1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

খরাপীড়িতরা দলে দলে শহরমুখী

উত্তর এবং মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ১৩টি জেলা নিয়ে বুন্দেলখণ্ড এলাকা চিরদিনই খরাপ্রবণ৷ গত ১৩ বছরই প্রকট হয়েছে খরা৷ গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ এবার খরার ছোবলে সর্বস্বান্ত৷ পানীয় জলের জন্য, দুমুঠো অন্নের জন্য শহরমুখী হচ্ছেন তাঁরা৷

উত্তর এবং মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ দলে দলে আস্তানা গেড়েছে দিল্লির মতো শহরে৷ সরকার মুখে সমবেদনা জানালেও কাজে তার প্রতিফলন চোখে পড়ছে না৷

উত্তর ভারতের বুন্দেলখণ্ড এলাকা৷ চারিদিকে ধু ধু করছে ফুটিফাটা মাটি৷ জলশূন্য চাষের জমি৷ খরিফ ও রবি ফসল হয়নি৷ শুকিয়ে গেছে নদীর জল, শুকিয়ে গেছে নলকুপ, কুয়ো৷ মাটির নীচের জলস্তর চলে গেছে আরও নীচে৷ কুঁয়োর ৮০ ফুট নীচে পর্যন্ত জল নেই৷ স্কুলের নলকূপ খারাপ৷ কুয়োতে জল নেই৷ স্কুলের শিক্ষার্থীদের জল তেষ্টায় ছাতি ফেটে যাবার জোগাড়৷ তাই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ বিয়ে ও অন্যসব উত্সব অনুষ্ঠান জলাভাবে বাতিল৷ গরিব চাষি পরিবারের বৌ-ঝিদের সারাদিন কেটে যায় কোথায় জল পাওয়া যাবে তার খোঁজে৷ চির খরাপ্রবণ উত্তরপ্রদেশ-মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড এলাকায় গো-খাদ্যের অভাবে মারা যাচ্ছে গবাদি পশু৷

প্রথমে থালা-বাটি বিক্রি, তারপর গরিব চাষি পরিবারদের চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতে হয়৷ ফসল হয় না, ধার করা টাকা শোধ দিতে পারে না৷ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় চাষিরা৷ চলতি বছরের গত চার মাসে আত্মহত্যা করেছে ১১৭জন কৃষক৷ সরকারি বন্টন ব্যবস্থায় রেশন সময়মতো জোটে না৷ গরিব গরিবার বাধ্য হয়েছে আহারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে৷

অপুষ্টির শিকার হয়েছে শিশুরা৷ দুধ, ডাল তো স্বপ্নের ব্যাপার৷ মাঝে মধ্যে ওয়াটার ট্যাঙ্কারে করে পানীয় জল সাপ্লাই দেওয়া হলেও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং পঞ্চায়েতের কর্তাব্যক্তিরা আগেই তা ছিনিয়ে নেয়৷ গরিব তফশিলি পরিবার পর্যন্ত জলের ট্যাঙ্কার পৌঁছাতে পারে না৷ এই নিয়ে চলে সামাজিক উত্তেজনা৷

এবার বাঁচতে হলে গরিব চাষি পরিবারদের ঘরে তালা দিয়ে দিল্লির মতো বড় বড় শহরে পালানো ছাড়া গতি নেই৷ বৌ-বাচ্চা নিয়ে তাই দলে দলে তাঁরা ছুটে আসছে দিল্লির মতো মহানগরীতে৷ এসে আশ্রয় নিচ্ছে রেলস্টেশনে আর না হয় উড়ানপুল বা ফ্লাইওভারের নীচে৷ এর পেছনেও আছে শোষকদের কালো হাত৷ দিল্লির পরিকাঠামোর কাজে দরকার শ্রমিক৷ তাই ঠিকাদাররা ঐসব অঞ্চলের গরিব পরিবারদের দিল্লিতে নিয়ে আসে শ্রমিকের কাজ দেবে বলে, কারণ, দিল্লিতে অদক্ষ শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরি দৈনিক সাড়ে তিনশ টাকা৷ ঠিকাদাররা তা থেকে কমিশনবাবদ অর্ধেক কেটে নেয়৷ ‘‘তবু তো ডাল রুটি জুটবে৷ এই আশা নিয়েই ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ছুটে এসেছি দিল্লিতে৷ গ্রামে থাকলে অনাহারেই মরতে হতো'' – ডয়চে ভেলেকে বললেন প্রৌঢ় চাষি দম্পতি রামলাল ও ময়না দেবি৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত ঠিকাদারদের দেখা নেই৷

খরা শুধু বুন্দেলখন্ডেই নয়, মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়া ও কর্নাটক রাজ্যের কিছু এলাকাতেও খরা লেগেই আছে৷ প্রশ্ন হলো, জল সঙ্কটের মোকাবিলায় সেচ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ব্যর্থ কেন ?

জল ও জমি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ব্যর্থ কেন ? গতমাসে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীরা বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে৷ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ১০ হাজার জলের ট্যাঙ্কার কেনার জন্য ১১ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সাহায্য চান৷ প্রশ্ন হলো, টাকা খরচ করলেই তার সুফল যে সর্বস্তরে পৌঁছোবে তার নিশ্চয়তা কি আছে? সাবেক কংগ্রেস জোট সরকার বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য ৭ হাজার কোটি টাকার এক প্যাকেজ ঘোষণা করে৷ তাতে বুন্দেলখণ্ড এলাকায় ৭০০ চেক-বাঁধ এবং ২৩৬টি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প নির্মিত হয়৷ কিন্তু নির্মাণে এবং স্থান নির্বাচনে ত্রুটি থাকায় আশানুরূপ সুফল পাওয়া যায়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন