1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কৃষ্ণকেশীর বিশ্ব সুন্দরী খেতাব জয়

অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবছরের বিশ্ব সুন্দরীর মুকুটটি জয় করে নিলেন মেক্সিকোর ২২ বছরের তরুণী হিমেনা নাভারিতা৷ ২৩ আগস্ট অ্যামেরিকার লাসভেগাসে এক জমজমাট অনুষ্ঠানে ঘোষিত হল বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার ফলাফল৷

default

সবাইকে অবাক করে দিয়ে কৃষ্ণকেশী, শ্যামাঙ্গী হিমেনা জয় করলেন হীরা খচিত বিশ্বের সেরা সুন্দরীর মুকুটটি

‘‘আমি চাই সমগ্র বিশ্ব আমার দেশ ও মানুষের কথা জানুক৷'' বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় জয়ের মুকুটটি মাথায় পরে উচ্ছ্বাসভরে এই মন্তব্য করেন মেক্সিকোর সুন্দরী হিমেনা নাভারিতা৷ আর উচ্ছ্বাস হবে নাই বা কেন? বিভিন্ন দেশের ৮২ জন সুন্দরীকে হারিয়ে তবেই না পেয়েছেন তিনি এই জয়ের মুকুট৷

হিমেনা হলেন দ্বিতীয় মেক্সিকান, যিনি বিশ্ব সুন্দরীর খেতাবটি পেলেন৷ তাঁর আগে ১৯৯১ সালে মেক্সিকোর লুপিতা জোন্স হয়েছিলেন বিশ্ব সুন্দরী৷ এবারের প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ হয়েছেন মিস জ্যামাইকা ইয়েন্দি ফিলিপ্স এবং তৃতীয় স্থান দখল করেন মিস অস্ট্রেলিয়া জেসিন্টা ক্যাম্পবেল৷ অনেকে মনে করেছিলেন মিস আয়ারল্যান্ড, মিস ভেনেজুয়োলা বা মিস অ্যামেরিকা পাবেন বিশ্বের সেরা সুন্দরীর খেতাবটি৷ কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে কৃষ্ণকেশী, শ্যামাঙ্গী হিমেনা জয় করলেন হীরা খচিত বিশ্বের সেরা সুন্দরীর মুকুটটি৷ আর এটি তাঁকে পরিয়ে দিলেন গত বছরের বিশ্ব সুন্দরী ভেনেজুয়েলার স্তেফানিয়া ফার্নান্দেজ৷

চূড়ান্ত পর্বে আসতে প্রতিযোগীদের বেশ কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়েছিল৷ শুধু দৈহিক সৌন্দর্য নয়, মেধা ও বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হয়েছে তাঁদের৷ সুইমিং কস্টিউম ও ইভিনিং গাউন পরে হাঁটতে হয়েছে সুন্দরীদের৷ সম্মুখীন হতে হয়েছে সাক্ষাৎকারের৷ ৮৩ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই করে প্রথমে ১৫ জনকে সেমি ফাইনালে আনা হয়৷ এরপর ধাপে ধাপে ১০ ও ৫ জনে এসে নামে সংখ্যাটা৷ অবশেষে এই পাঁচ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচিত করা হয় বিশ্বের সেরা সুন্দরীকে৷ নির্বাচিত করা হয় হিমেনাকে৷

Jimena Navarrete Miss Universe 2010

হিমেনা হলেন দ্বিতীয় মেক্সিকান, যিনি বিশ্ব সুন্দরীর খেতাবটি পেলেন

হিমেনা নাভারিতার জন্ম ১৯৮৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যের গুয়াদালাহারায়৷ ১৫ বছর বয়স থেকে মডেলিং করছেন তিনি৷ আলোঝলমল ভুবন তাঁর কাছে খুব একটা অপরিচিত নয়৷ তবে বিশ্ব সুন্দরীর জগৎটা অবশ্যই আরো অনেকখানি বড়৷ তাই তো বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব পাওয়ার পর লাল ইভিনিং ড্রেস পরা হিমেনা আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, ‘‘আমি বিস্মিত, অভিভূত৷ আমি কিছুই বলতে পারছিনা৷ আমার মনে কিছুই আসছেনা৷ এ যেন এক বিস্ময়ের ধাক্কা৷'' পরে অবশ্য নিজেকে সামলে নিয়ে হিমেনা বলেন, ‘‘আমি কল্পনায় দেখতে পাচ্ছি, মেক্সিকোয় মানুষরা এই মুহূর্তে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছে৷ আমি নিজেকে খুব গর্বিত মনে করছি৷ নিশ্চয়ই আমার দেশের মানুষরাও খুব গর্ববোধ করছে৷''

শুধু সৌন্দর্য নয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েও এই তরুণী নজর কাড়েন জুরিদের৷ শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার করা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে হিমেনা জানান, ‘‘ইন্টারনেট এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় এক মাধ্যম হয়ে উঠেছে৷ কিন্তু বাচ্চাদের এটি ব্যবহার করতে দিলে সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে মা বাবার এবং অবশ্যই তাদের পারিবারিক মূল্যবোধও শেখাতে হবে৷''

মিস ইউনিভার্সের মুকুট পাওয়ার পর আরো কিছু পুরস্কারও মেক্সিকোর এই সুন্দরী তরুণীর হাতে এসে যাচ্ছে৷ নিয়ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে এক বছরের জন্য বৃত্তি দেওয়া হবে তাঁকে৷ সেখানে তিনি বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন বিলাসবহুল এক অ্যাপার্টমেন্টে৷ পাবেন এক বছরের জন্য পোশাক, জুতা ও চুলের সাজসজ্জার নানা সামগ্রী৷ ভবিষ্যতে পুষ্টি-বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছা হিমেনা নাভারিতার৷ এছাড়া মিস ইউনিভার্স হিসাবে স্তন ক্যান্সার ও এইডস রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয় হতে চান তিনি৷ হিমেনা নাভরিতার এই জয়ের খবর পেয়ে তাঁকে টুইটারে অভিনন্দন জানানোর সুযোগটি হাতছাড়া করেননি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ কালডেরন৷ এ বিষয়ে তাঁর অনুভূতি জানাতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট কালডেরন বলেন, ‘‘এই বিজয় মেক্সিকোর সব মানুষের জন্য গর্ব ও সন্তুষ্টি নিয়ে এসেছে৷''

উল্লেখ্য, মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫২ সালে৷ ইতোমধ্যে এটি বিশ্বের এক সেরা আকর্ষণীয় ইভেন্টে পরিণত হয়েছে৷ এ পর্যন্ত অ্যামেরিকার সুন্দরীরা সাত বার মিস ইউনিভার্সের মুকুট জয় করেছেন৷ ভেনিজুয়েলার হাতে এসেছে ছয় বার এই খেতাব৷ ১৯৬১ সালে জার্মানি একবারই বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জয় করেছিল৷ আর সেটা পেয়েছিলেন মার্লেনে শ্মিট৷ ভারতের সুন্দরীদের হাতে দুবার এসেছিল এই খেতাব৷ ১৯৯৪ সালে সুস্মিতা সেন ও ২০০০ সালে লারা দত্ত পেয়েছিলেন বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

ইন্টারনেট লিংক