1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কয়লাভর্তি জাহাজ ডুবি: সুন্দরবনে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

মঙ্গলবার রাতে সুন্দরবনের পশুর নদীতে কয়লা বোঝাই একটি জাহাজ ডুবে গেলেও তা উদ্ধারে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় কয়লার বিষাক্ত কেমিকেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে৷

অডিও শুনুন 03:38

‘সরকার যেন সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে চায়’

এতে সুন্দরবন ও তার আশাপাশের এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে৷ এনিয়ে গত একবছরেরও কমসময়ে তেল এবং কয়লাভর্তি চারটি জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটল৷

৫১০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এমভি জিআর রাজ নামের জাহাজটি যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে মঙ্গলবার রাতে সুন্দরবনের পশুর নদীতে ডুবে যায়৷ ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লাবোঝাই জাহাজটি এসেছে৷ জাহাজ ডুবির পর বন বিভাগের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছে৷

তবে উদ্ধারকাজের কোনো খবর নেই৷ ডুবে যাওয়া জাহাজটি বর্তমানে ১৪ ফুট পানির নীচে অবস্থান করছে৷ জাহাজটির মালিক দিল খান বুধবার জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি৷

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘‘আমি নিজে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি৷ বন্দরের নিয়ম অনুয়ায়ী ডুবে যাওয়া জাহাজ তার মালিককেই উদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়৷ সে হিসাবে ডুবে যাওয়া জাহাজটি তুলে নেওয়ার জন্য তাদেরকেই সুযোগ দেওয়া হবে৷ সেক্ষেত্রে তারা ৩০ দিন পর্যন্ত সময় পাবেন৷''

মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুৎফুর রহমান জানান, ‘‘বন বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়েরের পর কার্গো মাস্টার বুলু কাজীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে৷''

এদিকে এখনো উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা৷ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাপা'র মুখপাত্র ইকবাল হাবিব ডয়চে ভেলকে জানান, ‘‘কয়লাবাহী জাহাজ ডুবি সুন্দরবনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করবে৷ কয়লার সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি সুন্দরবনের পানি, জীব ও বায়ুমন্ডলকে দূষিত করবে৷ আর ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস সুন্দরবনের শ্বাসমূল উদ্ভিদ ও মাছের প্রজননের ক্ষতি করবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘একের পর এক তেল এবং কয়লাবাহী জাহাজডুবি এবং তাদের চলাচল সুন্দরবনকে বিপন্ন করে তুলছে৷ তাই আমরা ওই এলাকায় শিল্প স্থাপন এবং জাহাজ চলাচলের বিরোধিতা করে আসছি৷ সরকার কান দিচ্ছেনা৷ তারা যেন সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে চায়৷''

এর আগে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমভি ওটি সাউদার্ন স্টার সেভেন ডুবে যায়৷ চলতি বছরের ৩ মে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীতে ডুবে যায় সার বোঝাই কার্গো জাহাজ এমবি জাবালে নূর৷ ১১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের শরণখোলার রেঞ্জের ভোলা নদীতে ডুবতে-ডুবতে অন্য কার্গোর সহায়তায় মংলায় পৌছাতে সক্ষম হয় অন্য একটি কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ৷

আপনি কিছু বলতে চাইলে নীচের মন্তব্যের ঘরে লিখুন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও