1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

কৃষিজমির উর্বরতা ফেরাতে প্রয়োজন জৈব চাষ

ক্রমাগত রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাড়ায় কমে যাচ্ছে কৃষিজমির উর্বরতা৷ এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অনেক অঞ্চলের মাটিতেই ন্যূনতম ৩.৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকার কথা থাকলেও সেখানে এর পরিমাণ এক শতাংশেরও নীচে৷

এর ফলে কৃষি জমি হারাচ্ছে জৈবিক গুণাবলী৷ ফসলের উৎপাদন আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কৃত্রিম সারের ওপর৷ এ সব তথ্যের প্রমাণ মিলল বছর কয়েক আগে যখন পেশাগত কাজে উত্তরাঞ্চলে গেলাম৷

কৃষির ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কি পড়েছে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির জন্য মাঠ পর্যায়ের তথ্য দরকার ছিল৷ রংপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলো৷ প্রতিবেদনের জন্য তাঁদের দেয়া প্রয়োজনীয় নানা তথ্যের মধ্যে দিন দিন কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাওয়ার কথাও জানালেন কৃষকেরা৷

নজির তাঁদেরই একজন৷ ২৫ কি ২৬ বছর বয়সি ছিপছিপে এই তরুণ কৃষক কাজ করছিলেন মাঠে৷ শীতের সবজির বীজ বোনার কিছুদিন পর ক্ষেত নিড়ান দিচ্ছিলেন৷

কথা বলতে গিয়ে জানা গেল, ছোটবেলায় নজিরের বাপ-চাচারা যেভাবে চাষ করতেন এখন সার ব্যবহার ও চাষ পদ্ধতিতে কিছুটা বদলেছে৷

এমনকি ক'বছর আগেও যতটা সার লাগত, এখন তার চেয়ে বেশি লাগছে৷ নতুন নতুন রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে৷ আর ফলনও সন্তোষজনক নয়৷ সব মিলিয়ে তাঁর খরচ বেড়েছে৷

খরচ বাড়ার কথা জানিয়েছেন আরেক কৃষক আবিদ মিয়ারও৷ প্রৌঢ় এই কৃষক তাঁর সবজি ক্ষেতে কীটনাশক ছিটাচ্ছিলেন৷ তিনিও জানালেন, আগের চেয়ে কীটনাশক বেশি দিতে হয়৷ কারণ রোগ বালাই বেড়েছে৷

দু'জনই একটি বিষয়ে একমত যে, ভালো ফলনের জন্য আগে যতটা খরচ আর শ্রম দিতে হত, এখন তার চেয়ে বেশি দিতে হয়৷ অর্থাৎ সমৃদ্ধ ফলনের জন্য জমির প্রাকৃতিক সক্ষমতা কমছে৷ প্রশ্ন হলো, এর কারণ কী?

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ হেক্টর৷ আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ সাড়ে ৮৫ লাখ হেক্টর৷

প্রায় দেড় কোটি কৃষি পরিবার এই জমির প্রায় শতকরা ৮৮ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে৷ এদের অধিকাংশই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক৷

বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি আদর্শ জমিতে জৈব পদার্থের মাত্রা ৩.৫ শতাংশ থাকা বাঞ্ছনীয় হলেও এ দেশের বেশির ভাগ জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ ১-১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং কিছু কিছু জমিতে এর পরিমাণ ১ শতাংশের চেয়েও কম৷

এর মধ্যে ৩৭ লাখ হেক্টর জমিতে ফসফরাস, ২৭ দশমিক ২ লাখ হেক্টর জমিতে পটাশিয়াম, ৩৩ দশমিক ১ লাখ হেক্টর জমিতে গন্ধক, ২৭ দশমিক ৫ লাখ হেক্টর জমিতে দস্তা, ২৪ দশমিক ৯ লাখ হেক্টর জমিতে বোরন, ৩৫ দশমিক ৬ লাখ হেক্টর জমিতে অত্যাধিক থেকে অধিক অম্লের অভাব রয়েছে৷ এছাড়া অনেক জমিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব৷

কৃষিবিদদের মতে, বেশি ফলন পাবার আশায় বেশি বেশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন কৃষকেরা৷ এতে জমির জৈব পদার্থ কমে যায়৷ হারিয়ে যায় উর্বরা শক্তি৷

আরো কারণ আছে৷ বেশি লাভের আশায় একই জমিতে একই ফসল বারবার চাষ করেন অনেকেই৷ কিন্তু জমির উর্বরা শক্তি ঠিক রাখতে প্রয়োজন নানা ধরনের ফসল চাষ৷ উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ফসল চাষও জমির উর্বরতা কমার কারণ৷

যুবায়ের আহমেদ

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

এমনিতেই প্রতিদিন কমছে আবাদি জমির পরিমাণ৷ এক হিসেবে দেখা যায়, দিনে দুই হাজার বিঘা জমি কৃষি থেকে অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে৷ তামাক ও চিংড়ি চাষের ফলেও প্রতি বছর ২৪ হাজার বিঘা জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে৷

এছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাস ও নগরায়নের প্রয়োজনে অবকাঠামো নিশ্চিত করতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি৷ হিসেব অনুযায়ী, গত ১১ বছরে ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ একর কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়ায় কমে গেছে ধান চাষ৷

এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কৃষিজমির উৎকৃষ্ট ব্যবহার৷ সেক্ষেত্রে জৈব পদ্ধতিতে চাষ সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে৷

এই পদ্ধতির সুবিধা হলো, এতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় স্বল্পমাত্রায়৷ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব বালাইনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজির উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব৷

জৈব সার রাসায়নিক সারের চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ খরচ কমায়৷ তবে এর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে যেহেতু হরমোন বা কৃত্রিম সার ব্যবহৃত হয় না, তাই আখেরে দাম একটু বেশিই পড়ে৷

এছাড়া ফরমালিন জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার না করায় সংরক্ষণ ব্যয়ও বেশি৷ তবে সব মিলিয়ে বাড়তি এ খরচ ১০ থেকে ২০ ভাগের বেশি নয়৷

সে হিসেবে অজৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত আলু দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা হলে, জৈব পদ্ধতিতে ২২ থেকে ২৪ টাকা হবার কথা৷ এসব চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক যে মাত্রার স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে তার তুলনায় বাড়তি এ দাম খুব বেশি কিছু কি?

এ সম্পর্কে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়