1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

কে হবেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী?

জয়ললিতা প্রয়াত হবার পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন- এ নিয়ে রাজ্যের শাসক দলে চলছে চরম উত্তেজনা৷ শশিকলা, নাকি পনীরসেলভম? এই প্রশ্নে এআইএডিএমকে দ্বিধাবিভক্ত৷

তামিলনাড়ুর শাসক দল আইএডিএমকে-এর জেনারেল সেক্রেটারি শশিকলা, নাকি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভম- কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? এ নিয়ে দুই শিবিরে চলছে শক্তি পরীক্ষা৷ সবার নজর এখন রাজ্যপালের দিকে৷

ভারতের দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক নাটক  এ মুহূর্তে দুই প্রধান চরিত্রকে নিয়ে বেশ জমে উঠেছে৷ একদিকে আছেন জয়ললিতার দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী, তথা দলের জেনারেল সেক্রেটারি শশিকলা নটরাজন এবং অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভম৷ জয়ললিতার মৃত্যুর পর একটা সময় জানিয়ে দেওয়া হয়, শশিকলাই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন৷ সেইমতো বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভমকে ইস্তফা দিতে বলা হয়৷ কিন্তু রাজ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাও চলে আসেন দিল্লিতে কেন্দ্রের সঙ্গে সাংবিধানিক ইস্যু নিয়ে পরামর্শ করতে৷ তিনি মুম্বাইতেও যান৷ কারণ, তিনি মহারাষ্ট্রেরও রাজ্যপাল৷ বৃহস্পতিবার তাঁর চেন্নাই ফেরার কথা৷ কাজেই শপথ গ্রহণ আটকে থাকে৷ এখান থেকেই শুরু হয় জল্পনা৷ তৈরি হয়, একটা অনিশ্চয়তার বাতাবরণ৷ দেখা দেয় শশিকলাকে নিয়ে আইনি জটিলতা, কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলা সুপ্রীম কোর্টের বিচারাধীন৷ রায় হবার কথা আগামী সপ্তাহে৷ তার আগে শপথ নিলে মামলায় রায় যদি শশিকলার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে৷

অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনাত্রা কাড়াগাম (এআইএডিএমকে)-র  একাংশ আওয়াজ তুলেছে জয়ললিতার পছন্দের প্রার্থী পনীরসেলভমকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হলো কেন? অভিযোগ, শশিকলা নাকি ২০১১ সালে জয়ললিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন৷ সেজন্য তাঁকে দল থেকে সরিয়েও দেওয়া হয় এবং রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেু বলা হয়৷ কিন্তু জয়ললিতার মৃত্যুর পর শশিকলা তড়িঘড়ি দলের এবং সরকারের কর্তৃত্ব নিজের হাতে নিতে চাইছেন কেন? আগামী সপ্তাহে শীর্ষ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলার রায় জানা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতে পারছেন না কেন? জয়ললিতার মৃত্যু-রহস্য নিয়েও শশিকলার দিকে আঙুল উঠেছে৷

গুঞ্জন যে, জয়ললিতার মৃত্যু জন্য দায়ী শশিকলা৷ হাসপাতালে থাকাকালীন নিকটজন বা আত্মীয়-পরিজনকে জয়ললিতার কাছে ঘেঁষতে দেননি শশিকলা, যেহেতু শশিকলা ৩৩ বছর জয়ললিতার বাসভবনে একই সঙ্গে থাকতেন৷ অভিযোগকারীদের মধ্যে আছেন জয়ললিতার ব্যক্তিগত চিকিত্সক এবং তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার৷ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভম বলেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে আবার শপথ নেবার পর জয়ললিতার মৃত্যু -বিতর্ক নিরসনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আদেশ দেবেন৷

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে দলের মধ্যে দড়ি টানাটানি প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক উদয়ন বন্দোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে যা বললেন, তার মর্মার্থ হলো, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভমই জয়ললিতার পছন্দের প্রার্থী৷ জয়ললিতা আয়বহির্ভূত মামলায় কিছুদিন যখন জেলে ছিলেন, তখন পনীরসেলমকেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছিলন৷ অসুস্থ থাকার সময়েও পনীরসেলভমকেই তিনি দলের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন৷ কাজেই জয়ললিতার আস্থাভাজন প্রার্থী তাঁকেই বলা যায়৷ তবে এই যে ভুঁইফোড় হয়ে শশিকলা সর্বেসর্বা হতে চাইছেন, সেটা তামিল রাজনীতির পুরানো ঘরাণা৷ সেই আন্নাদুরাই-এর আমল থেকেই উত্তরাধিকারের দ্বন্দ্ব চলে আসছে৷ আন্নাদুরাই-এর রাজনৈতিক উত্তরারাধিকারী কে হবেন, তাই নিয়ে এম.জি রামচন্দ্রন এবং করুণানিধির মধ্যে টক্করের ফলে দল দু টুকরো হয়৷ সৃষ্টি হয় ডিএমকে আর এআইএডিএমকে৷

রাষ্ট্রবিজ্ঞানি অধ্যাপক উদয়ন বন্দোপাধ্যায় আরো বলেন, ‘‘ নৈতিকতার প্রশ্নে শশিকলার উচিত তাঁর বিরুদ্ধে মামলার রায় বের হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা৷’’ রাজ্যপালের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ডিএমকে বা এআইএডিএমকে কেউই বিজেপির কাছের নয়৷ দরকার মতো বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী যে কোনো পক্ষকে সমর্থন করতে পারে৷ আর যদি তা না হয়, তাহলে রাজ্যপালকে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনও চাইতে পারে কিংবা বিজেপির বিশ্বাসভাজন কাউকে প্রার্থী করতে পারেন৷

মুখ্যমন্ত্রী পদে ১৩৪ জন বিধায়কের সমর্থন আছে বলে দাবি করেছেন শশিকলা৷ পাছে ‘ঘোড়া বেচাকেনা’ না হয়, তার জন্য বিধায়কদের এক রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়৷ আর চেন্নাইতে তাঁর সমর্থকদের মিছিল বের করা হয়৷ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভাম ইস্তফা দেবার পর হঠাত বিদ্রোহ করলেন কেন?  শশিকলার বক্তব্য, তাঁকে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ইন্ধন জুগিয়েছে বিরোধিদল ডিএমকে৷

গত মঙ্গলবার মেরিনা সৈকতে জয়ললিতার সমাধিস্থলে ধ্যানমগ্ন হলেন, পরে বললেন, বিবেকের দংশনেই তিনি সমাধিস্থলে ধ্যান করেন৷ জয়ললিতার আত্মাই তাঁকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হবার নির্দেশ দেয়৷ পনীরসেলভামের দাবি, তিনি বিধানসভাতেই তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন৷ তাঁর মতে, শশিকলা রাজনৈতিক সুবিধাবাদী৷ দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনো জড়িত ছিলেন না বা প্রশাসনিক কোনো অভিজ্ঞতাও তাঁর নেই৷ একমাত্র যোগ্যতা, তিনি জয়ললিতার সঙ্গে ঘর করতেন৷

মোটকথা, এখন সবার চোখ রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাওয়ের দিকে৷ দেখা যাক, তিনি তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব কিভাবে পালন করেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়