1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

কোমি-বিতাড়ন কি দ্বিতীয় ওয়াটারগেটের সূচনা?

প্রশ্নটা সংবাদমাধ্যমেও মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে৷ অপরদিকে ট্রাম্পের সমালোচকরা কখনো দেখছেন বিচারবিভাগের স্বাধীনতা বিপন্ন; কখনো মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সাংবিধানিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে৷

ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচার অভিযানের সঙ্গে রাশিয়ার কোনো যোগসাজস ছিল কি? ফেডারাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন এফবিআই ও অন্যান্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, প্রাক-নির্বাচন পর্যায়ে বিভিন্ন সাইবার আক্রমণের জন্য মস্কোই দায়ী ছিল৷ হ্যাকাররা ক্লিন্টন ক্যামপেইনের বহু ই-মেল চুরি করে ও উইকিলিক্স সেগুলিকে প্রকাশ করে৷ ট্রাম্পের ক্যামপেইনের লোকজন কি আগে থেকে এই হ্যাকিংয়ের কথা জানতেন?

ট্রাম্পের প্রচার অভিযানের লোকজনদের কথা উঠলে প্রথমেই এসে পড়বে মাইকেল ফ্লিন-এর কথা, যিনি দৃশ্যত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর দেখাসাক্ষাতের ব্যাপারে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে পুরো সত্য না বলায় ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন৷ হ্যাঁ, রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথাবার্তা হয়েছে, বলেছিলেন ফ্লিন, কিন্তু রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টিও যে আলোচিত হয়েছে, ফ্লিন তা উহ্য রেখেছেন৷ এফবিআই ইতিপূর্বেই ফ্লিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷ সর্বশেষ খবর– সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটি ফ্লিনকে সাক্ষ্য দেবার জন্য তলবনামা পাঠিয়েছে৷

কোমি’র বক্তব্য

সদ্য বরখাস্ত এফবিআই প্রধান জেমস কোমি সংস্থার এজেন্ট ও কর্মীদের প্রতি তাঁর বিদায়ী চিঠিতে সংযতই থেকেছেন এবং বলেছেন যে, একজন প্রেসিডেন্ট কারণে বা অকারণে একজন এফবিআই-প্রধানকে বরখাস্ত করতে পারেন বলে তাঁর বিশ্বাস৷ কাজেই তিনি ঐ বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বা যেভাবে তা কার্যকর করা হয়েছে, তা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাবেন না – এবং তাঁর এফবিআই সতীর্থদেরও তিনি সেই পরামর্শ দেবেন৷ ‘‘বিক্ষুব্ধ সময়ে মার্কিন জনগণ যেন এফবিআই-কে পারদর্শিতা, সততা ও স্বাধীনতার পরাকাষ্ঠা হিসেবে দেখে,’’ বলে কোমি কামনা করেন৷

আবার এ-ও সত্য যে, কোমি গোটা ২০১৬ সালে ধরে মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে একটির পর একটি বোমা ফাটিয়েছেন, যার ফলে ওয়াশিংটনে উভয় দলের রাজনীতিকরাই তাঁর উপর বিরূপ ছিলেন৷ প্রথমে তিনি ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে ইমেল সংক্রান্ত তদন্ত বন্ধ করে রিপাবলিকানদের অপ্রিয়পাত্র হন৷ সেটা ছিল জুলাই মাসে৷ তারপর নভেম্বর নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি ক্লিন্টন তদন্ত পুনরায় চালু করে ডেমোক্র্যাটদের রোষে পড়েন৷ এবার ট্রাম্প কোমিকে বরখাস্ত করলেন ক্লিন্টন মামলায় কোমি’র অদক্ষতার জন্য – হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে যা বলা হচ্ছে৷ কোমি-কে বাস্তবিক বরখাস্ত করা হলো, কেননা, এফবিআই ট্রাম্প অভিযানের সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগ অনুসন্ধান করছিল বলে ডেমোক্র্যাটদের সন্দেহ৷

রাজনীতির খেলা

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, কোমি’র পরে যে-ই এফবিআইয়ের দায়িত্ব নিন না কেন, রুশ সংযোগের ব্যাপারটির যথার্থ তদন্ত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন না৷ কাজেই তারা নতুন এফবিআই প্রধান নিয়োগে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন৷

অপরদিকে ডেমোক্র্যাটরা যে রুশ সংযোগের বিষয়ে একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর নিয়োগ দাবি করছেন – অতীতে যেমন নিক্সন ও বিল ক্লিন্টনের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল – হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই তা খারিজ করে দিয়েছে৷ যুগপৎ সেনেটের সর্বোচ্চ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল ট্রাম্পের প্রচার অভিযানের সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগের তদন্ত করার জন্য একজন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের প্রস্তাব বাতিল করেছেন৷

এসি/এসিবি (ডিপিএ, এএফপি, এপি)

প্রিয় পাঠক, এই বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়