1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ক্যানসারের সঙ্গে যুঝে ইউএস ওপেনে ক্লেইবানোভা

আড়াই বছর কোনো মেজর টুর্নামেন্টে খেলেননি আলিসা ক্লেইবানোভা৷ হজকিন্স লিম্ফোমা, এক ধরনের ব্লাড ক্যানসার থেকে সেরে উঠছিলেন৷ কেমোথেরাপি চলছিল৷ এবার ফ্লাশিং মেডোজ’এ আবার একটি ম্যাচ খেললেন – এবং জিতলেন৷

অসাধারণ কাহিনি৷ ২০১১ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর আলিসার অসুখটা ধরা পড়ে৷ আজ ২৪ বছর বয়সে আবার কোর্টে ফিরে এই রুশ তরুণী প্রমাণ করলেন যে, জীবনের আসল হার-জিতগুলো কোর্টের বাইরেই ঘটে থাকে৷

হাড্ডহাড্ডি একটি তিন সেটের ম্যাচে পুয়ের্তো রিকো'র মোনিকা পুইগ-কে ৬-৪, ৩-৬, ৭-৫ গেমে হারান ক্লেইবানোভা৷ ম্যাচের পরে তাঁর মন্তব্য: ‘‘আমি মনপ্রাণ দিয়ে কোর্টে ফিরতে চেয়েছিলাম৷ আবার টেনিস খেলার জন্য এতোটা আকুল ছিলাম যে, আমার কাছে আর কোনো প্রশ্নই ছিল না৷ কয়েক মাস ধরে আমার সামনে শুধু সেই টেনিস কোর্টের স্বপ্নই ছিল৷ আমি সব কিছু সহ্য করতে রাজি ছিলাম৷ আমি আবার সুস্থ হয়ে খেলতে চেয়েছিলাম৷ সেটাই আমাকে অনেকখানি শক্তি দিয়েছে বলে আমার ধারণা৷''

ক্লেইবানোভা পেশাদারি টেনিসে যোগদান করেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে৷ বিশ্ব বাছাইয়ে বিশ নম্বর অবধি উঠেছিলেন৷ দু'টি খেতাব জিতেছেন, টেনিস খেলে রোজগারও করেছেন কোন না কম বিশ লাখ ডলার৷ এ সবই ক্যানসার হওয়ার আগে৷ ২০১১ সালটা তাঁর কাটে কেমোথেরাপিতে৷ ২০১৩'য় কোর্টে ফেরার সময় তাঁর ব়্যাংক ৩৬৩৷

কিন্তু সেটা ক্লেইবানোভার কাছে বড় কথা ছিল না৷ বিশ্ব বাছাইয়ে তাঁর স্থান কোথায় অথবা কতোদূর নামতে পারে, তা নিয়ে তাঁর চিন্তা করার মতো অবস্থা কিংবা অবসর ছিল না৷ তাঁর সামনে ছিল একটি বড় লক্ষ্য, একটি বড় স্বপ্ন: তিনি মাঠে ফিরবেন, তিনি কোর্টে ফিরবেন, তিনি আবার টেনিস খেলবেন, পেশাদারি টেনিস, কে জানে, হয়তো ফ্লাশিং মেডোজ'-এ? না, জীবন ওরকম রং মিলিয়ে, পদ মিলিয়ে উপন্যাস লেখে না৷ তবে এই সোমবার ফ্লাশিং মেডোজ, মানে রঙিন চারণভূমিতে খুশি ও জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা-উদ্দীপনার ছোঁয়াচ: আলিসা ক্লেইবানোভা ক্যানসার সারিয়ে উঠে আবার টেনিস খেলছেন ইউএস ওপেনে, প্রথম রাউন্ডে জিতেছেন...

‘‘সামনে যদি একটা বিরাট লক্ষ্য থাকে, তাহলে সেখানে পৌঁছনোর জন্য সব মানুষ সব কিছু করতে পারে৷... একটা ম্যাচ খেলার মতো: জেতার জন্য সব কিছু করতে রাজি৷'' তবে ক্লেইবানোভা নিজেকে ‘রোল মডেল' বা অপরের আদর্শ বলে দেখতে কিংবা মানতে রাজি নন৷ ‘‘আমার জন্য ও সব শেষ হয়ে গেছে৷ ঐ যুদ্ধে আমি বিজয়ী হয়েছি৷... আমি কারোর দৃষ্টান্ত হতে চাই না, আদর্শ হতে চাই না৷ হলে আপত্তি নেই, কিন্তু আমি এটা করেছি নিজের জন্য৷... আমি সামনের দিকে তাকানোর চেষ্টা করি, পিছনের দিকে নয়, সেটা যতোই খারাপ কিংবা শক্ত হয়ে থাক না কেন৷ হোয়াটএভার ডাজন্ট কিল ইউ, মেক্স ইউ স্ট্রঙ্গার৷''

যা তোমাকে মেরে ফেলবে না, তা তোমাকে আরো জোরদার করবে – কথাটা শুধু কথা নয়৷ আলিসা ক্লেইবানোভা'ই তার প্রমাণ৷

এসি / এসবি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন