1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘ক্ষমতার পালাবদলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে পরিবর্তন হবে না’

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, ভারতে ক্ষমতার পালাবদল হলে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না৷ তবে পারস্পরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও স্বার্থ সুরক্ষার ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে৷

default

‘ভারতে ক্ষমতার পালাবদল হলে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না’

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘‘শুধু ভারত কেন, কোনো দেশেরই সরকার পরিবর্তনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না৷''

সেমিনারের বিষয় ছিল ‘কান্ট্রি লেকচার অন ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়া – বাংলাদেশ রিলেশনশিপ'৷ পঙ্কজ শরণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন৷ সেমিনারে বিআইআইএসএস-র চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এসএম শফিউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকটি দেশের বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন৷ বক্তারা ভারতে সরকার পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, তা নিয়ে কথা বলেন৷ কথা বলেন, কোন দল সরকার গঠন করলে তার প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে৷

আর নির্বাচনি প্রচারণায় ভাষার ব্যবহার যে সব ইঙ্গিত দেয়, তা বাস্তব হলে পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা নিয়েও কথা বলেন কেউ কেউ৷

তবে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘‘সরকার পরিবর্তন হলেও কোনো দেশেরই পররাষ্ট্রনীতি বা স্বার্থের পরিবর্তন হয় না, তাই কোনো দেশের সরকার পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না৷ তাছাড়া, দু'দেশের সম্পর্ক নির্ভর করে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ওপর, সরকারগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর৷''

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘‘কোন দেশে কোন সরকার এলো-গেলো এ বিষয়ে ভারতের কোনো পছন্দ নেই৷ ১৯৭১ সালের পর থেকেই বাংলাদেশে অনেক সরকার পরিবর্তন হয়েছে৷ সবগুলো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে দীর্ঘ ৪ দশক ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে ভারত৷ যে কোনো দেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই ভারত কাজ করবে৷''

তিস্তা চুক্তি ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘‘চুক্তি সম্পন্ন না হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক৷ চুক্তির ব্যাপারটির অনেক অগ্রগতি হয়েছিল৷ তবু চুক্তি হয়নি৷ এখন নতুন সরকারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে৷'' নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে এর সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পঙ্কজ৷

স্থল সীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘স্থল সীমান্ত চুক্তির ব্যাপারটি ভারতের বর্তমান সরকারের আমলে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে , সেটা গত ৪০ বছরে হয়নি৷ চুক্তির ব্যাপারটি এখন আমাদের পার্লামেন্টে আছে৷'' নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে এ চুক্তি বাস্তবায়ন হবে বলেও আশা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার৷

তিনি বলেন, ‘‘অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন ভালো৷ দু'দেশের সম্পর্ক সহযোগিতার সকল স্তর স্পর্শ করেছে৷

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন, সীমান্ত, বিদ্যুৎ, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় বাংলাদেশ-ভারতের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভালো পর্যায়ে রয়েছে৷'' ভারত নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেখতে চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘‘দু'দেশকে পারস্পরিক স্বার্থ বুঝতে হবে৷ দু'দেশই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে৷ দু'দেশের অভ্যন্তরে যে সব অবৈধ বাণিজ্য চলছে, সেগুলোকে বৈধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে৷''

সুরমা নদীর গতিপথে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘‘সেখানে দু'দেশেরই বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে যাচ্ছে৷ তাদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে৷ আমার জানা মতে, সেখানে কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে না৷''

সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো মনে করে কিনা – এমন এক প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘‘সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কখনোই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে মেলানো যাবে না৷ বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে৷ ভৌগোলিক ও কৌশলগত বিচারেও বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে৷ পর্যবেক্ষণ করলে পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের যেমন পাহারা ও ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সীমান্তে তেমনটি চোখে পড়বে না৷''

ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য মেঘালয় ও ত্রিপুরায় আরও বেশি সীমান্ত হাট বসানো হবে৷ গত কয়েক বছরে ভারতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পণ্য রফতানি হয়েছে বলে জানান তিনি৷

উল্লেখ্য, ভারতের লোকসভা নির্বাচনের নয় পর্বের ভোটের প্রথম পর্ব হয়েছে সোমবার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়