1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

খুশি ও লাজুক হতে শিখছে রোবট

মানুষের মস্তিষ্কের রহস্য আজও পুরোপুরি জানা যায়নি৷ সেই মস্তিষ্কের কাজ নকল করার চেষ্টা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তার জটিল কাঠামো সম্পর্কে আরো জ্ঞান অর্জন করছেন৷ বিশেষ করে অনুভূতি নকল করা বড় এক চ্যালেঞ্জ৷

Symbolbild menschliche Gehirn (Fotolia/fabioberti.it)

মানুষের মস্তিষ্কের প্রতীকী ছবি

একটি রোবট তার অনুভূতি দেখাতে চায়৷ সে নাকি খুশি হতে পারে, লাজুক হতে পারে৷ রোবটের মধ্যে কি অনুভূতি ও সচেতনতা ভরে দেওয়া সম্ভব? সেই স্বপ্ন বাস্তব করতে হলে বিজ্ঞানীদের প্রয়োজন এমন এক কনট্রোল সেন্টার, যার ভিত্তি হবে মানুষের মস্তিষ্ক৷ অসাধারণ এক প্রকল্পের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কাজকর্ম বোঝা ও কম্পিউটারে তা নকল করার চেষ্টা চলছে৷

মিউনিখের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোইস ক্নল ইউরোপের অন্যান্য বিজ্ঞানীদের মতো মানুষের মস্তিষ্কের রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছেন৷ সেখানকার তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রো. আলোইস ক্নল বলেন, ‘‘হিউম্যান ব্রেন প্রজেক্টের মৌলিক আইডিয়া হলো, স্তন্যপায়ী প্রাণীর মস্তিষ্কের যতটা সম্ভব কাজ এক কম্পিউটারে নকল করা৷ অর্থাৎ সবার আগে জানতে হবে, মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে৷ নিউরন, জৈবিক মস্তিষ্কের অংশগুলি কীভাবে কাজ করে, তারা পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে তথ্য আদানপ্রদান করে, কম্পিউটারের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া কীভাবে নকল করা সম্ভব?''

ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রায় ৭ কোটি নিউরন রয়েছে৷ মানুষের তুলনায় অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও কাঠামোর ক্ষেত্রে মিল রয়েছে৷ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কম জটিল ইঁদুরের মস্তিষ্ক সিমুলেশনের প্রক্রিয়া বেছে নেওয়া হলো৷ সেই মস্তিষ্কের তথ্য কীভাবে কোনো কম্পিউটারে পাঠানো যায়, সেই প্রশ্ন নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে৷ মস্তিষ্ক শরীরের ইন্দ্রিয় থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বায়োলজিকাল কমান্ড বা নির্দেশ সৃষ্টি করে, যা গতির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে৷ এই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে ঘটে?

মানুষের মস্তিষ্কে ১০ হাজার কোটি নিউরন রয়েছে৷ তার নকল করতে হলে চাই বিশাল, শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার৷ মিউনিখের ‘সুপারএমউসি' বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কম্পিউটার৷ তার মধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ প্রসেসর রয়েছে৷ কিন্তু এই কাজের জন্য সেটিও যথেষ্ট বড় নয়৷ প্রো. আলোইস ক্নল বলেন, ‘‘একটি নিউরনের কম্পিউটিং ক্ষমতাকে ভিত্তি হিসেবে ধরলে বলা যেতে পারে, এমন এক কম্পিউটার হয়তো মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতার এক শতাংশের সিকিভাগ ধারণ করতে পারে৷''

মৌলিক পাটিগণিতের ক্ষেত্রে আমরা, মানে মানুষ কোনো পকেট ক্যালকুলেটরের তুলনায় অধম৷ অন্যদিকে চারিপাশের পরিবেশ বুঝতে আমাদের মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগে৷ কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কোনটা নয় – তা চট করে বুঝে ফেলি৷ অথচ তথ্য ও আনফিল্টারড ডেটা সামলাতে গিয়ে কম্পিউটার তার ক্ষমতার সীমায় পৌঁছে যায়৷

তাছাড়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার চালাতে একটা ছোটখাটো শহরের সমপরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়৷ সে তুলনায় সাধারণ লাইট বাল্ব জ্বালানোর জন্য যেটুকু বিদ্যুৎ লাগে, মস্তিষ্কের ঠিক সেটুকুই প্রয়োজন হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়