1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কে এই হামজা বিন লাদেন?

আল-কায়েদার পোস্টার বয় থেকে আল কায়েদার আগামী নেতা বলে যার নাম শোনা যাচ্ছে, ওসামা বিন লাদেনের পুত্র সেই হামজা বিন লাদেনকে সদ্য ‘‘গ্লোবাল টেররিস্ট'' হিসেবে ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷

হামজা বিন লাদেনের খুব বেশি ছবি দেখতে পাওয়া যাবে না৷ যেগুলো আছে, সেগুলোও ২০০০ সালের কাছাকাছি সময়ে তোলা৷ তখন ওসামা বিন লাদেনের ছেলের বয়স ১২ বছর৷ মাথায় পাগড়ি, গায়ে মিলিটারি কামোফ্লেজের  ভেস্ট, তরুণ হামজা একটি ঘোষণা পড়ে শোনাচ্ছে যেন সে ইতিমধ্যেই আল-কায়েদার একজন মুখপাত্র হয়ে উঠেছে৷ অন্যান্য ছবিতে কখনো সে গুলিতে ঝাঁঝরা উইন্ডশিল্ডের পিছনে অফ-রোড ভেহিকলে বসে, কখনো পাথুরে জমিতে  মেশিন গান হাতে ৷

হামজা বিন লাদেনের যাত্রা তাকে আজ তার বাবার পর্যায়ে এনে দিয়েছে: এ বছরের সূচনায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাকে ‘‘ইন্টারন্যাশনাল টেররিস্ট'' বা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছে৷

দাম বাড়ল

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ওঠার ফলে স্বভাবতই আল-কায়েদার স্ট্র্যাটেজিস্টদের কাছে হামজা বিন লাদেনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কর্তৃত্ব বাড়ল৷ ঐ তালিকায় শত শত নাম থাকা সত্ত্বেও, ওসামা বিন লাদেনের সন্তানের নাম স্বভাবতই চোখে পড়বে৷ আল-কায়েদা সংগঠন অবশ্যই হামজার এই ‘সম্মাননায়' সুখি৷

২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন বিশেষ মার্কিন সেনাদের হাতে মিহত হবার পর আয়মান আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব নেন৷ কিন্তু মিশরীয় আল-জাওয়াহিরির বিন লাদেনের মতো ব্যক্তিত্ব না থাকার কারণে, ওসামা বিন লাদেনের ক্যারিসম্যাটিক পুত্র হামজা বিন লাদেনকে আল-কায়েদার নেতৃপদে দেখতে অনেক সদস্যেরই আপত্তি না থাকারই কথা৷

হামজার পুরনো ছবিগুলো থেকেই দেখা যায় যে, বাবার কাছে তার দীক্ষা হয়েছে, আল-কায়েদার আদর্শ তার মজ্জায় মজ্জায়৷ বড় হবার পরে সে আল-কায়েদার কার্যকলাপে আরো বেশিভাবে জড়িয়ে পরে৷ ২০০৫ সালের একটি ভিডিও-তে দেখা যায়, হামজা কীভাবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আক্রমণে অংশ নিচ্ছে৷

হামজার বার্তা

বিগত কয়েক বছর ধরে হামজা বিন লাদেনকে আল-কায়েদার একজন নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যাচ্ছে৷ ২০১৫ সালের আগস্ট মাসের একটি অডিও বার্তায় হামজা তার অনুগামীদের প্রতি আল-কায়েদার সংগ্রামকে ওয়াশিংটন, লন্ডন, প্যারিস ও তেল আভিভে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে৷

২০১৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত আরেকটি অডিও বার্তায় হামজা ঘোষণা করে যে, ‘‘পবিত্র সিরীয় বিপ্লব'' জেরুসালেমের ‘‘মুক্তি''-কে আরো সম্ভাব্য করে তুলেছে৷ সেই মাসেই আল-কায়েদা নেতা আল-জাওয়াহিরি ঘোষণা করেন যে, তরুণ হামজাকে সংগঠনের নেতৃমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ সেই পদ থেকে হামজা বিন লাদেন ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত আরেকটি অডিও বার্তায় ঘোষণা করে যে, ‘‘উই আর অল ওসামা'', ‘আমরা সকলেই ওসামা'৷ সেই বার্তাতেই হামজা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয় যে, তার বাবাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে৷

আইএস-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা

হামজার এই সব বার্তার অর্থ, আল-কায়েদা নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা জোরদার করছে, কেননা ইসলামিক স্টেট যেখানে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েছে, আল-কায়েদার লক্ষ্য তার চেয়ে অনেক কম উচ্চাভিলাষী৷ আল কায়েদার লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা, বিশেষ করে মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতির অবসান ঘটানো৷

আইএস-এর আরেকটি ট্রেডমার্ক হলো তাদের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা, যার মধ্যে শিরচ্ছেদ থেকে শুরু করে ধর্ষণ অবধি সব কিছু পড়ে৷ আইএস-এর নিষ্ঠুরতার ভিডিওগুলিই আবার তাদের নতুন রংরুট এনে দেয়৷

এখন প্রশ্ন হলো, হামজার নেতৃত্বে আল কায়েদাও সেই পথেই যাবে কিনা৷

ক্যার্স্টেন ক্নিপ/এসি

বন্ধু, আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়