1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘ক্রসফায়ার’ প্রভাবশালীদের বাঁচিয়ে দিল!

যুবলীগ নেতা মিল্কি হত্যার সন্দেহভাজন ঘাতক তারেকের নিহত হওয়ার ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে৷ ব়্যাবের দাবি, তারা পাল্টা গুলি ছুড়লে তারেক নিহত হয়৷ তবে ড. মিজানুর রহমান মনে করেন, বড় অপরাধীকে আড়াল করতেই এই ‘ক্রসফায়ার’ নাটক৷

সোমবার গভীর রাতে গুলশানের শপার্স ওয়ার্ল্ড-এর সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় শাসক দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে৷ সিসি টিভি-র ফুটেজে পুরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রেকর্ড থেকে যায়৷ আর তা সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করলে সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়৷ কারণ ঘাতকরা আবার যুবলীগেরই নেতা৷ তাদের মধ্যে যুবলীগ নেতা জাহিদ সিদ্দিকী তারেককে আহত অবস্থায় উত্তরার একটি হাসপাতালে আটক করে ব়্যাব৷ ব়্যাব দাবি করে যে বুধবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য নেয়ার পথে কুড়িল এলাকায় তাদের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা৷ এরপর উভয় পক্ষের বন্দুক যুদ্ধে তারেক এবং তাঁর সহযোগী শাহ আলম নিহত হন৷ ব়্যাবের দাবি, তারেককে সন্ত্রাসীরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিল৷

ব়্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে. কর্ণেল জিয়উল আহসান ডয়চে ভেলেকে জানান, সিসি টিভি-র ফুটেজে যে ব্যক্তি মিল্কিকে গুলি করছে বলে দেখা যায় সেই হলো তারেক৷ তবে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান শুভ্র ডয়চে ভেলেকে জানান, এই ‘ক্রসফায়ার'-এর ঘটনা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সহজেই তোলা যায়৷ ব়্যাব কেন তারেককে রাতের বেলায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে গেল৷ তাঁর মতো একজন ‘অপরাধী'-কে নিয়ে চলাচলের সময় কেন পর্যাপ্ত ফোর্স নেয়া হয়নি৷ আর এতেই বোঝা যায় যে এটা একটি সাজানো নাটক৷

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে তারেকই যে শেষ ব্যক্তি, তা নয়৷ সংবাদমাধ্যমে এরই মধ্যে শাসক দলের আরো অনেক প্রভাবশালীদের কথা বলা হয়েছে নেপথ্যের ইন্ধন দাতা হিসেবে৷ বলা হয়েছে মিল্কি টেন্ডার বাজির বলি হয়েছেন৷ তাই তারেক বেঁচে থাকলে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো অনেকের নাম জানা যেত৷ বেড়িয়ে আসত নেপথ্যের আরো অনেক ঘটনা৷ হয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা জানতো৷ তাই শাসক দলের প্রভাবশালী কাউকে বাঁচাতে অথবা বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে এই বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা সাজানো হয়েছে৷

আদিলুর রহমান খান বলেন, ক্রসফায়ার সমর্থনযোগ্য নয়৷ ক্রসফায়ার কোনো পক্ষের ন্যায় বিচার নিশ্চিতও করে না৷ তাঁর মতে, এর মাধ্যমে নিহত মিল্কির পরবিারও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে৷ কারণ, অনেক তথ্য আর জানা যাবে না৷

এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, এই প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যে তারেককে ক্রস ফয়ারে দিয়ে মূল অপরাধীদের আড়াল করা হলো কিনা৷ কোনো বড় অপরাধীকে বাঁচাতে এই ক্রসফায়ারের নাটক সাজানো হতে পারে৷ কারণ তারেক বেঁচে থাকলে তাদের নামও প্রকাশ করত৷ তিনি বলেন, তারেকের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া যেত তা মামলার তদন্তে সহায়তা করত৷ তাঁর কথায়, গত কয়েকদিনে তারেকসহ আরো কয়েকটি ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে৷ এতে মানবাধিকার কমিশন উদ্বিগ্ন৷ কমিশন বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে৷ ড. মিজান বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ দেখে শুনে মনে হচ্ছে যে, একদল অপরাধীকে আড়াল করতে আরেক দলকে ক্রসফায়ারের বলি করা হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন