1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভাইরাল ভিডিও

খাঁচার বাঘ আর বনের বাঘ: মুক্তির স্বাদ

অনেকে বলেন, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও ভয়ংকর জীব৷ বাঘ না থাকলে আবার চিড়িয়াখানা কিসের? অন্যদিকে, বন্যেরা বনে শোভে....তিনটি সাইবেরিয়ান বাঘের মুক্তি পাওয়ার এই ভিডিওটি তাই আজও ক্ল্যাসিক৷

ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার ভিডিওটি রিলিজ করে ২০১৪ সালের জুন মাসে৷ সে-যাবৎ ভিডিওটি দেখেছেন প্রায় ৪৩ লাখ মানুষ৷ অথচ কি আছে এই ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে?

রাশিয়ার গহীন পূর্বাঞ্চলের অরণ্য৷ তিনটি বাঘকে ঘুম পাড়ানো অবস্থায় জিপে করে সেখানে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো৷ বাঘ তিনটি খাঁচা থেকে বেরিয়ে চোঁ-চা দৌড় দিয়ে জঙ্গলে মিলিয়ে গেল৷ কেউ হাততালি পর্যন্ত দিল না৷ এই তো ভিডিও৷

এর পর আসে কাহিনি৷ বাঘ তিনটির নাম হল ইলোনা, বরিয়া আর কুজিয়া৷ এরা হল তথাকথিত আমুর টাইগার, আমুর নদীর অববাহিকা অঞ্চলের বাঘ – যাদের আমরা সাইবেরিয়ান টাইগার বলেও জানি৷ বলতে কি, আকার ও আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঘ৷

এদের মায়েরা চোরাশিকারিদের গুলিতে মারা যাওয়ার পর রেঞ্জাররা এদের বাঁচান ও বড় করেন৷ এবার তাদের নিজেদের জগতে, তাদের নিজের পরিবেশে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, একটা আনন্দের উপলক্ষ্য৷ বাঘগুলোকে দেখলে কিন্তু তা মনে হবে না: তারা যেন পালাচ্ছে, কিছু একটা, কোনো একটা কিছু থেকে৷

একজন তো দরজা উঠে যাওয়ার পরও দাঁত দেখিয়ে ফ্যাঁস করছে, যেন বলছে: আমাকে কষ্ট দিলেই আমি কামড়ে দেব! পরে খাঁচা থেকে বেরনোর সময় থাবার এক ঘায়ে ক্যামেরাটিকে উল্টে দিল ব্যাঘ্রপুঙ্গব৷

আরেকজন খাঁচার ভিতরে খড়ের উপর উল্টোদিকে মুখ করে শুয়ে ছিল; উল্টোদিক করেই খাঁচা থেকে বেরিয়ে একবার মুখ ঘুরিয়েই দৌড় – ওরে পালা, এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি পারিস পালা, ঐ লোকগুলো আবার আমাদের ধরে এই গরাদবিহীন অন্ধকার লোহার বাক্সগুলোতে পুরে কে জানে কোথায় নিয়ে যাবার আগেই পালা, যেখানে ঘাস-গাছ-মাটি আছে সেখানে পালা, মানুষগুলো গাড়ির পাশেই দঙ্গল বেঁধে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে, তা দেখুক, তোর ওদের সঙ্গে লড়ে কাজ নেই, ওদের ভয় দেখিয়ে কাজ নেই, তুই পালা,তুই আমুর নদীর বাঘ, তোর এমন প্রতিপত্তি যে এই মানুষগুলো তোকে মারবার জন্যে, তোর নোখ-দাঁত-চামড়া বেচার জন্য আকুল, কিন্তু তুই চাস শুধু মুক্তি, তুই চাস শুধু স্বাধীনতা...

মুক্ত প্রকৃতিতে আমুর বাঘের সংখ্যা তখন ঠিক ৩৬০৷

এসি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন