1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

‘কোথায় জল পাই বলতে পারেন?'

মাটির নীচে সবচেয়ে মহামূল্য যে বস্তুটি থাকে, তা হলো পানি৷ সমস্যা হলো: সে পানির খোঁজ পাওয়া যাবে কি করে? বিজ্ঞানীরা সোনোগ্রাম থেকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ, সব কিছুই ব্যবহার করে দেখছেন৷

উর্বর কৃষিক্ষেত্র, চারণভূমি, মুক্ত প্রান্তর৷ তবে যে অমূল্য সম্পদটি রাখা আছে মাটির নীচে, সেটি হলো পানি৷ ভূতত্ত্ববিদরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে মাটির তলায় জলের খোঁজ চালাচ্ছেন৷ এক্ষেত্রে তাঁদের সহায় হল তথাকথিত সিসমিক্স৷ এই প্রক্রিয়ায় মাটির তলায় শব্দতরঙ্গ পাঠিয়ে একটির পর একটি স্তর পরখ করে দেখা হয়৷

পানির খোঁজ শুরু হবার আগে গোটা এলাকাটা ছক কেটে মেপে নেওয়া হয়৷ নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করে তার আর মাপার যন্ত্রগুলো জমির বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়৷ ২০ টন ওজনের ভিব্রোট্রাকগুলি ভাইব্রেশন, অর্থাৎ কম্পনের মাধ্যমে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করে৷ মাটির তলার স্তরগুলিতে ধাক্কা খেয়ে সেই কম্পন আবার ফিরে আসে – গবেষকরা যা থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পান৷ ইঞ্জিনিয়ার ব্যার্ন্ড হিল্ডেব্রান্ড জানালেন, ‘‘আমাদের কাজ করার ধরনটা অনেকটা ডাক্তারের সোনোগ্রাম করার মতো৷ এখানেও শব্দতরঙ্গ পাঠিয়ে, তার প্রতিধ্বনি ধরা হয়৷ তারপর সেই ডাটা একটি দ্বিমাত্রিক কিংবা ত্রিমাত্রিক ছবিতে পরিণত করা হয়৷''

একটি কনটেইনারে বসে শব্দতরঙ্গগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়৷ ডাটা থেকে গবেষকরা দেখতে পান, পাথরের মধ্যে কোথায় পানি আছে৷ মডেলটা সম্পূর্ণ হবার পর দেখা যায়, মাটির চার হাজার মিটার নীচে যে সব পাথরের স্তর রয়েছে, সেই সব স্তরের মাঝে মাঝে পানিও রয়েছে৷

মহার্ঘ পানীয়

ভূতত্ত্ববিদ প্রফেসর টোমাস হিমেল্সবাখ জানালেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা পৃথিবীতে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে৷ এর ফলে লবণাক্ত পানি ক্রমেই ভূখণ্ডের ভিতরে ঢুকে আসছে, যার ফলে আমাদের খাবার জল আর মাটির নীচের পানি প্রভাবিত হচ্ছে৷'' লবণাক্ত পানি থেকে মহার্ঘ পানীয় জল আলাদা করার জন্য বিজ্ঞানীদের আকাশে উঠতে হয়৷ হেলিকপ্টারে লাগানো একটি প্রোব থেকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ পাঠিয়ে জমির কন্ডাক্টিভিটি মাপা হয়৷ ভূতত্ত্ববিদরা এভাবে দেখতে পান, মাটির নীচে কোন ধরনের পানি রয়েছে, লবণাক্ত না বিশুদ্ধ, পানযোগ্য৷ এ থেকে বিশেষ করে সাগরের পানি ঢুকে লবণাক্তকরণের হদিশ পাওয়া যায়৷ পদ্ধতিটি বিশ্বের যে কোনো জায়গায় কাজে লাগানো যায়৷

পরীক্ষাগারে গবেষকরা সিমুলেশন করে দেখেন, মিষ্ট ও লবণাক্ত পানি কিভাবে মাটির নীচে প্রবাহিত হয়৷ দু'ধরনের পানিতে দু'ধরনের রং দেওয়া হয়৷ এই রং থেকে ভূতত্ত্ববিদরা বুঝতে পারেন, মাটির নীচে সাদাজল আর নোনাজল কিভাবে মিশে যায়৷ এটা জানা থাকলে মাটির নীচ থেকে পানীয় জল তোলার সময় খেয়াল রাখা যায় যে, তা-তে যেন কোনো সাগরের পানি মিশে না যায়৷ বিশেষ করে বিশ্বের শুষ্ক অঞ্চলগুলিতে তা জানা খুব জরুরি৷

সম্প্রতি ভূতত্ববিদরা নামিবিয়ায় মাটির নীচে এক সুবিশাল হ্রদের খোঁজ পেয়েছেন৷ সেই পানীয় জল যদি তোলা যায়, তাহলে নামিবিয়ার ৪০ শতাংশ মানুষের ৪০০ বছরের পানির প্রয়োজন মিটবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক