1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কৈশোরে হাজতবাস, বড় হয়ে বিখ্যাত পরিচালক

খুব অল্প বয়সে থানার হাজতে বন্দি থাকার ঘটনাটি তাঁকে ভয়াক্রান্ত করেছিল৷ পরবর্তিকালে সেই ভয়কে পুঁজি করেই বিশ্বের অসংখ্য দর্শকদের রোমাঞ্চিত করেছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিচকক৷

Alfred Hitchcock

পুরো নাম: স্যার অ্যালফ্রেড যোসেফ হিচকক৷

জন্ম : ১৩ই আগস্ট, ১৮৯৯, লেইটনস্টোন, ইংল্যাণ্ড

মৃত্যু : ২৯শে এপ্রিল, ১৯৮০, লস এঞ্জেলেস

পেশা: চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার

বাবা: উইলিয়াম হিচকক

মা: অ্যামা জেইন

স্ত্রী: অ্যালমা রেভিল (১৯২৬-১৯৮০)

উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি: সাইকো, মার্নি, দ্য বার্ডস

Szene aus Vertigo von Alfred Hitchcock Film Schauspieler

‘ভার্টিগো’

শৈশবে একবার খুব দেরি করে বাড়ি ফিরেছিলেন৷ বাবা রাগ করে একটি চিঠি লিখে বললেন, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তাঁর বন্ধুর হাতে দিতে৷ বাবার সেই পুলিশ বন্ধু চিঠিটা পড়েই হাজতে আটকে দিলেন অ্যালফ্রেডকে৷ দশ মিনিট পরই অবশ্য ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘‘কম বয়সি যারা দেরি করে ঘরে ফেরে, তাদের এরকমই শাস্তি হয়৷'' সেই থেকে পুলিশের প্রতি হিচককের ভয়৷ এ কারণে কখনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেননি, বলতেন, ‘‘গাড়ী চালালেই তো পুলিশের সংস্পর্শে যেতে হবে৷''

জীবনের শেষ অবধি হিচকক ভুলতে পারেননি সেই অভিজ্ঞতা, প্রায়ই উঁকি দিয়েছে তাঁর ছবিতে বিভিন্ন ভাবে৷ যেমন, ‘স্পেলবাউন্ড' ছবির প্রধান চরিত্র একজন ডাক্তার৷ ছোটবেলায় মানসিক আঘাতের ফলে তিনি স্নায়ুরোগে আক্রান্ত এবং প্রায়ই ভাবেন তিনি নিজে একজন হত্যাকারী৷ একসময় দেখা যায় তিনি তা নন৷ প্রায় একই আঙ্গিকের বিখ্যাত ছায়াছবি ‘মার্নি'৷

Szene aus Marnie Alfred Hitchcock Film

‘মার্নি’ ছবির একটি দৃশ্য

এ ছবির প্রধান নারী চরিত্রও মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত৷ ছবির পরিসমাপ্তিতে দেখা যায় তিনি সত্যিই খুব কম বয়সে এক অনিবার্য পরিস্থিতিতে একজন মানুষ হত্যা করেছিলেন৷ হিচককের আরো কিছু ছায়াছবি এধরণের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ধর্মী৷ সবচেয়ে সাড়া জাগানো ছবি ‘সাইকো'৷ কিন্তু এই ছবিকে ঠিক মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ধর্মী বলা যাবে না৷ যদিও ছবির প্রধান চরিত্র –মা ছেলের বিশৃঙ্খল সম্পর্কে চিত্তবিকারগ্রস্ত এক মানুষ৷ তিনি নির্মম এক হত্যাকারী৷ প্রায় একই ধরণের ছবি ‘দ্য বার্ডস'৷ আগ্রাসী এক ঝাঁক পাখি আক্রমণ করে একটি ছোট্ট শহরের বাসিন্দাদের৷ তাঁর বহু ক্লাসিক ছবির ‘মোটিফ' মনস্তাত্ত্বিক, জীবনে ফিরে আসা ভয়, অপরাধ ও অনিশ্চয়তাবোধ এবং নির্দোষীকে হেনস্থা কেন্দ্রিক৷ হিচককের ছবিতে রোমাঞ্চ আর শিহরণের সঙ্গে আছে কিছুটা সূক্ষ্ম হাস্যরস৷ ছবির শৈল্পিক দিকও গুরুত্ব পেয়েছে সমানভাবে৷

Alfred Hitchcock Die Vögel

‘দি বার্ডস’

হিচকক লেইটনস্টোন শহরে বড় হয়েছেন কিছুটা রক্ষণশীল পরিবেশে৷ শাক সব্জি ব্যবসায়ী বাবার সাথে তাঁর খুবএকটা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি৷ পড়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিং৷ পাশাপাশি নিয়েছৈন অঙ্কন চিত্র ও শিল্পকলার শিক্ষা৷ ১৯১৫ সালে একটি টেলিগ্রাফ সংস্থায় চাকরি পান৷সেখানে মাসিক ম্যাগাজিনে ‘হিচ' নামে  প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম রোমাঞ্চকর ছোট গল্প৷ এ সময় ফুলেফেঁপে উঠছিল নির্বাক চলচ্চিত্র শিল্প৷ অঙ্কনে, বিশেষ করে লিপিফলকে পারদর্শী হওয়ায় এ অঙ্গনে ঢোকার সুযোগ পান৷ তারপর থেকেই ধীরে ধীরে সহকারী পরিচালনা, চিত্রনাট্য এবং সেট সেটিংয়ের কাজ শুরু করেন৷

১৯২৫ সালে মুক্তি পায় নিজের পরিচালিত প্রথম নির্বাক ছায়াছবি৷ পরের বছর থেকেই শুরু হয় তাঁর সফল চলচ্চিত্র জীবন৷ নির্বাক থেকে সবাকে পা দিয়েই সিনেমার কলাকৌশলে নতুন নতুন উন্নতির পথ আবিষ্কার করেন হিচকক৷ ১৯৩৯ সালে চলে যান হলিউডে৷ সেখানেই ছিলেন জীবনের শেষ অবধি৷ তাঁর প্রায় ছয় দশকের চলচ্চিত্রের জীবনে ৫৩ টিরও বেশি ছায়াছবি উপহার দিয়েছেন চলচ্চিত্র অনুরাগীদের৷

Flash-Galerie Alfred Hitchcock Psycho

‘সাইকো’

একটা বিশেষত্ব আছে হিচককের ছবিতে৷ প্রায় প্রতিটি ছবিরই প্রথম দিকে কোনো না কোনো দৃশ্যে দেখা যায় তাঁকে৷ হয়তো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, অথবা খবরের কাগজ কিনছেন, কিংবা  স্টেশনে দাড়িয়ে কারো জন্য অপেক্ষা করছেন৷ হিচকক বলেছিলেন, ‘আমার জন্যই দর্শকরা ছবি দেখতে যান, অতএব, আমাকেও তো তাঁদের দেখতে হবে৷'' টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন হিচকক৷

বিংশ শতাব্দির সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র নির্মাতা হিচকককে ১৯৮০ সালে, তাঁর মৃত্যুর তিন মাস আগে ইংলেণ্ডের রাণী এলিজাবেথ নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন৷ আজো অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতার আদর্শ স্যার অ্যালফ্রেড যোসেফ হিচকক৷