1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘খাদের কিনারে জামায়াত, লাভবান হবে বিএনপি’

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন এখন কার্যত আছে কি নেই, তা নিয়ে চলছে বিতর্ক৷ আইনজীবী এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে দুই ধরণের মত দিচ্ছেন৷

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলছেন, হাইকোর্টের আদেশ যেহেতু এখনো স্থগিত হয়নি তাই জামায়াতের নিবন্ধন কার্যত নেই৷

জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই, আপিলের জন্য হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার আবেদন করেন জামায়াতের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক৷ হাইকোর্ট আপিলের জন্য সার্টিফিকেটও দেয়৷ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া মনে করেন, যেহেতু জামায়াত আপিলের অনুমতি পেয়েছে তাই মামলাটি এখনো বিচারাধীন৷ তাই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করার সুযোগ নেই এবং তারা নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবে৷

যদি আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে তাহলে নিবন্ধন বাতিলের প্রশ্ন আসবে৷ জামায়াতের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকও তাই মনে করেন৷

তবে অতিরিক্ত আ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, হাইকোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার পর কার্যত রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন আর নেই৷ জামায়াত তার দলের নামে এবং দাড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না৷ নির্বাচন কমিশনের জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র৷ কারণ হাইকোর্টের রায়ের পর আর জামায়াতের নিবন্ধন নেই৷ তাঁর মতে, কেবল হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেই হবে না ৷ যদি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে অথবা আপিলের রায়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়, তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা৷

তবে আইনি লড়াইয়ে যদি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়, তাহলে কে লাভবান হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আজমেদ বলেন, লাভবান হবে বিএনপি৷ তিনি বলেন, নিবন্ধন বাতিল হলে জামায়াত তার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না৷ কিন্তু জামায়াতের নেতা-কর্মী এবং ভোট তো আর বাতিল হয়ে যাবে না৷

ধারণা করা হয় জাময়াতের শতকরা তিন ভাগ ভোট আছে৷ কোনো কোনো এলাকায় জামায়াত বেশ প্রভাবশালী৷ তাই অধ্যাপক ইমতিয়াজ মনে করেন, এই ভোট বিএনপির ঘরে চলে যাবে৷ কারণ রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক কারণেই তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না৷ আর যে দু-এক জায়গায় জামায়াত প্রভাবশালী সেখানে বিএনপির প্রতীক নিয়েও নির্বাচন করতে পারে জামায়াত৷ মোট কথা লাভ বিএনপিরই৷

তিনি বলেন, জামায়াত ঈদের পর দুই দিনের হরতাল দিয়েছে৷ বিএনপিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কঠোর আন্দোলন শুরু করবে৷ জামায়াত তার অস্বস্তির কারণেই এখন বিএনপির সঙ্গে যে কোনো আন্দোলনে আরো সক্রিয় হবে৷ ফলে রাজনৈতি পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হবে৷ এর ধারাবাহিকতায় সরকার যদি আরো কঠোর হয়, জামায়াতের নিবন্ধন যদি বতিল হয়, আর সরকার যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে, তাহলে তা জামায়াতের জন্য কঠিন পরিস্থিতি হবে৷ নতুন নামে দল হয়ত করতে পারবে৷ কিন্তু তা শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ড এবং কারাবাসের কারণে কতটা সম্ভব হবে বলা মুশকিল৷ তাই বলা চলা জামায়াত এখন খাদের কিনারে৷ তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই বিএনপির৷ বরং বিএনপির লাভই হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক আহমেদ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়