1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কয়েকটি কারণে আলোচনায় গণজাগরণ মঞ্চ

আবার আলোচনায় গণজাগরণ মঞ্চ৷ কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের লাঠিপেটা, রাজনৈতিক দল গঠনের আভাস – সব মিলিয়ে ব্লগ আর ফেসবুকে মঞ্চ নিয়ে বেশ লেখালেখি হচ্ছে৷

default

গত ডিসেম্বরের ছবি এটি

সামহয়্যার ইন ব্লগে মোহাম্মদ আসাদ আলী ‘গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি' শীর্ষক একটি ব্লগ লিখেছেন৷ সেখানে তিনি গণজাগরণ মঞ্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন৷ তিনি মনে করেন, দুটো কারণে সরকার গণজাগরণ মঞ্চকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছে৷ এর মধ্যে প্রথম কারণটি হচ্ছে, সরকার ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সরকার বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে জনসমর্থন আদায়ের ইচ্ছায় মঞ্চের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে৷ সরকার মনে করছে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করা রাজনৈতিক দলগুলো সামনের দিনগুলোতে আন্দোলন করতে পারে৷ আর তাতে ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশগুলোর সমর্থনও পেতে পারে৷

এই অবস্থায় আন্দোলন সামাল দিতে জনসমর্থন প্রয়োজন৷ আসাদ আলী লিখেছেন, ‘‘...গণজাগরণ মঞ্চের যে ব্লগার শ্রেণিটি সরাসরি ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের পক্ষে জনগণ নেই৷ অপরদিকে এদেরকে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন দেওয়ার কারণেই এই বিশাল জনগোষ্ঠী সরকারের পক্ষেও নেই৷ হয়তবা এই বিবেচনা থেকেই সরকার এই নতুন কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে৷ সরকার আশা করছে যে, গণজাগরণ মঞ্চকে সাহায্য-সহযোগিতা না করলে হয়তবা এই বিরাট জনগোষ্ঠীর সমর্থন সরকারের পক্ষে আসবে৷''

ব্লগার আসাদ আলীর মতে, গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সরকারের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গির দ্বিতীয় কারণটি হলো, মঞ্চের বেশ কজন নেতাকর্মী বাম রাজনীতির সাথে জড়িত বা সমর্থনকারী৷ দেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী বাম রাজনীতির বিরোধী বলে মনে করেন এই ব্লগার৷ সরকারও সেটা অনুধাবন করায় মঞ্চের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে৷

এদিকে আমারব্লগে কাজী ফরিদ লিখেছেন, ‘‘এই মুহূর্তে গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি বলতে চাইলে বলতে হবে বর্তমানে গণজাগরণ মঞ্চ ব্যক্তি কেন্দ্রীক, এবং প্রায় সবারই ধারণা ইমরান এইচ সরকার এখন গণজাগরণের মালিক!'' নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি জানান, ‘‘গণজাগরণ মঞ্চ যখন মানুষের ভালবাসায় সিক্ত আমি তেমনই এক সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করার সুযোগ পাই৷''

তবে হাসান তারেক মনে করেন, অনেক মিথ্যা অপপ্রচার মোকাবিলা করে গণজাগরণ মঞ্চ এখনও সদম্ভে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে৷ যারা মঞ্চকে নানা কালিমায় লিপ্ত করতে চেয়েছিল তারাই আজ কালিমালিপ্ত, কলঙ্কিত৷ ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘জামাত-শিবির-হেফাজত যা পারেনি, দু'একজন তথাকথিত চেতনার ধ্বজাধারীরা তা আবারো ভিন্নভাবে করতে চেষ্টা করে চলেছেন৷ তথাকথিত বিভক্তির কথা বলছেন কেউ কেউ৷ কেউ কেউ তো খুশিতে আত্মহারা! এমন পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত হলেও অনিবার্যই ছিল৷ গণজাগরণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র ছিল, আজো আছে, হয়ত থাকবেও৷''

হাসান তারেক বলেন, ‘‘গণজাগরণ মঞ্চ হলো সকল রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মতের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এক ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম৷ একে ব্যর্থ করা মানে মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইকে ব্যর্থ করা, একে ব্যর্থ করা মানে যুদ্ধাপরাধের ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করা৷ তাই গণজাগরণ আন্দোলনকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না৷ যে-কোনো মূল্যে একে তার বিজয়লক্ষ্যে উপনীত করতেই হবে৷''

এদিকে, গণজাগরণ মঞ্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কিনা এমন আলোচনার প্রেক্ষিতে কৌশিক আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘আমি বরাবর গণজাগরণ মঞ্চকে একটা রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার কথা বলে এসেছি৷ কেনো করেছি? কারণ একটাই, যোগ্যতা থাক বা না থাক - তারা সবাই তরুণ৷ বুইড়া-হাবড়াদের আর রাজনীতিতে দেখতে চাই না৷''

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়