1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘কেউ কোনো দিন এত টাকা আয় করতে পারেনি'

সাত বিলিয়ন ডলার বা ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে সাত গাড়ি দেহরক্ষী নিয়ে দুদক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমশের৷

অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক কার্যালয়ে মুসাকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি সাত বিলিয়ন ডলার বা ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছি৷ কেউ কোনো দিন এত টাকা এ দেশে আয় করতে পারেনি, পারবেও না৷ আমি এই টাকা বিদেশে উপার্জন করেছি বিদেশে৷ দুদক আমাকে ডেকেছে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক বিধায় আমি দেখা করে এসেছি৷''

মুসার জাঁকজমকপূর্ণ চালচলনের কারণে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘বাংলাদেশের প্রিন্স' বলা হয়৷ আলোচিত এই ব্যবসায়ীকে নিয়ে খবরটি অন্যন্য সংবাদমাধ্যমের মতো ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় স্থান পেয়েছিল৷

এতে সাড়া দিয়েছেন অনেক বন্ধু৷ যেমন নিয়াজ হাবিবের মন্তব্য, ‘‘বেয়াইয়ের সাথে মনে হয় সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছে না, এরা বেয়াইকেও ছাড়ে না৷ টাকার জন্যে সব করতে পারে৷ এরই নাম আওয়ামী লীগ৷''

Schweiz Frank Banknoten

সুইশ ব্যাংকে টাকা রাখাটা কোনো এক দেশের কোটিপতির পেটোয়া নয়

বাবা আহসান শাহ নিশ্চিত হয়ে বলছেন, ‘‘মুসা বিন শমশের তো আর আজকের ধনী না, অনেক আগে থেকেই তিনি ধনী৷''

ধনী মুসার কাছে ফাহিম কিবরিয়া, মোয়েলসহ বেশ কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর আবদার, ‘‘আমাদের কিছু দান করেন''!

সামছিয়া বিনির মন্তব্য, মুসা ঠিকই বলছেন, ‘‘এত টাকা বাংলাদেশে রোজগার করা যায় না৷ তবে বাংলাদেশ থেকে চুরি করে অন্য দেশে নেওয়ার যায়৷'' প্রায় একই মন্তব্য নাজমুল সিকদারেরও৷

অন্যদিকে আরেকজন ফেসবুক অনুসারী জ্যোতির্ময় সাহা অভি মজা করে ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘টাকাগুলা এক জায়গায় মাটি খুড়ে গর্তে রেখে দিন৷ তার পর মাটি বসিয়ে ধানের আবাদ করুন৷ ধানের শীষ ওপরে থাকলে কেউ বুঝবে না যে কত টাকা নীচে আছে৷''

উজ্জ্বল ভাটির মনে করেন, অস্ত্র এবং মাদক ব্যবসা ছাড়া এত টাকা কেউ রোজগার করতে পারে না৷

মিজান মোহাম্মদ মনে করেন, মুসা বিন শমশেরের মতো লোকের প্রয়োজন আছে৷

দুলাল উদ্দিন মনে করেন, ‘‘বাংলাদেশে যতদিন সম্পদের সুসম বণ্টন না হবে, ততদিন উন্নত জাতি হিসেবে পৃথিবীতে দেশকে তুলে ধরতে পারবো না৷ বাংলাদেশের সম্পদ হলো কিছু লোকের কাছে কুক্ষিগত৷''

বাংলাদেশের আলোচিত ধনী ব্যক্তি মুসা বিন শমশেরকে সাজ্জাদ প্রামাণিক এবং জাহাঙ্গীর আলম স্যালুট করেন, শ্রদ্ধা করেন জানিয়েছেন ফেসবুকে৷ আর ফেসবুকের পাঠক কাওসার রাজু মুসা বিন শমশেরের মতো হবার স্বপ্ন দেখেন৷ তিনি তাঁর চেয়েও বেশি টাকা রোজগার করতে চান৷

শামীন আক্তার এবং মোহাম্মদ আলম মুসা বিন শমশেরকে দেশের জন্য কিছু করার পরামর্শ দিয়েছেন৷

Bildergalerie Kinderarmut Bangladesch Armut Weltkindertag

এরাও একই দেশের নাগরিক

মনতোষ সুতের বলছেন, ‘‘আমাদের সবার মুসা ভাইয়ের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত, যাতে সুইস ব্যাংকের টাকা কোন ঝামেলা ছাড়া মুসা ভাই আবার টাকা ফিরে পায়৷ মুসা ভাইই দেশের সবচেয়ে বড় ধনী৷''

মো. শরীফুল ইসলাম খন্দকার মুসা বিন শমশেরকে ধন্যবাদ দিয়ে বলছেন, ‘‘মুসা ভাই এগিয়ে যান৷''

মুসা সাহেব টাকা রোজগার করেছেন বিদেশে, সে টাকা নিয়ে দুদক-এর মাথা ব্যথা কেন – সেটাই বুঝতে পারছেন না পাঠক শাহীন৷ তবে তাঁর অনুরোধ, এত টাকা থেকে দেশের জন্য কিছুটা খরচ করা হোক৷

বাংলাদেশের আলোচিত ধনী ব্যক্তি মুসা বিন শমশের নিজেই কিন্তু বলেছেন, ‘‘সুইস ব্যাংকে আটকে থাকা ওই টাকা উদ্ধার করা গেলে পদ্মা সেতু, দুঃস্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষকসহ সামাজিক গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখব৷ সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করব৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন