1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘কোরান সন্তান’ ও শাহিন দিল রিয়াজ

শাহিন দিল রিয়াজের জন্ম ঢাকায় ১৯৬৯ সালে৷ চলচ্চিত্র জগতের প্রতি আকর্ষণ তাঁর ছোটবেলা থেকেই৷ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে সুযোগের অভাবে চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি শাহিনের৷ গ্রাজুয়েশন করেন ক্যাডেট কলেজ থেকে৷

default

সেই সময় থেকেই চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেন তিনি৷ পরিচয় হয় স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি নির্মাতাদের সঙ্গে৷ আয়োজন করেন ঢাকায় প্রথম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র উৎসবের৷

১৯৯২ সালে গোয়েটে ইন্সটিটিউটের একটি বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করতে বার্লিনে আসেন শাহিন দিল রিয়াজ৷ লালিত স্বপ্নের দ্বার খুলে যায় বাংলাদেশের প্রতিভাবান এই তরুণের৷

Korankinder

শাহিন দিল রিয়াজ

পড়াশোনা করেন বার্লিনের মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলার ইতিহাস নিয়ে৷ ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জার্মানির পটসডাম শহরের ফিল্ম ও টিভি ইউনিভার্সিটিতে ক্যামেরাম্যান হবার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন৷ ভাষায় যা সম্ভব নয়, ক্যামেরার মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যায়৷ আর এজন্যই চলচ্চিত্রে ক্যামেরার কলাকৌশল শিখতেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন শাহিন৷

শাহিন দিল রিয়াজ নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্য চিত্র৷ ছবির কাহিনি ও চরিত্রগুলি যেন তাঁর জীবন থেকেই নেয়া৷ পারিপার্শ্বিক পৃথিবী ও পরিচিত মানুষেরা উঠে এসেছে তাঁর ছবিতে৷ ছবির পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও চিত্রগ্রহণ সব কিছুই করেছেন তিনি নিজে৷ বাংলাদেশে গিয়ে থেকেছেন অনেক দিন৷ মিলে মিশে গেছেন ছবির মানুষগুলির দুঃখ দুর্দশার সঙ্গে৷ ছবি তৈরির জন্য কর্তৃপক্ষেরঅনুমতি পেতে নানারকম বাধা বিঘ্নও অতিক্রম করতে হয়েছে তাঁকে৷

২০০২ সালে নির্মিত প্রথম প্রামাণ্য চিত্র ‘জীবন জলে বেলেতে' যমুনা নদীর তীরবর্তী বন্যা ও খরা কবলিত মানুষদের দুর্ভাগ্যের চিত্র তুলে ধরেছেন শাহিন৷ জলের বাড়া কমার ওপরই যেন নির্ভর করছে এই সব মানুষের জীবন৷ এই ছবিটির জন্য বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন শাহিন দিল রিয়াজ৷ এর মধ্যে রয়েছে ডিএএডি-র বেস্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড, বার্লিনের ফার্স্ট স্টেপ অ্যাওয়ার্ড, তেল আভিভের প্রামাণ্য চিত্র উৎসবে জুরিমন্ডলীর বিশেষ পুরস্কার ইত্যাদি৷

শাহিনের ২০০৫ সালে নির্মিত ছবির নাম ‘শিল্প শহর স্বপ্নলোক'৷ লন্ডনের স্কুল অব ইকোনোমিক্সের পক্ষ থেকে এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছিল যে, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষেরা বাস করেন বাংলাদেশে৷ এমন এক দেশে, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অভাব, অভিযোগ মানুষের নিত্য সঙ্গী৷ তবু কী করে সুখী হয় সেখানকার মানুষ, সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজতে চেয়েছেন শাহিন বাংলাদেশের মানুষদের সঙ্গে কথা বলে৷

Korankinder

‘কোরান সন্তান' ছবির একটি দৃশ্য

শাহিন দিল রিয়াজের সবচেয়ে সফল ছবি ২০০৭ সালে নির্মিত ‘আইজেন ফ্রেসার' বা ‘লোহাখোর'৷ বাংলাদেশের দক্ষিণে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলে পরিত্যক্ত জাহাজ ভাঙ্গার কাজে রত শ্রমিকদের কাহিনি নিয়ে নির্মিত লোহাখোর৷ ২০ বছর আগে এখানেই খেলাধুলা করেছেন এই চিত্র নির্মাতা৷ আজ জাহাজের এক বধ্যবূমি এই জায়গা৷ জীবিকা নির্বাহের জন্য হাজার হাজার মানুষ কাজ করছেন এখানে৷ সামান্য অর্থের বিনিময়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বিশাল বিশাল জাহাজকে টুকরো করতে হয় তাদের৷ জীবন বাঁচাতে গিয়ে জীবন হারাতে হয় অনেককে৷ শাহিনের ছোটবেলার সহপাঠীদের কেউ কেউ কাজ করেন এখানে৷ তাদের একজন করিম বলেন, তোমার যদি খিদে লাগে তাহলে সবকিছু খেতে পার এমনকী লোহাও৷ অবিশ্বাস্য রকমের কঠোর পরিশ্রম করেও অনেক শ্রমিক বেতন পাননা ঠিক মত৷ জড়িয়ে পড়েন ঋণের জালে৷ তবু তাদের কাজ করতে হয়৷ আর তো কোনো উপায় নেই৷ বঞ্চনা ও শোষণের মর্মস্পর্শী এক চিত্র তুলে ধরেছেন শাহিন দিল রিয়াজ তাঁর এই ছবিতে৷ যা দর্শকদের হৃদয়ে নাড়া না দিয়ে পারেনা৷ এই ছবির জন্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কৃতি এই চিত্র নির্মাতা৷ এর মধ্যে রয়েছে প্যারিসের পরিবেশ বিষয়ক চলচ্চিত্র উৎসবে গ্রঁ প্রি পুরস্কার, তেল আভিভের প্রামাণ্য চিত্র উৎসবে প্রথম পুরস্কার, জাপানের গ্র্যান্ড প্রাইজ, জার্মানির নর্থ রাইন ওয়েস্ট ফালিয়া রাজ্যের ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড' ইত্যাদি৷

শাহিন দিল রিয়াজ গতবছর শেষ করলেন ‘কোরান সন্তান' ছবিটি৷ কোরান শিক্ষার স্কুলগুলিতে আগে ধর্ম শিক্ষার সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ও পড়ানো হোত৷ এখন শুধু কোরান শরিফের সুরা মুখস্থ করানো হয়৷ মাদ্রাসায় ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করা ও ছবি তোলা খুব সহজসাধ্য ব্যাপার নয়৷ তবুও শাহিনের পক্ষে সম্ভব হয়েছে তা৷ ইদানীং এই সব স্কুলে ছাত্র সংখ্যাও বাড়ছে৷ মা বাবারা কেন বাচ্চাদের এই সব স্কুলে পাঠাচ্ছেন, সেটাই বোঝার চেষ্টা করেছেন পরিচালক৷

প্রতিবেদক: রায়হানা বেগম, সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

পডকাস্ট

সংশ্লিষ্ট বিষয়