1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

খনিজ সম্পদ নিয়ে জার্মান-আফগান সংলাপ

আফগানিস্তানে অনাবিষ্কৃত, অব্যবহৃত খনিজ সম্পদের কোনো অভাব নেই৷ সেই সম্পদ উদ্ধার করা নিয়ে জার্মান-আফগান আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে৷ কিন্তু আফগানিস্তানে খনিজ শিল্প গড়ে তোলা খুব সহজ কাজ হবে না৷

গত শুক্রবার বার্লিনে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম জার্মান-আফগান খনিজ সম্পদ সংলাপ৷ শুনলে একটু অবাক হতে হয়, কেননা আফগানিস্তান বললে প্রথমে সন্ত্রাসের কথাই মনে পড়ে৷ কিন্তু সন্ত্রাসের পরে আসে শান্তি, শান্তির পর সমৃদ্ধি৷ আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ দেশটিকে সমৃদ্ধি এনে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত৷

আফগান কর্তৃপক্ষ হিসেব করে দেখেছেন যে, দেশে খনিজ সম্পদের পরিমাণ মূল্যের বিচারে দুই দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ইউরো হবে৷ তার মধ্যে রেয়ার আর্থ থেকে শুরু করে লিথিয়াম, লোহা, উলফ্র্যাম, তামা, সিসা, দস্তা, সবই আছে৷ শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে জার্মানির আগ্রহ বিশেষ করে লিথিয়াম ও রেয়ার আর্থের প্রতি, যা কম্পিউটার ও স্মার্টফোন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়৷

কাজেই জার্মানি ইতিমধ্যেই খনিজ সম্পদের ব্যাপারে আফগানিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ সেই সূত্রেই আফগানিস্তানের কয়লা, তেল ও গ্যাস মন্ত্রী ওয়াহিদুল্লাহ শাহরানি ও অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধিদের বার্লিনে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷

Rohstoffe Seltene Erde

মহামূল্যবান রেয়ার আর্থ রয়েছে আফগানিস্তানে

শাহরানি বলেন, আফগানিস্তান তার খনিজ সম্পদ থেকে লাভবান হতে পারে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আফগানিস্তান প্রথমে যে দেশগুলির কথা ভাবে, জার্মানি তাদের মধ্যে অন্যতম৷ শাহরানি বলেন: ‘‘আমরা জার্মানির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা আরো জোরদার করেছি, কেননা জার্মানি খনিজ পদার্থের বৃহত্তম ক্রেতাদের মধ্যে পড়ে৷ জার্মানির কয়েকটি খনিজ উপদেষ্টা সংস্থা ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে সক্রিয়৷''

রূঢ় বাস্তব

একটি সমস্যা হলো, এ সবই ভবিষ্যতের কথা৷ বর্তমানে আফগানিস্তানের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর৷ তবে আগামী দশ বছরের মধ্যে খনিজ শিল্প আফগানিস্তানের জিডিপি-র ৪০ শতাংশ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বলে শাহরানির বিশ্বাস৷ যদিও তার একটি মূল প্রতিবন্ধক হবে দেশব্যাপী ব্যাপক দুর্নীতি৷ কাজেই খনিজ পদার্থ রপ্তানির প্রক্রিয়াটি বিশেষ সাবধানতার সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে, বলে ‘‘আফগান এক্সট্র্যাক্টিভ ইনডাস্ট্রিজ ইনিশিয়েটিভ'' বা আফগান খনিজ শিল্প উদ্যোগ কিংবা ইআইটিআই-এর প্রতিনিধি জারঘোনা রাসার অভিমত৷

রাসা বলেন, ‘‘আফগানিস্তান একটি সংঘাতের এলাকা৷ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যাপ্ত নয়৷ দশটি প্রদেশে বিপুল খনিজ সম্পদ আছে বটে, কিন্তু সেখানে যে সংস্থাগুলি কাজ করছে, সেগুলি আন্তর্জাতিক মানের নয়৷'' যে কারণে ইআইটিআই সরাকরের সঙ্গে একযোগে আরো বেশি স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছে, বলেন রাসা৷

মাত্রাধিক আশাবাদী?

গিসেন শহরের ইয়ুস্টুস লিবিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুগোলের অধ্যাপক আন্ড্রেয়াস ডিটমান কিন্তু রাসার মতো এতটা আশাবাদী নন৷ ডিটমানের মতে, আফগানিস্তানে কি পরিমাণ খনিজ সম্পদ আছে, তা বহু দশক ধরে সকলেরই জানা৷ ওটা কোনো নতুন খবর নয়৷ এছাড়া আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদকে বিপুল ভাবারও কোনো কারণ নেই, কেননা প্রতিবেশি দেশগুলিরও প্রায় সেই পরিমাণ খনিজ সম্পদ রয়েছে৷

Flash-Galerie Seltene Erden Mongolei China

দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ছাড়াও আফগানিস্তানের খনিজ শিল্পের একটি তৃতীয় সমস্যা হলো অবকাঠামোর ঘাটতি

দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ছাড়াও আফগানিস্তানের খনিজ শিল্পের একটি তৃতীয় সমস্যা হলো অবকাঠামোর ঘাটতি, অর্থাৎ খনিজ পণ্য পরিবহণের উপযুক্ত যানবাহন ও রাস্তাঘাট৷ সেই সঙ্গে প্রতিবেশি দেশগুলি দিয়ে ট্রানজিট নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে. যেমন পাকিস্তানের ক্ষেত্রে৷

আইনের কাঠামো

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে আফগানিস্তানের সবচেয়ে আগে যা প্রয়োজন, তা হলো একটি নতুন খনিজ সম্পদ আইন৷ ২০১২ সালেই এই আইনের খসড়া পেশ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রথম খসড়াটি আফগান সংসদে পাস না হওয়ার পর, দ্বিতীয় খসড়াটি গত মে মাস যাবৎ কাবুল সংসদে গৃহীত হবার অপেক্ষায় রয়েছে৷ সাংসদদের একাংশের ভয়, এই পন্থায় দেশের খনিজ সম্পদ বিদেশে সস্তায় বেচা হবে, নিজের খনিজ সম্পদের উপর আফগানিস্তানের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না৷

কিন্তু আইন একবার পাস হলে বিনিয়োগকারীরা আফগানিস্তানের সঙ্গে বহু বিলিয়ন ইউরো মূ্ল্যের চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজি থাকবে৷ এবং সেই বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে শুরু করে আমিরাত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র অথবা ক্যানাডা কিংবা ব্রিটেন, সর্বত্র থেকে আসবে৷ আরো সহজ করে বলতে গেলে, পোল্যান্ড কিংবা তুরস্কই যখন আফগানিস্তানের খনিশিল্পে সহযোগী হতে আগ্রহী, তখন জার্মানিই বা বাদ যায় কি করে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন