1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ক্রাইমিয়া সংকটে ন্যাটোর বিশেষ কোনো পন্থা নেই

রাশিয়া ক্রাইমিয়ায় সৈন্য পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো সমালোচনায় মুখর৷ বৈঠকের পর বৈঠক চলছে এবং আগামীতেও চলবে৷ তা-তে অন্তত বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷

ক্রাইমিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে৷ ইউক্রেন সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখছে এবং ন্যাটোর সাহায্য প্রার্থনা করেছে৷ রবিবার ন্যাটোর বৈঠকের আগেই জোটের মহাসচিব আন্ডার্স ফগ রাসমুসেন রাশিয়ার প্রতি অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান৷ ‘‘রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনে যা করছে, তা জাতিসংঘের সনদের বিরোধী৷ এর ফলে ইউরোপের শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে'', বলেছেন রাসমুসেন৷

জার্মানির তরফ থেকেও বক্তব্য স্পষ্ট৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, ‘‘ক্রাইমিয়ায় যা ঘটছে, তা নিয়ে আমরা বিশেষভাবে চিন্তিত৷''

Harald Kujat ehemaliger Generalinspektor der Bundeswehr

জার্মান সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান হ্যারাল্ড কুইয়াট

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার ঘোষণা করেছেন, রাশিয়া ক্রাইমিয়ায় যা করছে, তা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও রাজ্যাঞ্চলিক সংহতির সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খেতে হবে৷

রাশিয়ায় সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন, রাশিয়ার ব্যাপারে নয়

অপরদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটোর রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলা উচিত৷ এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ন্যাটো-রাশিয়া পরিষদের বৈঠক আহ্বানের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন হ্যারাল্ড কুইয়াট, যিনি জার্মান সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং ন্যাটোর সামরিক পরিষদের সাবেক সভাপতি৷ রাশিয়ার উপর সেটাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতো, বলে তিনি মনে করেন৷

ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়৷ কাজেই ন্যাটোর পক্ষে আপাতত ইউক্রেনকে বাস্তবিক সাহায্য করা সম্ভব নয় বলেই কুইয়াটের ধারণা – সামরিক সাহায্য প্রদান তো নয়ই: রাশিয়া যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তি, তা বিস্মৃত হলে চলবে না৷

কাজেই কুইয়াটের পরামর্শ হলো: রাশিয়ার সম্বন্ধে কথা না বলে, রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করো৷

মধ্যস্থের ভূমিকায় ন্যাটো?

সামরিক বিশেষজ্ঞ ক্লাউস মমসেনের মতে ন্যাটো এই সংঘাতে সত্যিই মধ্যস্থের ভূমিকা নিতে পারে৷ মমসেন বলেন: ‘‘ন্যাটো তো শুধু একটা প্রতিরক্ষা জোট নয়; বরং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়া যাবৎ ন্যাটো একটি রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যে মঞ্চে রাশিয়াও উপস্থিত, যেমন ন্যাটো-রাশিয়া পরিষদের মাধ্যমে৷''

২০০৮ সালে যখন রাশিয়া এবং জর্জিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলে, তখনও ন্যাটো প্রধানত কূটনৈতিক পন্থাতেই তার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছিল৷ দক্ষিণ অসেশিয়া ও আবখাজিয়া আজও রুশ প্রোটেক্টোরেট বা সুরক্ষিত এলাকা৷ ন্যাটোর সে কথা খুব ভালোভাবেই স্মরণে আছে, বলে মমসেন মনে করেন৷

রাশিয়াকে অবশ্য আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা চলে, যেমন সোচিতে জি-এইট গোষ্ঠীর বৈঠক বর্জন করার মাধ্যমে৷ কিন্তু সে ধরনের বয়কটের প্রতীকী মূল্য ছাড়া আর কিছু থাকবে কি? প্রশ্ন তুলেছেন মমসেন৷ আবার একেবারে কোনো আশা নেই, এমন তো নয়৷ রুশ প্রধানমন্ত্রী মেদভেদেভ তাঁর ইউক্রেনীয় সতীর্থের সঙ্গে টেলিফোনে কথাবার্তা বলেছেন৷ সেটাও এক ধরনের যোগাযোগ, মনে করেন মমসেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়