1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

খেলার ছলে শেখা

আল্টিমেটাম গেম৷ শুনলে মনে হবে যেন চরমপত্র! আসলে খেলাটায় জিততে হলে, অন্যদের সাহায্য করতে হয়, ন্যায্য ভাগ দিতে হয়৷ ছোটদের এই খেলা খেলিয়ে তাদের ডর্সোল্যাটারাল প্রিফন্টাল কর্টেক্স সম্পর্কে জানা যায়৷

বিভিন্ন বয়সের প্রায় দু'শ ছেলে-মেয়েকে ‘আল্টিমেটাম গেম' খেলানো হচ্ছে৷ এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে তাদের এই খেলা খেলাচ্ছেন মনস্তত্ত্ববিদ নিকোলাউস স্টাইনবাইজ৷ ‘শেয়ারিং', মানে অন্যদের সঙ্গে ভাগবাঁটোয়ারা করে নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করতে চান তিনি৷

ছ'বছর বয়সি রিচার্ডও এই এক্সপেরিমেন্টে অংশ নিচ্ছে৷ এক্সপেরিমেন্ট শেষ হলে সে ভার্চুয়াল কয়েন দিয়ে সে কোনো খেলনা কিনতে পারবে৷ যত বেশি কয়েন হবে, তা দিয়ে তত ভালো খেলনা কিনতে পারা যাবে৷

কম্পিউটারের সামনে বসে রিচার্ডকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তার কয়েনগুলোর মধ্যে কতগুলো কয়েন সে অন্য আরেকজন খেলোয়াড়কে দেবে – যাকে সে চেনেই না৷ মুশকিল এই যে, সেই ভার্চুয়াল খেলোয়াড়টিরও এখানে কিছু বলার আছে৷ রিচার্ডের অফার যদি তার ন্যায্য মনে না হয়, তাহলে সে প্রত্যাখ্যানও করতে পারে৷ কাজেই রিচার্ডকে ভাবতে হবে, কী ধরনের প্রস্তাব অপর খেলোয়াড়টির পক্ষে গ্রহণযোগ্য হবে৷

একটি ছ'বছর বয়সের কিশোরের পক্ষে খুব সোজা কাজ নয়৷ ইতিমধ্যেই সে জানে কোনটা ফেয়ার বা ন্যায্য, আর কোনটা অন্যায্য৷ নিজের জিনিস দিয়ে দিতে তার খুব খারাপ লাগে৷ ড. নিকোলাউস স্টাইনবাইস বলেন, ‘‘আল্টিমেটাম গেমে যারা ভালো ফল করতে চায়, তাদের অন্যদের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি দেখার, যাচাই করার ক্ষমতা থাকা চাই; কল্পনা করতে পারা চাই, অন্যদিকের খেলোয়াড় কী ধরনের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বলে মনে করবে৷ সেইভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে৷''

আট বছরের কনস্টান্টিন কী সিদ্ধান্ত নেবে? বড়রা সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ দিয়ে থাকেন; ৩০ শতাংশের নীচে প্রস্তাব এলে সাধারণত প্রত্যাখ্যান করেন৷ কনস্টানটিন-ও তার অর্ধেক কয়েন শেয়ার করে থাকে৷ সে নিজের সেন্স অফ ফেয়ারনেস উপলব্ধি করতে পারে৷ ন্যায্য অদলবদল হয় যখন উভয় পক্ষই মোটামুটি একই মুনাফা করে৷ তবে ছোট ছেলে-মেয়েরা যত বড় হয়, তত তাদের নিজেদের স্বার্থপরতা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বাড়ে, সব কিছু নিজের কাছে রেখে দেওয়ার প্রবণতা কমে৷

মস্তিষ্কের কোন অংশে এই বিকাশ ঘটে, আল্টিমেটাম গেম খেলানোর মাধ্যমে সেটাই জানার চেষ্টা করছেন নিকোলাউস স্টাইনবাইস৷ ব্রেনের একটি এরিয়া তাঁর নজরে পড়েছে: একটু বড় কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে, তারা যতটা ফেয়ার হবে, ন্যায্য আচরণ করবে, ততই মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট এলাকাটি সক্রিয় হয়৷ ড. নিকোলাউস স্টাইনবাইস জানালেন, ‘‘শিশু-কিশোরদের বিকাশের এই পর্যায়ে ডর্সোল্যাটারাল প্রিফন্টাল কর্টেক্স-টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এটা মস্তিষ্কের সামনের অংশ, কাউকে খুব বুদ্ধিমান বলার সময় আমরা যে জায়গাটা দেখাই৷

মস্তিষ্কের অন্যান্য অনেক ক্ষমতা এই অংশে সম্মিলিত: পরিকল্পনা করা; লক্ষ্য সাধন; প্রবৃত্তি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ৷ মস্তিষ্কের এই অংশগুলো খুব দেরিতে গড়ে ওঠে, যে কারণে আমাদের বিশ্বাস যে, ছেলেবেলায় আমাদের যে সব পরিবর্তন ঘটে, তা মস্তিষ্কের পরিবর্তন হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায়৷

ছোটরা অন্যায্য আচরণ করে না কেননা তারা জানে না, কোনটা ন্যায্য আর কোনটা ন্যায্য নয়৷ সমাজে বাস করে ধীরে ধীরে তাদের মস্তিষ্ক পাকা হয়ে ওঠে৷ অন্য ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে তারা শেখে যে, ন্যায্য আচরণ করে লাভ আছে৷ সকলে মিলে যা করা যায়, একা তা করা যায় না৷ যারা অন্যদের সাহায্য করে, তাদের বন্ধুরাও তাদের সাহায্য করে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক