1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কয়েকশো মুসলমানকে রক্ষা করছেন এক যাজক

ধর্মীয় সংহিসতা সেন্ট্রাল আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ মানুষকে ছুরি-চাপাতি দিয়ে আহত করা হচ্ছে৷ গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে৷ এই পরিস্থিতিতে এক যাজক সাহস দেখিয়ে এগিয়ে এসেছেন৷ রক্ষা করছেন নির্যাতিত মুসলিমদের৷

default

যাজক সাভিয়ে-আর্নো ফাগবা

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের শহর বোয়ালির এক শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৭০০ ব্যক্তি৷ তাঁরা সবাই মুসলমান৷ অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্যই এই সব মানুষ ক্যাথলিক গির্জা-চত্বরে নির্মিত সাময়িক এক আশ্রয়স্থলে মাথা গুঁজেছেন৷

গির্জার ভবনে তাঁরা বাস করেন ও ঘুমান৷ শুধু রান্নাবান্না করা হয় বাইরে৷ গির্জার যাজক সাভিয়ে-আর্নো ফাগবা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এইসব অসহায় মানুষের দিকে৷

ধর্মীয় সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে এটি ‘এথনিক ক্লিনসিং বা ‘জাতিগত শোধন'

Zentralafrikanische Republik Muslimische Flüchtlinge

আশ্রয় পাওয়া মুসলিম পরিবার

জাতিসংঘ কয়েক মাস ধরেই দেশটিতে গণহত্যার ব্যাপারে সতর্ক করে আসছে৷ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বছর খানেক আগে মুসলিম সেলেকা বিদ্রোহীরা স্বৈরতন্ত্রের অভিযোগ এনে প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া বোসিসেকে ক্ষমতাচ্যুত করে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের অনুগত খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও ‘অ্যান্টি-বালাকা' নামে বিদ্রোহী গ্রুপ তৈরি করে৷ দেশটির উত্তরাঞ্চলে মুসলিম সশস্ত্র যোদ্ধাদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তারা৷ সাধারন মুসলমানরাও সহিসংতার শিকার হয়৷ ঘরবাড়ি ত্যাগ করে পালাত থাকে তারা৷ এদের এক অংশ খ্রিষ্টানদের এক গির্জায় আশ্রয় পেয়েছে৷ এই প্রসঙ্গে যাজক সাভিয়ে-আর্নো ফাগবা বলেন, ‘‘প্রয়োজনের তুলনায় আমি সামান্যই করতে পারি৷ আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও এই কাজটি করতেন৷''

কিন্তু খুব কম মানুষই এক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে৷ যদিও নিরীহ মুসলিমদের রক্ষা করতে এই ধরনের আরো সাহসী পদক্ষেপের প্রয়োজন৷

শেষ মুহূর্তে আত্মরক্ষা

যাজক ফাগবা ও তাঁর এক সহকর্মী শহরে গিয়ে দেখতে পান রাস্তার ধারে ভীতসন্ত্রস্ত মুসলিমদের৷ শেষ মুহূর্তে পালাবার আশা করেন অনেকে৷ তিনি এইসব মানুষকে আশ্বাস দিয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে বলেন৷

এরপর তাঁরা দ্বারে দ্বারে আতঙ্কিত মুসলমান জনগোষ্ঠীকে খুঁজতে চেষ্টা করেন৷ অনেকে ভয়ে জঙ্গলে পালিয়ে গিয়েছেন৷ ‘‘সেখানে গিয়েও কয়েক জনকে আমরা ফিরিয়ে আনি৷ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কয়েকজন তৎপর তরুণ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন৷ ইতোমধ্যে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়েরও কেউ কেউ আমাদের গির্জায় আশ্রয় নিয়েছেন, যাঁরা বিতাড়িত মুসলিমদের পানি ও খাদ্য দিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেছেন'', জানান ফাগবা৷

আশ্রয়দাতার জীবনও ঝুঁকির মুখে

তাঁকেও এখন ভয় দেখানো হচ্ছে৷ একবার তো জীবন নিয়ে কোনরকমে ফিরেছেন তিনি৷ এক রোববার গির্জা কমিউনিটির এক অসুস্থ সদস্যকে দেখতে যাওয়ার সময় ঘটে ঘটনাটি৷ গির্জা চত্বর পার হয়ে রাস্তায় আসা মাত্রই খ্রিষ্টান মিলিশিয়ারা ঘিরে ধরে তাঁর গাড়িটিকে৷

কোনোরকমে গাড়ি থেকে নেমে ফাগবা জিজ্ঞেস করেন৷ ‘‘ঠিক আছে আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা করতে পার৷ আমার মৃত্যুর ভয় নেই৷'' সেই মুহূর্তে তাদের এক নেতা হাজির হয় ও গ্রুপটিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়৷

জীবন রক্ষা পাওয়ায় সাহায্য চালিয়ে যান সাভিয়ে-আর্নো ফাগবা৷ খ্রিষ্টান মিলিশিয়ারা গির্জা-চত্বরে দু'জন মুসলমানকে আহত করার পর আশ্রিতরা আর কারো ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না৷ শুধুমাত্র মানবদরদী সাভিয়ে-আর্নো ফাগবার ওপর কিছুটা ভরসা করতে পারেন এই অসহায় মানুষগুলি৷ তাও পালাবার চিন্তাটা মাথায় থাকে তাঁদের৷ যত শিগগির সম্ভব দেশ ছাড়তে চান তাঁরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন