1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

খালেদা জিয়ার বিচার শুরু হলো বিশেষ আদালতে

রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে এক বিশেষ আদালতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিচার শুরু হয়েছে৷ তবে বিচার শুরুর প্রথম দিনই স্বল্প সময় চলেছে আদালত৷

শুধু আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেই প্রথম দিনের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করেন বিচারক৷ ৩৫ মিনিট চলা প্রথম দিনের কার্যক্রমে প্রধান আসামি খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন না৷ বরং তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে হাজিরা দেন৷ বিশেষ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা দু'টি মামলা বিচার কাজ চলবে৷ এর মধ্যে একটি মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসামি৷

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার পক্ষে আমরা মামলা দু'টির বিচারক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছি৷ হাইকোর্টে এই রিটের শুনানি শেষ হয়েছে৷ আগামী ২৫শে মে রিটের আদেশ হবে৷ ফলে উচ্চ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে৷ তাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর বিষয়ে সময়ের আবেদন জানিয়েছি আমরা৷ আদালত আমাদের আবেদন আমলে নিয়ে আগামী ১৯শে জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন নির্ধারণ করেছে৷''

মামলা দু'টির বাদি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পেশ্যাল পিপি মোশারফ হোসেন কাজল আদালতে উপস্থিত ছিলেন৷ মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, ‘‘আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় শুনানির নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন৷''

এর আগে বিচারিক আদালতে মামলা দু'টির অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা রিভিশন আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট৷ এরপর তাঁরা বিচারক নিয়োগের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন৷ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১৯শে মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত৷ এছাড়া চার্জ গঠন করা হয়, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মামলা দু'টির অপর আট আসামির বিরুদ্ধেও৷ ঐ দিন খালেদার উপস্থিতিতে মামলা দু'টির চার্জ শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়৷

২০১১ সালের ৮ই আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ৷ মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট'-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়৷ কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি৷ জমির মালিককে দেয়া ঐ অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে৷ ২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগ-পত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ৷

মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন – খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ-র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান৷ জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন৷ হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক৷

এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন৷ এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এই মামলা দায়ের করা হয়৷ মামলার অপর আসামিরা হলেন – বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান৷ এর মধ্যে তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে আছেন৷ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন৷ তবে শরফুদ্দিন আহমেদ আদালতে হাজির না থাকায় ১৯শে মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত৷ অপর দুই আসামি ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়