1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

খাবার প্লেটে পুষ্টিকর পোকামাকড়

ছোটবেলায় তেলাপোকা, মাকড়সা দেখে ভয় পায়নি, এমন শিশু খুঁজে পাওয়া কঠিন৷ অনেকের তো সেই ভয় কাটেই না৷ কমান্ডো ট্রেনিং-এ জঙ্গলে কাঁকড়াবিছা খাওয়ার কথাও শোনা যায়৷ তবে খাবার প্লেটে পোকামাকড়? ইউরোপে সেই চিন্তাই চলছে৷

‘মিলওয়ার্ম' নাকি বড়ই সুস্বাদু! ফ্রাংকফুর্টের রাঁধুনী কায়া বারিস ক্যানাডায় সেই রান্না শিখেছেন৷ রেড ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁয় এক কোর্সে তা শেখানো হয়৷ গত ৫ বছর ধরে জার্মানদের মুখে সেই স্বাদ তুলে দেবার চেষ্টা করছেন তিনি৷ কায়া বললেন, ‘‘আমরা পোকামাকড় রান্না করি৷ প্রথমে মনে হয়েছিল, জার্মানরা এ সব খাবে না৷ তারা তো পোকামাকড় তেমন চেনেই না৷ তারপর দেখলাম ব্যবসা দিব্যি চলছে৷ বেশ অবাক হলাম৷ এখন এটাই মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে৷''

স্টেক বা কাটলেটের বদলে ‘মিলওয়ার্ম'৷ যারা এই রেস্তোরাঁয় এসে অর্ডার দেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নতুন কিছু চেখে দেখতে চান৷ এই ‘এক্সটিক'-এর প্রতি টানই রেস্তোরাঁর মূলধন৷ তবে নিয়মিত খদ্দের পাওয়া কঠিন৷ তাঁদের বেশিরভাগই একবার মাত্র রকমারি পোকামাকড়ের প্লেট অর্ডার দেন৷

ভবিষ্যতে মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পোকামাকড় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে৷ নেদারল্যান্ডস-এর অধ্যাপক ফান হাউস মনে করেন, আগামী দুই দশকের মধ্যে ইউরোপের মানুষও প্রোটিনে ভরপুর এই খাদ্যের মর্ম বুঝতে পারবেন৷ তিনি বললেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে প্রাণীর খোরাক ও মাংসের অনুপাত খুবই সুবিধাজনক৷ যেমন ঝিঁঝিপোকাকে দুই কিলো খেতে দিলে খাদ্য হিসেবে তাদের নিজেদের ওজন হয় এক কিলো৷

অন্যদিকে গরুকে ২৫ কিলো খেতে দিলে তা থেকে মাত্র এক কিলো মাংস পাওয়া যায়৷ তাই পোকার অনেক সুবিধা রয়েছে৷''

একটা পোকার শরীরের সবটাই খাওয়া চলে৷ অন্যদিকে মুরগি বা শুয়োরের মতো প্রাণীর মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষের খাদ্যের উপযোগী৷ তাই পোকা নিয়ে ভাবনার সময় এসে গেছে৷ তবে খাদ্যাভ্যাস বদলাতে অনেক সময় লাগে৷

অধ্যাপক ফান হাউস পোকা রান্নার আলাদা বইও লিখেছেন৷ তিনি বললেন, ‘‘এটা টেকসই ব্যবস্থা, বেশ পরিবেশবান্ধব, এতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমে – এ সব কথা বলে ইউরোপের ভোক্তাদের বোঝানো সম্ভব৷ তবে আসল কথা হলো, ভালো করে খাবার সাজিয়ে মানুষকে তার স্বাদ দিতে হবে৷''

মাংস-ভাজার বদলে পোকা-পোলাও – মারিয়েকে কালিস এমনটাই আশা করছেন৷ তিনি এই লক্ষ্যে পোকা পালন করেন৷ তিনি বললেন, ‘‘প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা এক পোকা পালন কেন্দ্র চালাচ্ছি৷ বাবা-মা প্রথমে শখের বসে কাজটা শুরু করেছিলেন৷ মায়ের একটা অ্যাকোয়ারিয়াম ছিল, যার জন্য পোকামাকড়ের প্রয়োজন হয়েছিল৷''

মারিয়েকে-র পারিবারিক ফার্ম এখন নেদারল্যান্ডস-এর অন্যতম বড় পোকা-পালন কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ৭০ রকমের পোকা রয়েছে সেখানে৷ তবে পশুর খাদ্য হিসেবে ‘মিলওয়ার্ম' নিয়েই আসল ব্যবসা চলছে৷ সুপারমার্কেটে মানুষের খাবার হিসেবে পোকা বিক্রির স্বপ্নও দেখছেন তাঁরা৷ এখনো এটা পুরোপুরি সম্ভব নয়৷ তিনি বললেন, ‘‘প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই মুহূর্তে বার্গারের মধ্যে পোকা ব্যবহার করা চলে না৷ আইনের পরিভাষায় পোকামাকড় হলো ‘নিউ ফুড'৷''

মারিয়েকে আপাতত মানুষের খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় কাঁচা ও জমাট অবস্থায় বিক্রি করতে পারেন৷ অন্য অনেক পোকা-পালনকারীর সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে এ সংক্রান্ত আইন শিথিল করার পক্ষে সওয়াল করে চলেছেন৷ তাঁর স্বপ্ন হলো, একদিন তিনি বার্গার থেকে শুরু করে অনেক রকম খাদ্য সুপারমার্কেটে বিক্রি করতে পারবেন৷

এটা সম্ভব হলে ইউরোপে দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় তার জায়গা করে নেবে৷ এখনো পর্যন্ত বিরল ‘এক্সটিক' খাদ্য হিসেবেই সীমিত রয়েছে সেগুলি৷ একজন বললেন, অবশ্যই খাওয়া যায়, দারুণ মজার৷ নতুন স্বাদ৷

আরেকটা কথা ভুললে চলবে না৷ পোকা কিন্তু খুবই পুষ্টিকর৷ তাই প্রোটিনের উৎসব হিসেবে মাংস বা দুধের বিকল্প হতে পারে পোকামাকড়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক