1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

গণতন্ত্রের মানসকন্যা সু চি কি মুক্তি পাবেন?

অং সান সু চি, তাঁর নামটাই যেন গণতন্ত্রের এক প্রতিমূর্তি৷ গত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই কেটেছে তাঁর আটকাবস্থায়৷ তাঁকে মুক্তি দেওয়ার কথা দিয়েও, দেশের সামরিক জান্তা বেশ কয়েকবারই সেই কথা রাখেনি৷

Myanmar, leader, Aung, San, Suu, Kyi, Arakan, Southeast, Asian, মিয়ানমার, সু চি

২০০২ সালে আরাকানের একটি জন সমাবেশে জনপ্রিয় নেত্রী সু চি (ফাইল ছবি)

আবারও শোনা যাচ্ছে যে আসছে ৭ নভেম্বর নির্বাচনের পরে মুক্তি দেওয়া হবে মিয়ানমারের বিরোধী দলের নেত্রী সু চি-কে৷ দেশের জন্যে দেশের মানুষের জন্যে নিজের ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়েছেন তিনি৷ দেশে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে মৃত্যুপথযাত্রী প্রিয়তম স্বামীকেও শেষ দেখা দেখতে পারেননি৷ দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন তাঁর বাবাও৷ হ্যাঁ বলছি, গণতন্ত্রের প্রতিমূর্তি নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী, মিয়ানমারের বিরোধী দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির নেত্রী অং সান সু চি-র কথা৷

১৯৯০ সালে মিয়ানমারের নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি জয়লাভ করলেও, দেশটির সামরিক শাসকরা তাঁকে দেশের দায়িত্ব নিতে দেয়নি৷ সেই থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে আটক রাখা হয় সু চি কে৷ এখন শোনা যাচ্ছে আসছে ৭ নভেম্বর নির্বাচনের পরে মুক্তি দেওয়া হবে সু চি-কে৷ কিন্তু এই কথার মধ্যে সত্যতা কতোটুকু আছে তা কেউ জানে না৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়া এবং নির্বিঘ্নে নির্বাচন শেষ করার জন্যেই মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা আবারও এই চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছেন৷

সু চির মুক্তি পাবার যে খবরটি শোনা যাচ্ছে তা নিয়ে কথা বলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন এবং মিডিয়া ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ড. গিতিআরা নাসরিনের সঙ্গে৷ তিনি বললেন, ‘‘অনেক মেধাসম্পন্ন এই নারী জীবনের এক তৃতিয়াংশই গৃহবন্দী হয়ে কাটিয়ে দিলেন৷ যিনি ১৯৯০ সালের গণভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন এবং যাঁর প্রধানমন্ত্রী হবার কথা ছিল মিয়ানমারের৷ যিনি সবসময় মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন তিনিই আটক৷ এর চেয়ে বড় ট্রাজেডি আর কী হতে পারে? তিনি যদি মুক্তি পান তাহলে তা সবার জন্যেই হবে আনন্দের৷''

গণতন্ত্রের দাবিতে তাঁর অহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পরিবর্তন আনার চেষ্টার জন্যে ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় তাঁকে৷ বিশ্বের আরেকজন শান্তি সংগ্রামী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মত সু চিও জয় করেন শান্তিতে নোবেল৷ কিন্তু তারপরেও মিয়ানমারের শামরিক শাসকদের কঠোর হাত এবং ঘৃন্য মনোবৃত্তির এতোটুকু পরিবর্তন আসেনি৷ বিশ্ব এবং বিশ্ব নেতাদের চাপের মুখেও, মুক্তি দেবো দেবো করেও, মুক্তি দেয়নি গণতন্ত্রের এই মানসকন্যাকে৷ গড়িয়ে গেছে বছরের পর বছর৷ চলতি বছরের জুন মাসে ৬৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হলো সু চির৷ ভক্তরা তাঁর জন্মবার্ষিকী পালন করলেও তিনি ছিলেন গৃহবন্দি৷

নেতৃত্ব নিয়ে সু চির চিন্তা ভাবনা সম্পর্কে ড. গিতিআরা নাসরিন বললেন, ‘‘নেতৃত্ব নিয়ে ড. সু চির একটি বিখ্যাত সমালোচনা আছে৷ তিনি দেখেছেন, যে, যাঁরা জনগনের নেতা, জনগনের সাথেই তাঁদের যোগাযোগ সবচেয়ে কম৷ এটি তাঁরই কথা, তিনি দুঃখ করে বলেছিলেন৷ আমরা যারা মানুষের মুক্তি চাই, পৃথিবীতে গণতন্ত্র আসুক - সেটা চাই, তাঁদের সবার সামনে তিনি একটা অনেক বড় দৃষ্টান্ত৷ তাঁর একটা বক্তৃতা আছে, ‘ফ্রিডম ফ্রম ফিয়ার'৷ তাঁর একটা লাইন আমার সবসময় মনে হয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতা আমাদের নষ্ট করে না, ভয়ই আমাদের নষ্ট করে৷ তার মানে উনি বলতে চেয়েছেন, ভয়ের জন্যেই আমরা কম্প্রমাইজ করি, নিজেদের ভয় থেকেই আমরা অনেক কিছু মেনে নিই৷ এবং যার ফলেই মুক্তি বাধাগ্রস্থ হয়, গণতন্ত্র বাধাগ্রস্থ হয়৷''

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক