1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কেন বিবিসি সাংবাদিককে বহিষ্কার করল উত্তর কোরিয়া?

ব্রিটিশ প্রচারমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের এক প্রতিবেদককে আটকের পর আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বহিষ্কার করেছে৷ দেশটির ‘মর্যাদাকে অপমান' করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে৷

বিবিসি বলছে, তাদের টোকিও প্রতিনিধি রুপার্ট উইংফিল্ড-হেইস আরও দুই সহকর্মী সহ শুক্রবার উত্তর কোরিয়া ত্যাগের জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন৷ সেই সময় তাঁকে আটক করা হয়৷

বিবিসির আরেক প্রতিনিধি জন সাডওয়ার্থ জানান, ‘‘আটকের পর তাঁকে (হেইস) হোটেলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ এরপর একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর নিয়ে শনিবার সকালে ছেড়ে দেয়া হয়৷''

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হেইসকে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ সেই সময় তাঁকে পিয়ংইয়ং-এর একটি হাসপাতাল নিয়ে করা তাঁর প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়৷ ঐ প্রতিবেদনে হেইস পরিদর্শন করা হাসপাতালটি ‘আসল' কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন৷

শুক্রবার হেইসকে আটকের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রডিউসর মারিয়া বির্নে ও ক্যামেরাম্যান ম্যাথিউ গোদার৷ কর্তৃপক্ষ এই দু'জনকে উত্তর কোরিয়া ত্যাগের অনুমতি দিলেও সহকর্মীকে আটক করায় তাঁরা যেতে চাননি৷ সোমবার এই তিনজনকে উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করতে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়৷

খবর প্রকাশ করতে চায়নি বিবিসি

বিবিসি প্রতিবেদককে নিয়ে এই ঘটনাটি বিবিসি প্রথম প্রকাশ করেনি৷ আটককৃতদের নিরাপত্তার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জন সাডওয়ার্থ৷ তবে সোমবার সকালে খবরটি প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়ার ‘ন্যাশনাল পিস কমিটি' কর্তৃপক্ষ৷ তাদের বরাত দিয়ে চীনের সরকারি সিনহুয়া বার্তা সংস্থা জানায়, ‘ডিপিআরকে-র (উত্তর কোরিয়াকে এই নামেও ডাকা হয়) ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে' প্রতিবেদন প্রকাশ করায় হেইসকে বহিষ্কার করা হয়েছে৷ উত্তর কোরিয়ার ন্যাশনাল পিস কমিটির মহাসচিব ও রিওং টু জানান, হেইস তাঁর প্রতিবেদনে বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করেছেন৷ বিবিসির ঐ প্রতিনিধি উত্তর কোরিয়ায় আর প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি৷

৩৫ বছর পর কংগ্রেস

বিবিসির প্রতিবেদককে আটক ও বহিষ্কারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন দেশটিতে প্রায় ১৩০ জনের মতো বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন৷ শাসক দল ওয়ার্কাস পার্টির কংগ্রেস কভার করতে উত্তর কোরিয়া তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে৷ বিবিসির বহিষ্কার হওয়া সাংবাদিক অবশ্য এই আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন না৷ গবেষণার উদ্দেশ্যে একদল নোবেল জয়ীর উত্তর কোরিয়া সফর কভার করতে তিনি আগে থেকেই উত্তর কোরিয়ায় ছিলেন এবং কংগ্রেস অনুষ্ঠানের মধ্যেই শুক্রবার তিনি উত্তর কোরিয়া ছাড়তে চেয়েছিলেন৷

এদিকে, ১৯৮০ সালের পর আয়োজিত কংগ্রেসের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিদেশি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও কংগ্রেস যে ভবনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে তাঁদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না৷ এর বদলে ঐ সাংবাদিকদের পিয়ংইয়ং-এর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ ফলে কংগ্রেস সংক্রান্ত খবরগুলো জানতে দেশটির সরকারি প্রচারমাধ্যমের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে৷ এমনই এক সূত্র জানিয়েছে, কংগ্রেসের তৃতীয় দিন রবিবার দেশটির নেতা কিম জং উন তিন ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য দিয়েছেন৷ সেই সময় তিনি বলেন, আক্রমণের শিকার না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দেশ কারও উপর পরমাণু হামলা চালাবে না৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন