1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

খাদ্যশস্য নিয়ে চলছে ফাটকাবাজির খেলা

অক্সফ্যাম ত্রাণ সংগঠন যার নাম দিয়েছে ‘‘ক্ষুধা নিয়ে রুলেট’’৷ অক্সফ্যামের অভিযোগ, বিভিন্ন বড় ব্যাংক ও বীমাসংস্থা খাদ্যপণ্যের দামের ওঠাপড়া নিয়ে ফাটকাবাজির খেলে থাকে, যার ফলে সেই দামের ওঠাপড়া আরো চরমে ওঠে৷

খাদ্যশস্য নিয়ে ফাটকা একটি কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা৷ বিভিন্ন বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে ব্যাংক, হেজ ফান্ড ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানেরা কৃষিজাত কাঁচামালের দামের ওঠাপড়া নিয়ে ফাটকা খেলে থাকে৷ এ জন্য এই সব বিনিয়োগ তহবিলের অংশীদার হওয়া যায়৷ জার্মানিতে এই কৃষিজাত পণ্য সংক্রান্ত ফাটকা বাজারে প্রায় ১১ বিলিয়ন ইউরো খেলছে, যার মধ্যে ছয় বিলিয়নের বেশি বিনিয়োগ একা আলিয়ানৎস বীমা সংস্থার৷

গত সপ্তাহে মিউনিখে ছিল আলিয়ানৎসের শেয়ারহোল্ডার্স মিটিং৷ অক্সফ্যাম সংগঠন সেই হলের বাইরে আলুর বস্তা, লাল শালু আর পিচবোর্ডে রুলেট খেলার চাকা এঁকে প্রতিবাদ জানায় এই ‘‘আলিয়ানৎস ক্যাসিনো''-র বিরুদ্ধে৷ ক্যাসিনো বলতে পশ্চিমি জুয়া খেলার জায়গা, যেখানে রুলেট খেলা গ্রাহকদের বিশেষ প্রিয়৷ রুলেট খেলায় একটি চাকা ঘোরে; দান ফেললে ঘুঁটি গিয়ে শেষমেষ কোন নম্বরে দাঁড়াবে, তা নিয়েই যত উৎসাহ-উত্তেজনা৷ পুরোটাই সাট্টা, পুরোটাই ফাটকা৷

Eine Gruppe Demonstranten der Hilfsorganisation Oxfam demonstriert am 07.05.2013 in München (Bayern) vor der Hauptversammlung des Versicherungsunternehmens Allianz SE mit einem Glücksrad und einem Transparent gegen die Börsenspekulation mit Nahrungsmitteln durch die Allianz. Der Konzern übertraf die Prognosen für 2012 und verdoppelte den Gewinn auf 5,2 Milliarden Euro. Gut lief es vor allem in der wichtigsten Sparte, der Schaden- und Unfallversicherung. Foto: Tobias Hase/dpa

অক্সফ্যামের অভিযোগ, বিভিন্ন বড় ব্যাংক ও বীমাসংস্থা খাদ্যপণ্যের দামের ওঠাপড়া নিয়ে ফাটকাবাজির খেলে থাকে, যার ফলে সেই দামের ওঠাপড়া আরো চরমে ওঠে

‘‘ক্ষুধা নিয়ে রুলেট''

অক্সফ্যাম তাদের একটি সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে এই শীর্ষক দিয়ে: ‘‘ক্ষুধা নিয়ে রুলেট''৷ সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আলিয়ানৎসের মতো বীমা প্রতিষ্ঠান এবং ডয়চে ব্যাংকের মতো ব্যাংকগুলি খাদ্যপণ্যের মূল্যের ওঠাপড়ার উপর পরোক্ষ বাজি ধরার ফলে সেই ওঠাপড়া বেড়ে চলেছে৷ ভবিষ্যতে কোনো নির্দ্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দ্দিষ্ট খাদ্যশস্যের মূল্য কি দাঁড়াবে, সেটা আন্দাজ করে নিয়ে বিনিয়োগ তহবিলের তরফ থেকে সেই খাদ্যশস্য কেনা হয় কিংবা হয় না৷ ফলে সেই খাদ্যশস্যের দাম তুঙ্গে চড়তে পারে কিংবা অতলে নামতে পারে৷ এর সাথে সেই শস্যের বাস্তবিক উৎপাদন কি বিশ্বব্যাপী চাহিদার কোনো সম্পর্ক নেই৷

সব মিলিয়ে সারা বিশ্বে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েই চলেছে৷ উদাহরণস্বরূপ, গত বছর ইথিওপিয়ায় ভুট্টার দানার দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশ; সোমালিয়ায় গমের দাম বেড়েছে ৩০০ শতাংশ, সুদানে ৯০ শতাংশ৷ এবং এই সব দরিদ্র দেশে, যেখানকার মানুষদের আয়ের ৮০ শতাংশ যায় খাবার কিনতে, সেখানে খাদ্যশস্যের দাম কিছুটা বাড়ার মানেই অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি৷ অপরদিকে খাদ্যশস্যের দাম দারুণভাবে পড়ে গেলে চাষিদের অস্তিত্ব নিয়ে টান পড়তে পারে৷

‘ফিউচার্স', অর্থাৎ ভবিষ্যৎ নিয়ে সওদা

আলিয়ানৎসের বক্তব্য হল, তাদের তরফ থেকে বিনিয়োগকারীদের বলা হয়, দাম যখন পড়ছে, তখন কেনো; দাম যখন চড়ছে, তখন বেচো৷ এর ফলে খাদ্যশস্যের দাম খুব বেশি বাড়তে কিংবা পড়তে পারে না৷ তাছাড়া তথাকথিত ‘ফিউচার্স' নিয়ে ব্যবসাতেও কাঁচামাল কেনাবেচা হয় না; কেনাবেচা হয় শুধু তার দামের ওঠাপড়ার ঝুঁকিটা নিয়ে৷ চাষিরা দাম পড়ার বিরুদ্ধে বীমা কেনে; তাদের পণ্যের ক্রেতারা দাম চড়ার বিরুদ্ধে বীমা কেনে৷

বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ আছে৷ একদলের মতে বীমা কোম্পানি কি ব্যাংকদের ফাটকা নয়, খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে পশুর খাদ্যের জন্য কৃষিভূমি চলে যাচ্ছে বলে, কিংবা বায়ো-ফুয়েলের জন্য কৃষিজমি আটকা পড়ছে, সেই কারণে৷ কিন্তু ‘‘ক্ষুধা নিয়ে রুলেটের'' পক্ষে কি বিপক্ষে যতো যুক্তিই থাক না কেন – এবং সেই সঙ্গে যুক্তিতর্ক – জার্মানির কিছু কিছু ব্যাংক ইতিমধ্যেই এই মানুষের অন্ন নিয়ে ফাটকা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে: যেমন বাডেন-ভ্যুর্টেমবের্গ ও বার্লিনের প্রাদেশিক ব্যাংক; কমেরৎস ব্যাংক; ডেকা ব্যাংক৷ কিন্তু অক্সফ্যামের দাবি, শেষমেষ সরকারবর্গকেই এই খাদ্যশস্যের ফাটকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন