1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ক্যাথলিক সংগঠনে মুসলিম সদস্য নিয়ে গোলমাল

বন্দুক চালানোর প্রতিযোগিতা জিতে ‘মার্কসম্যান’ হয়েছেন তুর্কি বংশোদ্ভূত এক জার্মান নাগরিক৷ কিন্তু মুসলিম হিসেবে ক্যাথলিক সংগঠনে তাঁর স্থান নিয়ে এখন জার্মানিতে চলছে তুমুল বিতর্ক৷ বিষয় – বৈষম্য বনাম ধর্মীয় সংগঠনের স্বাধীনতা৷

default

মিটবাট গেডিক

নামে শখের বন্দুক চালানোর ক্লাব৷ ভ্যার্ল নামের এক গ্রামেও তার শাখা আছে৷ সংগঠনের পোশাকি নাম ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ হিস্টরিক জার্মান শুটিং ব্রাদারহুডস'৷ বলা বাহুল্য, একমাত্র পুরুষরাই সদস্য হতে পারেন৷ শুধু শুটিং বা বন্দুক চালানোর মধ্যেই ক্লাবের কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ নেই৷ জার্মানির সনাতন ঐতিহ্য বজায় রাখা সংগঠনের মূল আদর্শ৷ নেপোলিয়ানের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের পর সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই সংগঠনের যাত্রা শুরু৷ সদস্যদের রয়েছে বাহারি ইউনিফর্ম৷ দেশজুড়ে প্রায় ১,৩০০ শাখা সংগঠনে এই মুহূর্তে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ৷

ঊনবিংশ শতাব্দীর জার্মানির ঐতিহ্যের মূল ভিত্তিই হলো খ্রিষ্টধর্ম – আরও ভালো করে বলতে গেলে ক্যাথলিক মূল্যবোধ৷ ফলে সেই ঐতিহ্য বহন করতে হলে ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান হওয়াও জরুরি৷ স্থানীয় শাখার ‘মার্কসম্যান' হতে হলে তো বটেই৷ কিন্তু ভ্যার্ল গ্রামে সম্প্রতি লক্ষ্যভেদের প্রতিযোগিতায় ‘শ্যুৎসেনক্যোনিশ' হিসেবে জয়ী হয়েছেন মিটবাট গেডিক৷ বয়স ৩৩৷ তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক৷ সবচেয়ে বড় কথা, তিনি মুসলিম৷ তবে তাঁর স্ত্রী ক্যাথলিক৷ তাঁদের ৪ সন্তানও ক্যাথলিক ধর্ম পালন করে৷

এমন ‘অঘটন' দেখে কেন্দ্রীয় সংগঠনে ‘গেল গেল' রব উঠেছিল৷ প্রথমেই তারা গেডিক-এর কাছ থেকে এই সম্মান ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু গোটা ঘটনাটি জার্মান সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ সংগঠনের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তোলে৷ ফলে শেষ পর্যন্ত মূল সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসে সংগঠন একটি আপোশ করেছে৷ গেডিক ‘শ্যুৎসেনক্যোনিশ' হিসেবে স্বীকৃতি বজায় রাখতে পারবেন বটে, তবে সেই সম্মান সীমাবদ্ধ থাকবে নিজের গ্রামের মধ্যেই৷ তাছাড়া গোটা ঘটনাটিকে ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখা হবে৷

জার্মানির ‘ডেয়ার স্পিগেল' পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে গেডিক বলেন, ‘‘এই একবিংশ শতাব্দীতে এমন বিতর্ক আমার কাছে একেবারেই বোধগম্য নয়৷'' সমাজের বিভিন্ন অংশেও সেই একই মনোভাবের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে৷ অনেকে বলেছেন, যখন জার্মান সমাজের মূল স্রোতে মুসলিম সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের আরও শামিল করার প্রচেষ্টা চলছে, তখন এমন বৈষম্যমূলক আচরণ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়৷

তবে ‘জার্মান শুটিং ব্রাদারহুডস'-এর কেন্দ্রীয় সংগঠন এমন যুক্তি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়৷ তাদের মতে, কোনো সংগঠনের উপর জোর খাটিয়ে তার ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য

তুলে নেওয়া যায় না৷ মুসলিম, ইহুদি বা বৌদ্ধ সংগঠনেও জোর করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, ইপিডি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন