1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

কৃষকদের ‘চাবুক' মারছেন ‘অন্ধ', ‘কালা' মোদী

৩৮ দিন ধরে মোদীর উদ্দেশ্যে নিজেদের কথা বলছেন তাঁরা৷ কিন্তু মোদী শুনছেন না৷ অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ করছেন, যাতে মোদীর নজরে পড়ে৷ অথচ মোদী দেখছেন না৷ মোদী নাকি উল্টে চাবুক মারছেন কৃষকদের৷

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ভয়াবহ খরায় আক্রান্ত৷ ফসলের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক৷ তাই অনেক দিন ধরেই সরকারের কাছে ঋণ মওকুফ এবং খরার জন্য বিশেষ অর্থ অনুদানের দাবি জানাচ্ছিলেন কৃষকরা৷ কিন্তু সরকার অনড়৷

তামিলনাড়ৃতে থেকে দাবি আদায় সম্ভব নয় বুঝে সেই রাজ্যের অনেক কৃষকই ৩৮ দিন আগে চলে যান রাজধানী নতুন দিল্লিতে৷ শুরু হয় নানা উপায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সহানুভূতি আদায় করে দাবি পূরণের চেষ্টা৷ অস্তিত্ব রক্ষার প্রাণান্ত চেষ্টা থেকে যন্তরমন্তর এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিনব সব উপায়ে শুরু করেন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ৷

গত কয়েক বছরে ভারতের খরা উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকায় যেসব কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের স্মরণ করে, সেরকম পরিণাম এড়াতে মৃতদের মাথার খুলি নিয়ে করা হয় মিছিল৷

এক কৃষককে নরেন্দ্র মোদী সাজিয়ে তার পায়ে মেখে দেয়া হয় নিজের শরীরের রক্ত৷ তবুও যদি প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়ে!

এক পর্যায়ে মাথার অর্থেক চুল চেঁছে ফেলেন প্রকাশ্যে৷ যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মুখে দু'বেলা অন্ন তুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা নেই, আধা-নেড়ে হলে যে খারাপ দেখায় তা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার কি তাঁদের!

যন্তরমন্তরের সামনে নানাভাবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেও কোনো কাজ না হওয়ায় এক সময় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে যান হতদরিদ্র কৃষকরা৷ উদ্দেশ্যে – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের কথা সরাসরি তাঁকে জানানো৷ কিন্তু চাইলেই তো প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাওয়া যায় না৷ আসে পুলিশি বাঁধা৷ এর প্রতিবাদে রাস্তায় নগ্ন হয়ে গড়াগড়ি যান কৃষকরা৷

ভারতের রাজধানীতে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দাবি আদায়ের জন্য ‘বেআব্রু' হয় অসহায় কৃষক, তবুও আসে না আশ্বাস৷ আসে না মোদীর দর্শণ লাভের সুযোগ৷ কৃষকরা অবশেষে ‘আব্রু' ঢাকেন৷ পোষাক নির্বাচনেও থাকে প্রতিবাদ৷ পুরুষ কৃষকরা লজ্জা নিবারণ করেন নারীর শাড়িতে!

তাতেও কিছু হয় না৷ কিন্তু এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলে এক সময় কী অবস্থা দাঁড়াতে পারে তা কল্পনা করে রাস্তায় ভাত ছিটিয়ে তাতে ডাল ঢেলে কৃষকরা সেই ভাত খেলেন৷ এভাবে বোঝাতে চাইলেন অভাবে ঘটি-বাটি সব গেলে প্রকৃতিই হবে শেষ আশ্রয়৷

যখন ক্ষেতে ফসল আর থাকবেই না, তখন কী করবেন? ভাত, ডালই বা পাবেন কোথায়?  তখন হয়ত ইঁদুর বা সাপও খেতে হবে৷ সত্যি সত্যিই ইঁদুর এবং সাপ মুখে তুলে নিলেন কৃষকরা৷

শুধু প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেই থেমে থাকেননি কৃষকরা৷ ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, পানিসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী, স্বরাষ্ট মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কৃষি মন্ত্রী রাধা নাথ সিং-এর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছেন৷ আশা করেছেন, মন্ত্রীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কানে যাবে গরিব কৃষকদের দুঃখ-কষ্টের কথা৷

বৃথা আশা৷ কোথাও নরেন্দ্র মোদীর কোনো বক্তব্যে বোঝার উপায় নেই যে, ১৭০ কোটি মানুষের দেশের একটি রাজ্যের কৃষকরা চাষবাস ছেড়ে রাজধানীতে এসে দাবি আদায়ের চেষ্টা করছেন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে৷

অবশেষে কৃষকরা একজনকে মোদীর চেহারার মতো করে বানানো মুখোশ পরিয়ে, তাঁকে মোদীর মতো পোশাক পরিয়ে বললেন, ‘এই নাও চাবুক, চাবুক দিয়ে মারো আমাদের৷''

এসিবি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়