1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘কৌশলগত কারণে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে দেরি হচ্ছে’

‘‘আজকে যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে তারা অন্য নামে, অন্যান্য দলের সঙ্গে মিশে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে৷ এটাই হয়ত বিবেচনায় নিচ্ছে সরকার’’ – ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথাই বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম৷

‘‘তবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হলে প্রথমেই একটা আইন করতে হবে'' – ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে এমনটাই বলেন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা৷

ডয়চে ভেলে: জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার কথা অনেক দিন ধরেই হচ্ছে৷ অথচ এত কিছুর পরও কেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না?

মাহবুবে আলম: যাচ্ছে যে না, তা নয়৷ তবে নিষিদ্ধ করতে হলে একটা আইন তো করতে হবে৷ সেটা পৃথক একটা আইন হতে পারে অথবা যুদ্ধাপরাধী সংক্রান্ত যে আইনগুলো হচ্ছে, সে আইনের মাধ্যমেও হতে পারে৷ তবে আগে আইনটা করতে হবে৷ এরা যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত৷ তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড – এ সবকিছু নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দেবে আইন৷ সেই আইনটা না হওয়া পর্যন্ত এটা করা যাচ্ছে না৷

আমরা জানি জামায়াত নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একটা আইন আলোচনায় আছে৷ সেটার কতদূর অগ্রগতি হয়েছে?

এই মুহূর্তে সেটার অবস্থা কী, তা বলা কষ্টকর৷

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের ব্যাপারে হাইকোর্টের একটা রায় আছে৷ তা আপিল বিভাগে কি এটা শুনানির জন্য এসেছে?

এখন পর্যন্ত আসেনি৷

এ ব্যাপারে আপনাদের উদ্যোগ কী?

আদালতে বর্তমানে অবকাশকালীন ছুটি চলছে৷ খুলবে অক্টোবরের শেষ তারিখে৷ কোর্ট খুললে আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব যে, এটা শুনানির জন্য ‘রেডি' হয়েছে কিনা৷ তারপর যথাযথ পদক্ষেপগুলো নেবো৷

জামায়াত তো দলগতভাবে নির্বাচনে অযোগ্য৷ আমরা দেখেছি, ব্যক্তি পর্যায়ে জামায়াত নেতারা বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং কেউ কেউ নির্বাচিতও হচ্ছেন৷ জামায়াত নেতাদের নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা বা তাঁদের নির্বাচনের বাইরে রাখার ব্যাপারে আপনাদের কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে কি?

সেটা করতে হলে দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে৷ শুধু একজন ব্যক্তিকে তো এভাবে নিষিদ্ধ করলে কোনো লাভ হবে না৷ আইন করে দলকে আগে নিষিদ্ধ করতে হবে৷ তাহলেই তার ‘এফেক্ট' সবার ওপর বর্তাবে৷

জামায়াত তো নির্বাচনে নিষিদ্ধ হয়েছে৷ তা তাদের কর্তা-ব্যক্তি যাঁরা আছেন, তাঁদের ব্যাপারে কোনো চিন্তা আছে কি?

কোনো নেতা যদি তাঁর পার্টির প্রতীক নিয়ে দাঁড়ায়, তখন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্ন আসবে৷ এখন তো অনেকটা লুকোচুরির মতো অবস্থা৷ নিজেদের ‘আইডিওলজি' গোপন করে তাঁরা বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নিচ্ছে৷

আমরা জানি, জামায়াত আর্থিকভাবে খুবই শক্তিশালী জায়গায় আছে৷ জামায়াতের অনেক বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও আছে৷ এগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই?

প্রথমেই তো বললাম, এ ব্যাপারে আইন না করে কিছু করা যাচ্ছে না৷ আমাদের দেশ একটা সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক দেশ৷ আমাদের সংবিধানে অনেকগুলো স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা আছে৷ সেক্ষেত্রে আইন না করে এটা করা খুবই কঠিন ব্যাপার৷ তাই আগে আইন করতে হবে৷

একদিকে আমরা দেখছি, জামায়াতের ব্যাপারে সরকারের নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা৷ অন্যদিকে জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা সরকারকে কখনও কখনও সহযোগিতাও নিতে দেখি....এ বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এটা কিন্তু ঠিক না৷ একটা সময় ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে বা বিভিন্ন খেলার ব্যাপারে জামায়াত নানারকম বিজ্ঞাপন দিতো৷ সেটা নিয়ে তখন খুব সমালোচনা হয়েছিল৷ তবে একবারই এমন হয়েছিল৷ এরপর আর এটা দেখিনি৷ অবশ্য সেটাও জামায়াত সরাসরি করেনি৷ ইসলামী ব্যাংক কতগুলো ব্যাপারে অংশ নিয়েছিল৷ জনশ্রুতি আছে, ইসলামী ব্যাংক জামায়াতের৷ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড অফ ডিরেক্টরে তো এখন পরিবর্তন ঘটেছে৷ এখন সেখানে অনেক ডিরেক্টর আছেন, যাঁরা সরকারের বিভিন্ন পদে আসীন৷

অডিও শুনুন 09:14

‘‘ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড অফ ডিরেক্টরে তো এখন পরিবর্তন ঘটেছে’’

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?

আইন সংশোধন করা৷ যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত যে দল বা ব্যক্তি বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, তারা কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না – এই মর্মে স্পষ্ট একটা আইন করতে হবে৷

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে অনেকগুলো রায়ে এই প্রসঙ্গটি এসেছে৷ সেক্ষেত্রে আপনাদের নতুন করে কোনো ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে কি?

আমি যে কথা প্রথম থেকেই বলছি, একটা আইন করতে হবে৷ এই আইন করবে আমাদের সংসদ৷ আর সরকার এ ব্যাপারে একটা নীতি গ্রহণ করবে৷ প্রশ্ন হলো, সেটা কবে করবে বা আদৌ করবে কিনা, তা নিয়ে৷

এই মুহূর্তে সরকারের কী করণীয়? সে ব্যাপারে আপনার যদি কোনো পরামর্শ থাকে...

এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত৷ এটা করলে কি সরকার লাভবান হবে? এতে কি গণতন্ত্রের মঙ্গল হবে? না এই সমস্ত দলগুলো আবারো ভিন্ন নামে তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করার সুযোগ পাবে? এ রকম নানা বিষয় আছে৷ আসলে এটা ‘স্ট্র্যাটেজির' প্রশ্ন এবং নিশ্চয় সরকারের বিবেচনাধীন৷

আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের যে তৎপরতা আমরা দেখছি বা যারা ধরা পড়ছে, তাদের মধ্যেও অনেক জামায়াত-শিবিরের নেতা রয়েছে৷ তাদের ব্যাপারে গোয়েন্দাদের কাছে কি তথ্য রয়েছে?

হ্যাঁ, এ ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে৷ এই দলে যে ট্রেনিং হতো, নানারকম নির্জন জায়গায় যে তাদের সভা-সমাবেশ হতো, সেখানে অস্ত্র দিয়ে ট্রেনিং দেয়া হতো – এমন খবর আজকে থেকে ১০-১২ বছর আগে থেকেই সংবাদমাধ্যমে আসছে৷ জামায়াতের পক্ষ থেকেও এগুলো কখনও সরাসরি অস্বীকার করা হয়নি৷

২০০৯ সালের শুরুতে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে৷ অর্থাৎ প্রায় সাত বছর পার হয়ে গেল৷ তারপরও কেন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারছে না?

না, এখানে না পারার প্রশ্ন না৷ ব্যাপারটা হলো স্ট্যাটেজির বা কৌশলগত৷ আজকে যদি জামায়াতকে আপনি নিষিদ্ধ করেন, তাহলে তারা অন্য নামে, অন্যান্য দলের সঙ্গে মিশে তাদের শক্তিটা আরো বৃদ্ধি করতে পারে৷ এই জিনিসগুলো হয়ত বিবেচনায় নিচ্ছে সরকার৷ আমি যতখানি বুঝি, তাদের যে কর্মকাণ্ড, যে আইডিওলজিতে তারা বিশ্বাস করে, সেটা শুধু নাম বন্ধ করে হবে না৷ নামটা বন্ধ করে দিলাম, কিন্তু অন্য কোনো নামে তাদের আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ থাকবে কিনা এবং সেক্ষেত্রে কী করা হবে? এ ধরনের প্রশ্ন আগেই যাচাই করে দেখতে হবে৷

যেমন ধরুন, লাদেনের দলকে যখন ‘ব্যান' করা হলো – তখন আমরা জানতাম যে একজন সন্ত্রাসী ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানারকম কাজ করছে৷ লাদেনদের দমন করার জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো৷ অথচ এর পরেই দেখুন ‘ইসলামিক স্টেট' তৈরি হয়ে গেল৷ এই ইসলামিক স্টেট তো লাদেনদের চেয়ে কোনো অংশে কম না, বরং অনেক বেশি৷ কাজেই শুধু নামের ব্যাপারে যদি একটা নিষেধাজ্ঞা দেন, তাহলে হবে না৷ ভেতর থেকে এদের আইডিওলজিক্যাল যে শক্তি আছে, সেটা প্রতিহত করতে হবে৷ নিশ্চয় সরকার এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছে৷ সরকার যে তাদের নির্বিঘ্নে কাজ করতে দেবে বা দিচ্ছে, সে কথা ঠিক না৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, যারা মৌলবাদে বিশ্বাস করে, যারা মনে করে ধর্মীয় রাষ্ট্র গঠন করা প্রয়োজন, যাদের ‘টার্গেট' হলো ধর্মীয় রাষ্ট্র গঠন করা, তাদের ‘আইডেন্টিফাই' না করলে কোনো ফল হবে না৷ ফলে আজকে তাদের নিষিদ্ধ করলে, তারা যদি অন্য নামে শুরু করে দেয়, অন্য নতুন লোকদের ‘রিক্রুট' করে, তখন তো পরিস্থিতি আরো বিপদজ্জনক হবে৷ তাই না? তবে এ সমস্ত জিনিস বিবেচনায় নিয়েই সরকার এগোচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়