1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কোণঠাসা মালিকি, কুর্দিদের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য

ইরাকের বর্তমান সংকট অবসানের লক্ষ্যে একদিকে কুর্দি এলাকার জন্য মানবিক ও সামরিক সাহায্যের উদ্যোগ চলছে৷ অন্যদিকে ক্ষমতাকেন্দ্রে পালাবদলের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানসূত্রের লক্ষ্যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা যাচ্ছে৷

দেশের পরিস্থিতি সংকটজনক, তা সত্ত্বেও গদি আঁকড়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি৷ সংসদ তাঁর উত্তরসূরি স্থির করে ফেলা সত্ত্বেও তিনি নতুন বাস্তব মেনে নিতে অনড়৷ চারিদিকে শুধু ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন৷ অথচ মালিকি সম্পূর্ণ একঘরে হয়ে পড়েছেন৷ তাঁর নিজের রাজনৈতিক দল ও বৃহত্তর শিয়া জোট তাঁকে বর্জন করেছে৷ এমনকি তাঁর অতীতের ‘স্পনসর' ইরানও ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হায়দার আল-আবাদিকে স্বাগত জানিয়েছে৷ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই এবং ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি আল-সিস্তানি সরাসরি আবাদির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন৷ জাতিসংঘও আবাদির মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়েছে৷ তাঁর আর এক সমর্থক মার্কিন প্রশাসনও বেশ কিছু কাল ধরেই মালিকিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী করে আসছিল৷

আপাতত মালিকির একমাত্র আশা সুপ্রিম কোর্টের রায়৷ তাঁর যুক্তি, সংসদের সবচেয়ে বড় জোট হিসেবে তাঁকেই সরকার গড়তে আমন্ত্রণ জানানো উচিত৷ এই রায় তাঁর বিপক্ষে গেলে অবশেষে তাঁকে হার মানতেই হবে৷

মালিকির প্রায় ৮ বছরের শাসনকালে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বোঝাপড়ার বদলে বিভাজনই প্রকট হয়ে উঠেছে৷ সুন্নিদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে, উত্তরে কুর্দিদের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে৷ এমনকি সংখ্যাগুরু শিয়া সম্প্রদায়কেও ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি মালিকি৷ এই বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সব পক্ষকে নিয়ে এগিয়ে চলতে চান হায়দার আল-আবাদি৷ তিনি নিজের ভবিষ্যৎ প্রশাসনের রূপরেখা স্থির করতে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন৷

ইরাকের ক্ষমতাকেন্দ্রে আসন্ন পালাবদলের মাঝে দেশের উত্তরে চলছে কট্টরপন্থি আইসিস জঙ্গিদের তাণ্ডবলীলা৷ সংখ্যালঘু ইয়াজিদি ও খ্রিষ্টানরা তাদের রোষের শিকার হচ্ছে৷ সরকারি বাহিনী ও কুর্দি পেশমারগা বাহিনী তাদের মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নও অবরুদ্ধ ইয়েজিদিদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে৷ সেইসঙ্গে কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আরও শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগও চলছে৷ ফ্রান্স অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা করেছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পারস্পরিক সমন্বয় করতে বৈঠকে বসবেন৷

তবে মাউন্ট সিনজার-এ আটকে পরা ইয়াজিদিদের উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হবে না বলে মনে করছে মার্কিন প্রসাশন৷ কারণ গত কয়েক দিনে আইসিস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার ফল দেখা যাচ্ছে৷ অনেক মানুষ এই সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে পেরেছে৷ যারা এখনো সেখানে রয়েছে, তাদের অবস্থা তেমন সংকটজনক নয়৷

মার্কিন প্রশাসন সহ পশ্চিমা জগত, ইরান, সৌদি আরব সহ আরব জগত – সব পক্ষই এ বিষয়ে একমত যে, ইরাকের ক্ষমতাকেন্দ্রে পালাবদল ঘটলে বর্তমান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে৷ সরকারে দেশের সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে আইসিস-এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়বে৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়