1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ক্ষমতার নৃশংস প্রকাশ

সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে নির্মমভাবে কোপানোর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার নৃশংস প্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করেন অপরাধ ও  সমাজবিজ্ঞানীরা৷ এরজন্য বিচারহীনতা এবং সামাজিক বৈকল্যকে দায়ী করেন তাঁরা৷

বদরুল জবানবন্দিতে হামলার কথা স্বীকার করে

বদরুল জবানবন্দিতে হামলার কথা স্বীকার করে

তাঁরা মনে করেন,  এই অবস্থা বাড়তে দেয়া যাবে না৷ বাড়তে দিলে সবাই একটি হৃদয়হীন সমাজ ব্যবস্থার বাসিন্দা হয়ে যাবো৷

সোমবার বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজের মসজিদের পাশের রাস্তায় নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি)-র ছাত্র, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সম্পাদক বদরুল আলম৷ নার্গিস সিলেট মাহিলা কলেজের ছাত্রী৷ নার্গিসকে মৃত ভেবে পালিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশে দেয়৷ বদরুল বুধবার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হামলার কথা স্বীকার করে জানায়, ‘‘আমাকে প্রত্যাখ্যান করায় হামলা চালাই৷ এবং হামলার জন্য আড়াইশ টাকায় চপাতি কিনি৷''

এদিকে নার্গিস এখন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মাথায় অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে৷ স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন বুধবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘৭২ ঘণ্টা শেষ না হলে কিছু বলা সম্ভব না৷ তার অবস্থা সংকটাপন্ন৷  তবে আমরা এখনো আশাবাদী৷'' তিনি জানান, ‘‘নার্গিসের মাথা এবং হাতে অসংখ্য চাপাতির কোপ৷ তারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরাও হতভম্ব৷''

অডিও শুনুন 02:40

‘ক্ষমতা তাকে দানব করেছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জিয়া রাহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নার্গিসকে কোপানোর যে দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে, আমি তা দেখেছি৷ দেখে মনে হয়েছে এক উন্মত্ত এবং বিকারগ্রস্ত মানুষের কাজ৷ কয়েকটি কারণে বদরুল এই জঘণ্য কাজ করে থাকতে পারে৷ তারমধ্যে প্রধান কারণ বলে আমার কাছে মনে হয়েছে যে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার কারণে সে ক্ষমতার প্রকাশ দেখাতে চেয়েছে৷ প্রত্যাখ্যাত হয়ে সে নির্মম ও পাশবিকতার মাধ্যমে শক্তি প্রকাশ করতে চেয়েছে। এটা ক্ষমতার নৃশংস প্রকাশ। তবে অন্য আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশও তাকে প্রভাবিত করতে পারে৷''

নার্গিসকে কোপানোর সময় অনেকেই দাঁড়িয়ে দেখেছেন৷ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে না গিয়ে ভিডিও করেছেন, ছবি তুলেছেন৷ এই ঘটনার ব্যখ্যায় ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘‘সমাজের ট্রানজিশনাল স্টেজে আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি৷ আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত৷ তাই অন্যের বিপদে তাকে সহায়তা না করে আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকতে চাই৷ উন্নত বিশ্বে কিন্তু অন্য ব্যবস্থা আছে, সেখানে সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেয়া যায়৷ তারা দ্রুতই রেসপন্স করে৷ আমাদের দেশে তা-ও নেই৷ তবে আমাদের দেশে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আমরা একটা হৃদয়হীন সমাজের বাসিন্দা হয়ে যাবো৷''

অডিও শুনুন 02:46

‘মনে হয়েছে এক উন্মত্ত এবং বিকারগ্রস্ত মানুষের কাজ’

আর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বদরুল যা করেছে তাকে বলা হয় দানবীয় আচরণ৷ কোনো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা ব্যাখ্যা করা যায়না৷ তবে তার এই দানব হওয়ার পিছনে আছে ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতা৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘ক্ষমতা তাকে দানব করেছে৷ নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচারহীনতা তার মধ্য থেকে মনুষ্যত্ববোধকে সরিয়ে দিয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘কিছুদিন আগে এরকমই এক ক্ষমতাধর অপরাধীকে সাধারণ মানুষ আটক করার পর উলটো সাধারণ মানুষকেই মামলায় পড়তে হয়৷ এসব কারণেই ক্ষমতাধররা নির্মম ও নৃশংস আচরণ করতে একটুও ভীত হয় না৷''

ডা. তাজুল ইসলামের মতে, ‘‘হয়ত এই কারণেই সাধারণ মানুষ নার্গিসকে রক্ষায় এগিয়ে যায়নি৷ কিন্তু সেটা আমার কাছে গ্রহলযোগ্য নয়৷ ওখানে অনেক লোক ছিল৷ আর বদরুল একা একটা চাপাতি দিয়ে নার্গিসকে কোপাচ্ছিল৷ দু'তিনজন এগিয়ে গেলেই হতো৷ কিন্তু কেউ যায়নি৷ তাহলে আমাদের মধ্য থেকে কি মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে?''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়