1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কোথায় বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ?

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ কোথায়? তাঁকে কি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে, নাকি তিনি অপহৃত? গত ৪০ ঘণ্টা ধরে কোনো খোঁজ পাওয়া না গেলেও, থানা তাঁর পরিবারের অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না৷

সালাহ উদ্দিন আহমেদ কোথায়? বৃহস্পতিবার সরকারের কাছে এ কথাই জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট৷ বলেছে আগামী রবিবারের মধ্যে তাঁকে খুঁজে বের করে সশরীরে আদালতে হাজির করতে হবে৷

বেশ কয়েকদিন থেকেই কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে বিএনপির হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে জানাতেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ৷ সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরের পর ৬০ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচিও তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করেন৷ অথচ সেই দিন রাত দশটার পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ নেই৷

সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘‘সাদা পোশাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিবি পুলিশের একটা দল মঙ্গলবার রাত দশটার পর উত্তরার একটি বাসা থেকে তাঁর স্বামীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়৷''তিনি জানান, উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে তাঁদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে সালাহ উদ্দিন অবস্থান করছিলেন৷ সেই বাসার দারোয়ানকে ডিবি-র পরিচয় দিয়ে ভেতরে ঢুকে দোতলার দরজা ভেঙে তাঁর স্বামীকে নিয়ে যায় তারা৷

সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী দাবি করেন, ‘‘সালাহ উদ্দিন আহমেদকে হাত ও চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়৷ নেওয়ার সময় উনি আমায় ফোন করেছিলেন, কিন্তু কথা বলার আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়৷ তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় মোট ছয়টি গাড়িতে ২০/২৫ জন লোক এসেছিলেন৷''

হাসিনা আহমেদ অভিযোগ করেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি গুলশান ও উত্তরা থানায় অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করলে পুলিশ সে অভিযোগ নেয়নি৷ আর ব়্যাবের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলে, তারাও আহমেদের আটক বা গ্রেপ্তারে কথা স্বীকার করেনি৷

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতেও বলা হয় যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আটকের কথা স্বীকার করছে না৷ তিনি দাবি করেন, ‘‘রুহুল কবির রিজভীর গ্রেপ্তারের পর দু'মাস ধরে অবরোধ-হরতালের বিষয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন৷ সে কারণেই তাঁকে আটক করা হয়েছে৷''

এ পরিাস্থতিতে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাইকোর্টে তাঁর সন্ধান জানতে চেয়ে একটি রিট আবেদন করেন৷ বৃহস্পতিবার ঐ রিটে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সালাহ উদ্দিন আহমেদের অবস্থান জানানোর আবেদন করা হয়েছে৷

হাইকোর্টের বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত রিটের শুনানি শেষে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে রবিবারের মধ্যে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করে আদালতের সামনে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়৷ একইসঙ্গে আদালত একটি রুলও জারি করে৷ রবিবারের মধ্যে রুলের জবাব দিতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ব়্যাবের মহাপরিচালক, এসবি-র (স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ) প্রধান, সিআইডি-র প্রধান, ডিএমপি-র কমিশনার এবং উত্তরা থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷

এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রদিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়৷ তিনি কোথায় গেছেন, তাঁকে কেউ ধরে নিয়ে গেছে কিনা বা তিনি কোথায় আছেন – এ সব বিষয় আমরা তদন্ত করছি৷''

সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে – এই অভিযোগ অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সালাহ উদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করলে আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হতো৷''

প্রসঙ্গত, গতমাসে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকেও প্রথমে আটকের কথা স্বীকার করেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ পরে আটকের ৩৬ ঘণ্টা পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন