1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌ক্ষুব্ধ মানুষ আর তৎপর বিরোধীরা

ভারতে ৫০০, ১০০০ টাকার পুরনো নোট বাতিল হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়৷ এতে করে ক্রমশই অধৈর্য হচ্ছে মানুষ৷ চলছে প্রতিবাদ, মিছিল৷ আর তাঁদের ক্ষোভ কাজে লাগাতে তৎপর বিরোধীরা৷

কার্যত রাতারাতি ভারতে বাতিল করা হয়েছে ৫০০ এবং হাজার টাকার নোট৷ কিন্তু বিকল্প ৫০০ এবং ২০০০ টাকার নোটের জোগান যথেষ্ট রাখা হয়নি৷ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক যদিও বলছে, ব্যাংকগুলোকে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে৷ কিন্তু নতুন ৫০০ টাকা, এমনকি ১০০ টাকার নোটও ব্যাংক থেকে বদলে নেওয়া যাচ্ছে না৷ উল্টে টাকা তোলার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে৷ শনি-রবি, সপ্তাহশেষের দু'টি ছুটির দিন পুরো সময় ব্যাংক খোলা রেখেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি৷ সারা দেশেই ব্যাংকের দরজায় লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে৷ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে করতে৷ বিশেষত বয়স্ক মানুষেরা৷ কিন্তু তাঁদের জন্যে কোনো আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়নি৷ ব্যাংক থেকে টাকা তুললে একরকম জোর করে গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে ২০০০ টাকার নোট, কিন্তু বাজারে খুচরো টাকা যথেষ্ট নেই৷ ওদিকে টাকা বাতিলের ঘোষণার দিন থেকেই বন্ধ হয়ে আছে এটিএম, সারা দেশজুড়ে৷ ফলে নিতান্ত জরুরি প্রয়োজনেও লোকে টাকা তুলতে পারছেন না৷

সব মিলিয়ে চূড়ান্ত অসুবিধেয় পড়েছেন সাধারণ মানুষ৷ কার্যত কপর্দকহীন হয়ে পড়েছেন বিদেশিরা, যাঁরা ভারতে এসেছিলেন বেড়াতে, অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনে৷ এঁদের মধ্যে এক বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে আসা অসুস্থ মানুষজন ও তাঁদের আত্মীয়রা, যাঁরা সারা বছরই নিয়মিত কলকাতায় ও ভারতের অন্যত্র আসেন চিকিৎসার জন্য৷ বড় হাসপাতালে ক্রেডিট কার্ডে খরচ মিটিয়ে দেওয়া যাচ্ছে, কিন্তু থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাতে এঁদের প্রাণান্ত হচ্ছে৷ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে দালালচক্র, যারা মোটা টাকা কমিশনের বিনিময়ে ৫০০, ১০০০ টাকার নোট খুচরো টাকায় বদলে দিচ্ছে৷ গত কয়েকদিনে কলকাতা শহরে এরকম একাধিক বাংলাদেশি পরিবারকে দেখা গেছে, যারা কার্যত পথে বসেছে৷ চিকিৎসা মাঝপথেই বন্ধ রেখে, এঁরা এখন কোনোমতে দেশে ফিরে যেতে পারলে বাঁচেন৷ যেমন চূড়ান্ত অসুবিধেয় পড়েছেন পেনশনভোগীরা, যাঁরা মাসের শুরুতে পেনশনের টাকা তুলেছেন, সবই ১০০০ অথবা ৫০০ টাকার নোটে, কিন্তু এখন দিন চালাতে দিশেহারা৷ তার ওপর ব্যাংকের অব্যবস্থা, বন্ধ এটিএম, ক্রমশই ধৈর্য হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ৷ বিক্ষিপ্ত হাঙ্গামা, অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে৷

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি তৎপর হয়ে উঠেছে মানুষের এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে৷ সংসদের ভেতরেও সরকারের এই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাকে ‘‌জনবিরোধী'‌ বলে চিহ্নিত করছে বিরোধীরা৷ এবং তাদের এই সম্মিলিত উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ তিনি বলেছেন, দরকার হলে চিরশত্রু বামপন্থি দলগুলিকেও সঙ্গে নেবেন এই আন্দোলনে৷ কিন্তু দেশজুড়ে বিক্ষোভ, আন্দোলন গড়ে তুলবেন কেন্দ্রীয় সরকারের এই আকস্মিক এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, যা অসংখ্য মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়েছে৷ এরপরেও অবশ্য মোদী তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়৷

ওদিকে ফুঁসছেন মুলায়ম সিং যাদব এবং মায়াবতীও৷ কারণ উত্তরপ্রদেশে সামনেই ভোট৷ আন্দাজ করাই যায় যে ভোটের খরচ তুলতে নানা সূত্রে প্রচুর টাকা জোগাড় করেছিল মুলায়মের দল সমাজবাদী পার্টি এবং মায়াবতীর দল বহুজন সমাজ পার্টি, যে টাকা সরকারের এই সিদ্ধান্তে কার্যত বাতিল কাগজে পরিণত হয়েছে৷ রাজনৈতিক মহলের এক বড় অংশের ধারণা, উত্তরপ্রদেশে বিরোধীদের বিপাকে ফেলতেই মোদী একেবারেই আচমকা বড় অঙ্কের নোট বাতিলের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন৷ যে কারণে মমতা ব্যানার্জির এই তীব্র বিরোধিতাতেও কিছু বিস্মিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে৷ ঠিক যে জায়গাটা ধরেছেন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম৷ মমতা বামেদের নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলাতে সেলিম বলেছেন, কালো টাকার মজুতের প্রশ্নে তৃণমূল নেত্রীর নিজের অবস্থান স্পষ্ট নয়৷ বাম সাংসদের ইঙ্গিত অবশ্যই ছিল সারদা চিটফান্ডের কয়েক হাজার কোটি টাকার দিকে, যা রাজনৈতিক তহবিলে জমা পড়েছে বলেই লোকের সন্দেহ৷

এদিকে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, লোকের যতই অসুবিধে হোক, দেশ থেকে কালো টাকার ভূত তাড়াতে সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গেই আছেন তাঁরা৷ এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও মোদীর এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে৷

তবে এই ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে কালো টাকার মজুত আদৌ কতটা বন্ধ করা যাবে, সে নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠছে৷ কিন্তু বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে যতই গণবিরোধী বলুক, জনগণ বিরোধীদের রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশে থাকবে কিনা, সেটাও দেখার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়