1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ক্ষণিকের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার চ্যালেঞ্জ

আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো থেকে শুরু করে বুদবুদ ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনা আমাদের বিস্মিত করলেও ঠিক সেই মুহূর্তগুলি ভালো করে দেখার উপায় নেই মানুষের৷ কিন্তু এক সুইস আলোকচিত্র শিল্পী নিপুণভাবে তা মুহূর্ত ক্যামেরার লেন্সে ধরে রাখছেন৷

Symbolbild Klammern Wäscheklammer Koalition schwarz rot grün

প্রতীকী ছবি

চমকপ্রদ সব ছবি তোলেন আলোকচিত্র শিল্পী ফাবিয়ান ও্যফনার৷ সাবানের পানি থেকে ফোটানো বুদবুদ: ঠিক ফাটার মূহূর্তে তোলা ছবি৷ ফেটে যাওয়ার মুহূর্তে তোলা রঙিন বেলুনের ছবি৷ সেন্ট্রিফিউজে কীভাবে রং ছড়িয়ে পড়ে, তার ছবি৷ ফাবিয়ান বলেন, ‘‘ফটোগ্রাফিতে আমাকে যা টানে, তা হল একটি ক্ষণিকের মুহূর্তকে ধরে রাখার সুযোগ৷ মুহূর্তটা এতোই ক্ষণিক যে, মানুষের চোখে তা ধরা পড়ে না৷ কিন্তু ফটোগ্রাফিতে তেমন একটি মুহূর্তকেও চিরকালের জন্য ধরে রাখা সম্ভব৷ সেটাই হল ফটোগ্রাফির আশ্চর্য দিক৷''

সুইজারল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে একটি ছোট্ট শহরে ফাবিয়ান ও্যফনারের স্টুডিও৷ তরল রংয়ে ভরা একটি আধারে একটি পাথর গিয়ে পড়ার সঠিক মুহূর্তটিতে ছবিটি তুলতে চান তিনি৷ এক সেকেন্ডের এক হাজার ভাগের এক ভাগ এই মুহূর্তটিকে ধরার জন্য ফাবিয়ানকে রীতিমতো মাথা ঘামাতে হয়েছে৷ ফাবিয়ান বলেন, ‘‘পাথরটা আধারের উপর পড়ার সময় যে শব্দটা হয়, সেটা এই যন্ত্রে ধরে কম্পিউটারের মাধ্যমে ফ্ল্যাশলাইটগুলোকে সক্রিয় করা হয় – যাতে পাথরটা যখন তরল রংয়ের উপরিভাগে আঘাত হানে, ঠিক সেই মুহূর্তে ফ্ল্যাশ জ্বলে ও ছবি তোলা হয়৷''

চাই ধৈর্য ও কঠিন পরিশ্রম

এ ধরনের একটি শুটিং-এর জন্য ফাবিয়ান-কে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ছবির প্রযুক্তি, মালমশলা ও সাজসরঞ্জাম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়৷ ফাবিয়ান বলেন, ‘‘আমি ঠিক ততোটা তথ্য দেবার চেষ্টা করি, যাতে লোকে বুঝতে পারে, ছবির পিছনে আইডিয়াটা কী৷ কিন্তু এতোটা নয় যে, কারোর পক্ষে ঠিক এই ছবিটাই তোলা সম্ভব হবে৷''

এতো সুপরিকল্পিত ছবিও শেষমেষ যে কী হয়ে দাঁড়ায়, তাতে ফাবিয়ান স্বয়ং মাঝেমধ্যে চমকে যান৷ অনেক দর্শক শুনে রীতিমতো আশ্চর্য হন যে, এ গুলো হাতে আঁকা ছবি নয়৷ ফাবিয়ান বলেন, ‘‘এই ছবিটাই ধরুন৷ এখানে আমি ফেরোফ্লোরিড নামের একটি চৌম্বকশক্তিযুক্ত তরল পদার্থের সঙ্গে জলরং মিশিয়েছি৷ হঠাৎ তা থেকে পপ আর্টের মতো কালো কালো রেখা টানা এই সব আকার বেরোয়৷ দেখেই কিথ হ্যারিং-এর কথা মনে পড়েছিল৷''

প্রযুক্তি ও শিল্পের মেলবন্ধন

বিজ্ঞানের নিয়মকানুন আর ল্যাবোরেটরির এক্সপেরিমেন্টকে কাব্যময় ছবিতে পরিণত করাই হল ফাবিয়ান ও্যফনারের লক্ষ্য৷ তাঁর ‘ড্যান্সিং কালার্স' পর্যায়ে তিনি শব্দতরঙ্গকে নৃত্যরত বর্ণালী হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন৷ ফাবিয়ান বলেন,‘‘এ ক্ষেত্রে রক মিউজিকই ভালো কাজ করে৷ তবে আমি সাধারণত গান বাজাই না, বরং নানা ধরনের শব্দ ব্যবহার করি, যেমন কাচ ভাঙার শব্দ কিংবা হৃৎস্পন্দনের শব্দ৷ সেই শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী আকৃতিটাও নানারকমের হয়: কখনো একটা ফুটন্ত ফুলের মতো; কখনো একটা আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মতো৷ শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী নানা ধরনের ফলাফল পাওয়া যায়৷''

ফবিয়ান পেশায় প্রোডাক্ট ডিজাইনার৷ নিত্যনতুন প্রকল্পের জন্য তাঁর আইডিয়ার কোনো অভাব নেই৷ সে সব আইডিয়ার জন্য গ্রাহকেরও অভাব নেই৷ ফাবিয়ান বলেন, ‘‘এখন আমি বেশ কয়েকটা প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত৷ সব ক'টাতে একসঙ্গেই কাজ করি, যাতে একটায় এগোতে না পারলে অন্য আরেকটায় চলে যাই৷ আপাতত একটা প্রোজেক্ট হল: পেট্রোলের সঙ্গে জলরং মেশাচ্ছি৷ মাঝেরটা হল স্কচ হুইস্কি নিয়ে একটা প্রোজেক্ট: হুইস্কি দিয়ে মগজের মতো একটা আকৃতি সৃষ্টি করা৷ তৃতীয়টা হল পারফিউম ইন্ডাস্ট্রির জন্য: এখানে আমি বিভিন্ন রংয়ের ফোঁটা মিশিয়ে একটা গোলাকৃতি সৃষ্টি করি৷''

ফাবিয়ান ও্যফনারের ছবিগুলো দেখলে জানতে ইচ্ছে করে, ওগুলো কী ভাবে তোলা হয়েছে৷ কিন্তু সে রহস্য ভেদ করার পরেও থেকে যায় নিজের কল্পনা – ছবি দেখার যা আসল মজা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক