1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

খ্রিস্টান মুসলিম সংঘর্ষের পর থমথমে কায়রো, নিহত ১২

মিশরে শনিবার সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর পর আজ রবিবার মন্ত্রিসভার বিশেষ জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ বিপ্লব পরবর্তী মিশরের পরিস্থিতিতে নতুন এই সংকট দেশের অভ্যন্তরে নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে৷

default

গির্জার ভেতরে ধ্বংসস্তুপ

কোথায় কখন এবং কেন সংঘর্ষ

সংঘর্ষের সূত্রপাত শনিবার৷ কায়রোর একটি নামজাদা কপটিক গির্জায় এক তরুণীকে আটকে রাখা হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে সমস্যার শুরু হয়৷ মিশরে সংখ্যালঘু কপটিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এক তরুণীকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার পর তাঁকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওই গির্জায় আটকে রাখা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের একটি সশস্ত্র দল গির্জায় হামলা চালায়৷ এরপর শুরু হয়ে যায় দু'পক্ষের সংঘর্ষ৷ যথেচ্ছ মলোটভ ককটেল এবং গুলির লড়াইয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এ পর্যন্ত৷

কী বলছে প্রশাসন

সাম্প্রতিক অতীতে কপটিক খ্রিস্টানদের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও মিশরের মুবারক বিরোধী গণজাগরণের পর তেমন সমস্যা বেশ কিছুদিন মাথাচাড়া দেয়নি৷ মিশরের সংবাদসংস্থা ইজিপ্টনিউজের দেওয়া খবরে জানানো হয়েছে, আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী এসাম শরাফ এই পরিস্থিতি সামলাতে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন৷ রবিবারই তাঁর বাহরাইন এবং আরব আমিরাতে সফরে যাওয়ার কথা ছিল৷ সেসব বাতিল করেছেন তিনি৷ কায়রোর সবচেয়ে প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী মেনা কপটিক গির্জার আশপাশের অঞ্চলের খ্রিস্টান বাসিন্দারা বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যেমর কাছে নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ করে বলেছেন, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মহল্লায় হামলা চালানোর পর কোনরকম পুলিশ বা সরকারি সাহায্য তাঁরা পাননি৷ নিজেদের নিরাপত্তার দেখভাল তাঁদের নিজেদেরই করতে হয়েছে৷

Gewalt zwischen Christen und Moslems in Kairo Ägypten Feuer in Kirche Flash-Galerie

সংঘর্ষ চলাকালের দৃশ্য

মিশরের সমাজব্যবস্থায় কী কোন পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী

বিপ্লব পরবর্তী মিশরে এমনিতেই একটা নতুন ধরণের ইতিবাচক মানসিকতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রিয়াশীল বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা৷ যদিও এ ধরণের ধর্মীয় সংঘাত সেই পরিবর্তন থমকে দিতেই পারে৷ আসলে মুবারকের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই মিশরের পুরানো সামাজিক কাঠামোর কিছু খারাপ দিকও মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে ধারণা সমাজ বিশারদদের৷ যদিও শনিবারের সংঘাত থামাতে আধা সামরিক বাহিনী এবং দাঙ্গা পুলিশকে তলব করতে হয়েছিল প্রশাসনকে৷ তবে সংঘর্ষ যারা বাধিয়েছিল তাদের উদ্দেশ্যে গুলি না করে তারা শূণ্যে গুলি চালিয়েই পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়৷ আপাতত, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শরাফ এবং তাঁর মন্ত্রিসভা ঠিক কী ধরণের উদ্যোগ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কায়রো৷

প্রতিবেদন : সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়