1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ক্রাইমিয়া ইস্যুতে ভারত উভয়সংকটে

ক্রাইমিয়া অন্তর্ভুক্তি চুক্তির পর, রুশ প্রেসিডেন্ট পুটিন এ বিষয়ে নিজ অবস্থান বোঝাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে ফোন করেন৷ ক্রাইমিয়া ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বন্ধু ভারতকে পাশে পেতে চান তিনি, এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের৷

ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া উপদ্বীপটি রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেবে – গণভোটের এমন সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে নারাজ পশ্চিমা বিশ্ব৷ জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্যরা এই গণভোট আয়োজনকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করে৷ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, ‘‘গণভোট আয়োজন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি৷''

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব এহেন কড়া অবস্থান নেওয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন মঙ্গলবার ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে৷ রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুদেশ ভারতকে এই পরিস্থিতিতে পাশে পেতেই যে এই ফোন, সেটা অনুমান করা যায়৷ কী পরিস্থিতিতে ক্রাইমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে গণভোট আয়োজন করা হলো, তার পুরো পটভূমি ব্যাখ্যা করেন পুটিন এবং এ বিষয়ে ভারতের মনোভাব জানতে চান, এমনটাই ধারণা করছেন কূটনৈতিক মহল৷

G20 Gipfel Russland Sankt Petersburg Singh und Putin BRICS

প্রায় চার দশক ধরে আপদে-বিপদে সবর্দাই ভারতের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে রাশিয়া

এঁদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে, ভারত হয়ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় রাশিয়ার সমর্থনে এগিয়ে আসবে৷ অথচ ক্রাইমিয়া প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান ‘‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি'' গোছের৷ এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লি সর্বদাই ঐক্য ও আঞ্চলিক সংহতি বজায় রাখার পক্ষে৷ ভারত আশা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি গঠনমূলক পথে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে আসতে সক্ষম হবে, যাতে ঐ অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে ইউরোপ ও তার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সুস্থিতি সুনিশ্চিত হয়৷

দিল্লির কাছে এটা একটা নৈতিক সংকট৷ কেন? ক্রাইমিয়া পরিস্থিতিতে যে বৈশ্বিক মেরুকরণের উদ্ভব হয়েছে, তাতে ভারত পড়েছে উভয়সংকটে৷ একদিকে রাশিযা অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ অর্থনৈতিক ও স্ট্র্যাটিজিক স্বার্থে উভয় শিবিরকেই দরকার ভারতের৷ এই দোটানায় পড়ে মনমোহন সিং সরকার ভেবেছিলেন যে, এ বিষয়ে ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া উচিত নির্বাচনের পর মে মাসের শেষে নতুন সরকারের উপর৷

রাশিয়া প্রায় চার দশক ধরে আপদে-বিপদে সবর্দাই ভারতের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে৷ দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ‘মাইলফলক' হলো ১৯৭১ সালের মস্কো-দিল্লির ঐতিহাসিক মৈত্রী চুক্তি, যার গুরুত্ব আজও হারায়নি এতটুকু ৷ সেটা ভারতের ভুলে যাওয়া উচিত নয়৷ ভুলে গেলে তা হবে ভারতের নৈতিক অকৃতজ্ঞতা, ডয়চে ভেলেকে এ কথাই বললেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক প্রবীর দে৷ তাঁর কথায়, ‘‘ভোলা যায় না ৭১-এর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে ভারতের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করেছিল, তখন একান্ত বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিল৷''

মস্কোর সমর্থন ভারতের কাছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভে পরোক্ষ প্রভাব ছিল, বলেন অধ্যাপক দে৷ এখানেই শেষ নয়, ক্রাইমিয়ার মতো পরিস্থিতি হয়েছিল ১৯৭৫ সালে সিকিমের ভারতভুক্তির সময়৷ তার আগে সিকিমের গণভোটে ৯৭.৫ শতাংশ অধিবাসী ভারতভুক্তির স্বপক্ষে মত দেয়ায়, ৭৫-এর ১৬ই মে সিকিম হয় ভারতের ২২তম অঙ্গরাজ্য৷ চীন তাতে ক্ষুব্ধ হলেও মস্কোর সর্বাত্মক সমর্থন দেখে চুপ করে যায় চীন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন