1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

খুলে গেল বিএনপি অফিস, প্রকাশ্যে এলেন মহাসচিব

দেড় মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর খুলেছে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়৷ সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরো কয়েকজন নেতা৷

গত ২৯শে নভেম্বর মধ্যরাতে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে৷ তিনিই ছিলেন দপ্তরের দায়িত্বে৷ তাই তিনি নিয়মিত দলের কর্মসূচিসহ দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে৷ কিন্তু তিনি আটক হওয়ার পর গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যায়৷ তালা পড়ে মূল গেটে৷ অফিসের পিয়ন পর্যন্ত যায় উধাও হয়ে৷ বাইরে সার্বক্ষণিক পাহারা বসায় পুলিশ৷ সাদা পোশাকে গোয়েন্দারাও থাকেন তত্‍পর৷

এরপরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালউদ্দিন আহমেদ অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তায় কয়েকদিন দলের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন৷ যাঁরা অফিস এড়িয়ে বাসভবনে বা অন্য কোনো স্থান থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তাঁদের অধিকাংশ নেতাই আটক হন৷

কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিএনপির তিনজন সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন এবং শামীমুর রহমান শামীম বিনা বাধায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন৷ এই খবর পেয়ে কারাগারের বাইরে থাকা অন্যান্য নেতারাও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে থাকেন৷ আর দুপুর দেড়টার দিকে আসেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ এর আগে হাইকোর্ট তাঁকে তিনটি মামলায় পুলিশ রিপোর্ট দেয়ার আগ পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন৷ ততক্ষণে সেখানে হাজির হন সাংবাদিকরা৷ মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘দেশটা এখন কারাগারে পরিণত হয়েছে৷ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতাদের মুক্তি দিতে দেরি করা হচ্ছে৷'' তিনি দ্রুত বিএনপি নেতাদের মুক্তি দাবি করেন৷

তিনি বলেন, ‘‘অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ৷ বিরোধী দলের সদস্যরা মন্ত্রী হয়েছেন৷ তবে এই অবৈধ সরকারের কে মন্ত্রী হলো তাতে কিছু যায় আসে না৷'' তাঁর কথায়, ‘‘সরকার অবৈধ হলেও আমরা গণতন্ত্রের স্বার্থে, সবার অংশগ্রণে নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে সংলাপ এবং সমঝোতায় রাজি৷ আমরা তো হাওয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারি না৷''



মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও বেশিক্ষণ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেননি৷ ৫১ দির পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে ১৫ মিনি পরই তিনি বেরিয়ে যান৷

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি জানান, এখন থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগের মতোই দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানো হবে৷ তিনি বলেন, কার্যালয়ের সামনে এখনো পুলিশ আছে৷ তবে তারা তাঁদের কোনো বাধা দিচ্ছেন না৷ গত দেড় মাসে বিএনপি গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন এবং প্রতিহতের কর্মসূচি দিয়েছে, দিয়েছে হরতাল-অবরোধ৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ধারে-কাছেও যেতে পারেনি নেতা-কর্মীরা৷ এমনকি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও ছিলেন অবরুদ্ধ৷ তাঁর গুলশানের বাসার সামনে পুলিশ ছাড়াও বালুর ট্রাক দিয়ে অবরোধ করা হয়েছিল৷ খালেদার বাসার সামনেও অবশ্য এখন আর অবরোধ অথবা পুলিশ নেই৷

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ কখনো তালা দেয়নি৷ তাঁরাই তালা মেরে চাবি নিয়ে গিয়েছিলেন৷ আবার তাঁরাই তালা খুলেছেন৷ এখানে পুলিশের কিছু বলার নেই৷'' তিনি বলেন, ‘‘স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে অতীতে কোনো বাধা ছিল না, এখনো নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না৷ তবে কোনো মামলার পলাতক আসামি যেন বিএনপির কার্যালয়ে না যায়৷'' তবে শুধু বিএনপির কার্যালয় নয়, মামলার পলাতক আসামিরা কোথাও কাম্য নয় বলে জানান যুগ্ম কশিমনার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়