1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘ক্রসফায়ার নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপে সরকার'

‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন', সংক্ষেপে র‌্যাব গঠন হয় ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ৷ এরপরই ‘ক্রসফায়ার'-এর ‘গল্পের' সঙ্গে পরিচিত হন সাধারণ মানুষ৷ ঐ সব যুদ্ধ শেষে একজন বা একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, উদ্ধার করা হয় অস্ত্রও৷

এতদিন পর্যন্ত এই ‘ক্রসফায়ার' বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে পেশাদার অপরাধী৷ আবার কখনও কখনও বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ৷ ফলে সরকারি লোকজন এ নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেননি৷ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও, বাংলাদেশের সরকার খুব একটা কর্ণপাত করেনি, নির্লিপ্তভাবে উল্টে এর প্রতিবাদ করেছে৷ আর সরকারি দলের নেতারা মণ্ডুপাত করেছেন মানবাধিকার কর্মীদের৷

কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন৷ সম্প্রতি এই ‘ক্রসফায়ার' বা ‘বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন সরকারের সমর্থক কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা৷ বলা বাহুল্য, তারপরই নড়েচড়ে বসেছে সরকার৷ সরকারি দলের একাধিক এমপি-র তোপের মুখে পড়েছে র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ ফলে সরকারও ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে৷

সর্বশেষ রাজধানীতে ছাত্রলীগের এক নেতার ‘বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব-এর একটি ব্যাটেলিয়নের প্রধানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ ঐ কর্মকর্তারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিহত ছাত্রলীগ নেতার ভাই আদালতে নালিশী মামলা করেছেন৷ এলাকার দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে৷ এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের যে প্রবণতা সরকারের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগের৷ ‘ক্রসফায়ার' বা ‘বন্দুকযুদ্ধ' কোনো সমাধান হতে পারে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে৷ সম্প্রতি আলোচিত কয়েকটি ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা র‌্যাব ও পুলিশের কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন৷ এই ঘটনায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে৷ অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় না দেয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক৷ কিন্তু আইন বর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি ঘটবে না৷ বরং উল্টে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হচ্ছে৷''

গত ১৭ই আগস্ট রাজধানীর হাজারিবাগে চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷ এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাজারিবাগ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আরজু মিয়া ওই দিন রাতেই র‌্যাব-এর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন৷ এই ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস৷ তিনি বলেন, ‘‘বন্দুকযুদ্ধ নয়, আরজুকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে র‌্যাব৷ আরজুর কোনো অপরাধ থাকলে তার জন্য আইন ছিল, বিচার হতো৷ কিন্তু এ রকম একটা ছেলে, যার কোনো খারাপ রেকর্ড নেই, কোনো মামলা-জিডি পর্যন্ত নেই, সেই ছেলেটাকে ধরে নিয়ে সকালবেলা মেরে দিল৷ এটা কোনো কথা হতে পারে? বিএনপির আমলে তৈরি এই র‌্যাব বন্দুকযুদ্ধের নামে একটা তথাকথিত গৎবাধা কথা বলে যাচ্ছে, যেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়৷ আমি এর তীব্র নিন্দা করি এবং পাশাপাশি জড়িতদের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই৷''

ছাত্রলীগ সভাপতি আরজু মিয়াকে ‘অপহরণের' পর গুলি করে হত্যার অভিযোগ এনে র‌্যাব ও পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি নালিশি মামলা করেছেন নিহতের ভাই মাসুদ রানা৷ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে৷ পাশাপাশি সরকারও নড়ে চড়ে বসছে৷ গত রবিবার র‌্যাব ২-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ পরদিন, অর্থাৎ গত সোমবার, প্রত্যাহার করা ঐ এলাকার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী কমিশনার রেজাউল ইসলামকে৷

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছর কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যে ধারা চলতি বছরও অব্যাহত আছে৷ এখন পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৬৭ জন৷

তবে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ক্রসফায়ারের সপক্ষে যুক্তি দেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘‘ক্রসফায়ার' বা ‘বন্দুকযুদ্ধে' যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তা আইনসম্মতভাবেই হচ্ছে৷ পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার আছে৷ পুলিশ যখন আক্রান্ত হয়, তখন আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়৷ পাশাপাশি এই ঘটনাগুলোর বিভাগীয় তদন্ত হয়৷ সেই তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়৷'' কারো বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকের বিরুদ্ধেই হয়েছে৷

সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের ওপর ক্ষেত্র বিশেষে হামলা হতে পারে৷ সেক্ষেত্রে তারা পাল্টা হামলা চালাবেন, এতে ভিন্নমত নেই৷ তবে যাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো, তাঁর জীবন রক্ষা তাদের দায়িত্বের অংশ, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই৷ তবে আইনের আওতায় গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচারের ওপর সবারই আস্থা রাখা সংগত৷ আইনের অনুশাসন মেনেই বিচার হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার৷ তেমনি জেএমবি সন্ত্রাসীদেরও৷ একইভাবে বিচার চলছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের৷ এ সব তদন্ত কাজে তো সংশ্লিষ্ট ছিলেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা৷ তাহলে দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, সম্পত্তি দখল, টেন্ডারবাজির মতো অপরাধ যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতাতেই তো ব্যবস্থা নেয়া যায়৷ আর তা নিতেও হবে৷ বিচারবহির্ভূত কোনো প্রক্রিয়াকে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার পরিণতি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার মতো বিয়োগান্ত অনেক কিছু হতে পারে৷ এ ধরনের কিছু ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অনেক ভালো কাজ ম্লান হয়৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়