন্ত্র আন্দোলনকারীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড মিশরে

সোমবার কায়রোর একটি আদালত বিশিষ্ট গণতন্ত্র আন্দোলনকারী আলা আবদেল-ফাতাহ'কে বেআইনি বিক্ষোভ আয়োজনের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই রায়কে বলেছে ‘‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক''৷

অস্থায়ী আদালতের অধিবেশন বসেছিল একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে৷ আলা আবদেল-ফাতাহ ও মামলার অপর আসামী আহমেদ আবদেল-রহমানকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন বিচারক হাসান ফরিদ৷ আরো ২২ জন অভিযুক্তকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রণীত বিক্ষোভ আইন ভঙ্গ করার অভিযোগ ছিল৷

ঐ বিতর্কিত আইন অনুযায়ী, বিক্ষোভের উদ্যোক্তাদের পুলিশকে তিনদিনের নোটিস দিতে হবে৷ অপরদিকে পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে পারবে৷ সমালোচকদের মতে সরকার এই আইনের বলে ভিন্নমতাবলম্বীদের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন৷ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই আইনের প্রয়োজন৷

আবদেল-ফাতাহ ও তাঁর সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় তাঁরা ‘‘সামরিক শাসনের পতন ঘটুক'' ধ্বনি দেন৷ অভিযুক্তদের যখন আদালতকক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন উপস্থিত দর্শকরা করতালি দিয়ে তাঁদের সম্বর্ধনা জানান৷

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মিশরীয় সংসদের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ ঘটে, যার উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক ব্যক্তিদের সামরিক বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো৷ এই বিক্ষোভের ঠিক দু'দিন পরে আবদেল-ফাতাহকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

পুলিশ কিছুক্ষণের মধ্যেই জলের কামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ঐ বিক্ষোভ সমাবেশ ভেঙে দেয়৷ মহিলা আন্দোলনকারীরা পরে বলেন যে, জেল ফাটকে তাদের যৌনভাবে উত্যক্ত করা হয়েছে এবং পরে একটি ফাঁকা রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷

বাকি আন্দোলনকারীরা পরে বলেছেন যে, আবদেল-ফাতাহ'র ঐ বিক্ষোভের সঙ্গে কোনো যোগ ছিল না; একজন বেসামরিক ব্যক্তি মহিলা আন্দোলনকারীদের উত্যক্ত করছে দেখে তিনি বাধা দিতে যান৷ ‘নো মিলিটারি ট্রায়ালস' গোষ্ঠীর সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা তদন্তকারীদের বলেছেন: তাঁরাই বিক্ষোভের উদ্যোগ করেন, আবদেল-ফাতাহ নন৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও গত জুন মাসে আবদেল-ফাতাহ ও তাঁর সহ-অভিযুক্তকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়: সে রায়ও আবার ঘোষণা করা হয়েছিল অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে, কেননা বিচারক চূড়ান্ত অধিবেশনে অভিযুক্তদের ভিতরে ঢুকতে দেননি৷

আদত বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীনই আলা আবদেল-ফাতাহ'র পিতা এবং আসামী পক্ষের উকিল, বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী আহমেদ সাইফ আল-ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন যে, মিশর ‘‘ইংলিশ ঔপনিবেশিকবাদ যাবৎ'' তীব্রতম দমননীতি দেখছে৷ গত আগস্ট মাসে সাইফ আল-ইসলাম হার্ট সার্জারির সময় পরলোকগমন করেন৷

অক্টোবর মাসে আবদেল-ফাতাহ'র বোন সানা সাইফ'কেও অপর একটি অননুমোদিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণের দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল৷ এবার দু'জনের মা লাইলা সাইফ আদালত ভবনের অভ্যন্তরে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন৷ কায়রোর সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দুই সন্তানকে ছেড়ে না দেওয়া অবধি তিনি ধর্মঘট করে যাবেন, বলে ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা লাইলা সাইফ৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোমবারেই এই ‘‘নতুন কঠিন দণ্ডের'' নিন্দা করেছে৷ মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র জেন সাকি সাংবাদিকদের বলেছেন: ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে বিশ্বাস করে যে, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করার মাধ্যমে একটি দেশ তার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব আরো জোরদার করে৷''

আবদেল-ফাতাহ এবং অন্যান্যকে এই সর্বাধুনিক দণ্ডদান ‘‘মতপ্রকাশ এবং সভা-সমাবেশ করার দু'টি মুখ্য স্বাধীনতার উপর ভীতিকর প্রভাব'' ফেলবে, বলে সাকি মন্তব্য করেছেন৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন